সর্বশেষ আপডেট : ৬ ঘন্টা আগে
রবিবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

সিলেটে ৩ উপজেলায় সাড়ে ৫ শ ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত

28স্টাফ রিপোর্টার ::
সিলেটে কালবৈশাখির তান্ডবে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। গতকাল শনিবার ভোর ও সকাল শুরু হওয়া দু’দফা ঝড়ে নগরীসহ সিলেটের বিভিন্ন স্থানে অসংখ্য গাছপালা উপড়ে ও ভেঙে পড়েছে। উড়ে গেছে ঘরের চাল, বিধ্বস্ত হয়েছে কাচা ঘরবাড়ি, গাছপালা পড়ে ছিঁড়ে গেছে বিদ্যুতের লাইন, হেলে পড়েছে খুঁটিও।

ঝড়ো হাওয়ায় উপড়েপড়া ও ভেঙে যাওয়া গাছপালা বসতঘরে পড়ায় ক্ষতিগ্রস্ত ও বিধ্বস্ত হয়ে অন্তত ১০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ভারী বর্ষণের সাথে দু’দফা চলা শিলাবৃষ্টিতে ব্যাপক ক্ষতি হয় বোরো ধান ও বিভিন্ন ধরনের সবজির।

গতকাল শনিবার ভোর সাড়ে ৫টায় প্রথম দফায় আঘাত হানে কালবৈশাখি ঝড়। প্রায় ঘন্টাব্যাপী এ ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে অনেক ক্ষতি হয়। প্রচন্ড ঝড়ে সিলেট নগরীতে জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। তবে সকাল পৌনে ৮টার দিকে আবার ভারী বর্ষণ শুরু হয়। এক পর্যায়ে বৃষ্টি সাথে শুরু হয় ভয়াবহ ঝড়ো হাওয়া, চরে শিলাবৃষ্টিও। প্রায় আধাঘন্টারও বেশি সময় ঘরে চলা কালবৈশাখির এ তান্ডবে নগরীর বিভিন্ন স্থানে অসংখ্য গাছপালা উপড়ে ও ভেঙে পড়ে। উড়ে গেছে ঘরের চাল, বিধ্বস্ত হয়েছে কাচা ঘরবাড়ি, গাছপালা পড়ে ছিঁড়ে গেছে বিদ্যুতের লাইন, হেলে পড়েছে খুঁটিও। ঝড়ে নগরীর নয়াসড়কস্থ কিশোরীমোহন উচ্চবিদ্যালয়ের দক্ষিণ পাশের বিশাল একটি গাছ উপড়ে পরে ওই এলাকার বাসিন্দা শামীম মিয়ার ঘরের উপর। এতে ঘরের চাল ভেঙে যায়। আহত হন শামীম মিয়া। একই এলাকার খ্রিষ্টান মিশনে গাছ উপড়ে সুরেশ দাস ও বেলি হাওলাদারের ঘরের উপর পড়ে। এতে তাদের ঘরের অনেক ক্ষতি হয়। গাছ পরে খ্রিষ্টান মিশনে জল বিশ্বাস নান্টু (৫০) নামে এক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। শাহী ঈদগাহ এলাকায় ৩৩ হাজার বোল্ডের বিদ্যুৎ লাইনের উপর উপড়ে পড়েছে একটি গাছ। এর ফলে বিদ্যুৎ লাইনের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। নগরীর মিরাবাজার এলাকায়ও একটি বিলবোর্ড উপড়ে পড়ে কালাবৈশাখির তান্ডবে। ঝড়ো হাওয়ায় উত্তর কাজীটুলার অন্তরঙ্গ-৪২ নম্বর বাসার টিনের চাল উড়ে যায়। এসময় ঘরে থাকা লোকজনের মধ্যে আব্দুল হান্নান ও তার ছেলে আপন আহত হয়েছেন।

নগরীর খাসদবির ইলাশকান্দিতে ঝড়ে বিশাল একটি গাছ বিদ্যুতের লাইনের উপর পড়লে তা ঝুলে পড়ে। এছাড়াও ঝড়ের তান্ডবে নগরী প্রায় প্রতিটি এলাকায় অনেক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ে সিলেট অঞ্চলের বিভিন্ন গ্রাম ও হাটবাজারের অসংখ্য গাছপালা উপড়ে ও ভেঙে পড়ার পাশাপাশি ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শিলাবৃষ্টিতে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে জমিতে থাকা পাকা ধানের। কালবৈশাখি ঝড়ের তান্ডবে নগরীর বিদুৎব্যবস্থা লন্ডভন্ড হয়ে যাওয়ায় ভোর থেকে বেলা ৫টা পর্যন্ত প্রায় পুরো সিলেট বিদ্যুৎহীন ছিল।
সিলেট আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ সাঈদ আহমদ জানান, মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে সিলেটে কালবৈশাখি ঝড়ের সাথে ব্যাপক বৃষ্টিপাত ও বজ্রপাত হয়েছে। এই অবস্থা আরো কয়েকদিন চলতে পারে।

গোলাপগঞ্জও জকিগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, গোলাপগঞ্জ ও জকিগঞ্জের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া শক্তিশালী কালবৈশাখী ঝড় ও শিলা বৃষ্টিতে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে সমগ্র উপজেলা।

ঝড়ে উপজেলার অর্ধশত ঘরবাড়ি, স্কুল-কলেজ, মসজিদ,মাদ্রাসার চালা উড়িয়ে নিয়ে গেছে। বিধস্ত হয়েছে প্রায় ৫০টি কাঁচাঘর। ভেঙ্গে পড়েছে সহস্র্রাধিক ফলদ ও বনজ গাছ। বিভিন্ন স্থানে বৈদ্যুতিক খুঁটি (পুল) ভেঙ্গে ও হেলে গেছে। অনেক স্থানে বৈদ্যুতিক তার ছিঁড়ে গেছে।

উপজেলার উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া বৈশাখী ঝড়ে ক্ষতিগস্ত হয়েছেন হাজারো মানুষজন। আহত হয়েছেন কমপক্ষে ৫০জন। উপজেলাবাসী রয়েছেন বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায়। সংবাদ পেয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ আশরাফুল আলম খান ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন।

সরেজমিনে উপজেলার ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা ঘুরে জানা যায়, গত শুক্রবার গভীর রাত ও গতকাল শনিবার সকালে সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার উপর দিয়ে ভয়ে যাওয়া শক্তিশালী কালবৈশাখী ঝড়ে প্রায় সহস্রাধীক কাচা ও আধাকাচা ঘরের চালা উড়িয়ে নিয়ে গেছে এবং প্রায় অর্ধশতাধীক কাচা ঘর বিধস্ত হয়েছে। আহত হয়েছেন কমপক্ষে ৫০জন। তাৎক্ষনিক ভাবে ২৫ জন আহতদের পরিচয় জানা গেছে। আহতদের গোলাপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপে¬ক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। আহতদের মধ্যে ভাদেশ্বর গ্রামের জাবেদ আহমদকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। বৈশাখী ঝড়ে ও শিলা বৃষ্টিতে আহতরা হলেন, গোলাপঞ্জ পৌরসভার সরস্বতি নিজগঞ্জ গ্রামের রিয়াজ আহমদ, কামারগাঁও গ্রামের সিকান্দার মিয়া, পাবেল, রতœা, বকুল, মারজানা, ফয়জুল হক, শাকিল আহমদ, রাব্বি, সেলিনা, মাখন দাস, খালেদ আহমদ, নিভা রানী চন্দ্র, নিপা রাণী চন্দ্র। ভাদেশ্বর দক্ষিন ভাগ এলাকার নাজির উদ্দিন, জাবেদ আহমদ, ভাদেশ্বর পশ্চিম ভাগ এলাকার সুহেদা বেগম, বারকোট গ্রামের ইব্রাহিম আহমদ, সুফিয়া বেগম, সুনামপুর গ্রামের রোকিয়া বেগম, মাইজভাগ গ্রামের সোহানা বেগম, বাঘা এলাকার জাসমিন বেগম, ঘুগারকুল গ্রামের জসিম উদ্দিন, আফিয়া বেগম, আত্মীয়ের বাড়ীতে বেড়াতে আসা সিলেট এয়ারপোর্ট এলাকার রতন।

উপজেলার উপর দিয়ে ভয়ে যাওয়া কালবৈশাখী ঝড়ে সমগ্র উপজেলার ১১ টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মসজিদ, মাদরাসা ও বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের টিনের চালা উড়িয়ে নিয়ে যায়। বৈশাখী ঝড়ে সিলেট পল¬ীবিদ্যুৎ সমিতি-১ এর গোলাপগঞ্জ জোনাল অফিসের আওয়তায় সমগ্র উপজেলার প্রায় ২০টি খুঁটি (পুল) ভেঙ্গে গেছে এবং প্রায় অর্ধশত খুঁটি (পুল) হেলে গিয়ে অত্যন্ত ঝুঁকিতে রয়েছে। উপজেলা পরিষদ ও উপজেলা আবাসিক এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে ১১কেভি ভোল্টের লাইন সহ বিভিন্ন এলাকায় তার ছিঁড়ে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত টানা ১৬ ঘন্টা সমগ্র উপজেলাবাসী বিদ্যুৎ বিহীন অবস্থায় রয়েছেন। তাবে উপজেলাবাসী কবে বিদ্যুতের আলো দেখবেন তাহা জানেন না। তবে বিদ্যুৎ বিভাগের লোকজন দিনভর পরিশ্রম করছেন উপজেলায় দ্রুততায় বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য। সমগ্র উপজেলায় দু’সহস্রাধীক ফলজ ও বনজ গাছ ভেঙ্গে ও উপড়ে পড়েছে। বৈশাখী ঝড়ে উপজেলা পরিষদের সম্মুখে বড় বট গাছ উপড়ে সিলেট-ঢাকাদক্ষিন-ভাদেশ্বর সড়কের উপর পড়ে গিয়ে প্রায় ১ঘন্টা যানবাহন চলাচল বন্ধ ছিল। এ সময় আগত যাত্রীরা অবর্ণনীয় দুর্ভোগের কবলে পড়েন। সংবাদ পেয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহামম্মদ আশরাফুল আলম খান ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারদের সাহায্যের জন্য উর্ধ্বতন কর্মকর্তার নিকট আবেদন করছেন বলে জানা যায়।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ আশরাফুল আলম খানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি এর সত্যতা স্বীকার করে প্রতিবেদককে জানান, সংবাদ পেয়েই তিনি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় সাহায্যের জন্য উর্ধ্বতন কর্মকর্তার বরাবর বরাদ্ধের জন্য আবেদনও করেছেন।

এদিকে, জকিগঞ্জ উপজেলায় কালবৈশাখী ঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১২টার পর থেকে ভোররাত পর্যন্ত আকষ্মিক কয়েকদফা কালবৈশাখী ঝড়ে লন্ডভন্ড হয়ে পড়ে জনজীবন।

গতকাল শনিবার সকালে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ঝড়ের কবলে পড়ে বিভিন্ন কাঁচা ঘর, আধা পাকা বাড়ির চাল, দোকানপাট ও সাইন বোর্ড ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সিলেট-জকিগঞ্জ সড়ক ও আটগ্রাম-জকিগঞ্জ সড়কসহ এলজিইডির ছোট ছোট সড়কগুলোতে গাছ-বাশ উপড়ে পড়ে আছে। ঝড়ের কবলে পড়ে উপজেলার বারঠাকুরী ইউনিয়নের বারগাত্তা গ্রামের হতদারিদ্র নুরজাহান বিবির ঘরের উপর বিশাল আকৃতির একটি গাছ উপড়ে পড়লে ঘরের একটি অংশ ভেঙ্গে পড়ে। এতে ঘরে থাকা বয়োবৃদ্ধ নুরজান বিবি (৭০) ও তার নতনী রাহেল গুরুতর আহত হয়। এ সময় আহতদের চিৎকারে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে টেনেহেচড়ে ঘরের ভিতর থেকে তাদের উদ্ধার করেন।

এছাড়া ঝড়ের কবলে পড়ে গাছ-বাশসহ বিভিন্ন স্থাপনা বিদ্যুৎ লাইনের উপর পড়ে যাওয়ায় উপজেলার সিংহভাগ এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ রয়েছে। উপজেলার কামালপুর গ্রামের রহমত নগর মহল¬া থেকে মৌলানা আব্দুল খালিক জানান, তাঁর ঘরের পাশে থাকা বিদ্যুতের খুটির উপর বড় একটি গাছ উপড়ে পড়লে খুটি ভেঙ্গে যায়। বিষয়টি সত্যতা স্বীকার করে জকিগঞ্জ পল¬ী বিদ্যূৎ জোনাল অফিসের ডিজিএম মোঃ ইসহাক আলী বলেন, কালবৈশাখী ঝড়ে বিদ্যুৎ লাইনের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। প্রাথমিকভাবে আমরা মেইন লাইনে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়ার চেষ্টা করছি। ক্রমান্বয়ে পুরো উপজেলায় বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া হবে।
জগন্নাথপুর প্রতিনিধি জানান, জগন্নাথপুরে গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় প্রচন্ড বেগে বয়ে যাওয়া ঘূর্ণিঝড়ে পৌর শহরসহ বিভিন্ন এলাকার প্রায় ৫শতাধিক কাচা ঘর বাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে।

প্রায় আধ ঘন্টাব্যাপী স্থায়ী ঘুর্নিঝড়ে লন্ড ভন্ড হয়ে যায় ঘর বাড়ি, শিক্ষা প্রতিষ্টান গাছ পালা ও ফসল। ক্ষতিগ্রস্থ এলাকার অধিকাংশ পরিবার খোলা আকাশের নীচে রয়েছে। ঘুর্নিঝড়ের বিদ্যুত সঞ্চালন লাইন ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

এদিকে শিলা বৃষ্টিতে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বলে জানাগেছে। অব্যাহত বৃষ্টিপাতের ফলে হাওরের ফসল রক্ষা বাধগুলো হুমকির মূখে রয়েছে। ইউএনও মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির জানান, ঘুর্নিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারদের খোজ খবর নেয়া হচ্ছে।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: