সর্বশেষ আপডেট : ৩ মিনিট ২৫ সেকেন্ড আগে
রবিবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

দুটি ফল্টে ভূমিকম্প হলে বড় ঝুঁকিতে পড়বে বাংলাদেশ

6আন্তর্জাতিক ডেস্ক :: বুধবার মিয়ানমারের ভূমিকম্পে বাংলাদেশের তেমন কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। এর কারণ, এই প্লেটের সঙ্গে বাংলাদেশের প্লেট আলাদা। কিন্তু দেশের বাইরে অন্য দুটি ফল্টে ভূমিকম্প হলে বাংলাদেশ বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বে। এর একটি হচ্ছে- সিন্ধুকুশ থেকে আসাম-মেঘালয় পর্যন্ত যে ‘মেইন বাউন্ডারি থ্রাস্ট’ (এমবিটি) গেছে। এ ফল্টে গত ৫শ’ বছরে বড় কোনো ভূমিকম্প হয়নি। অপরটি হচ্ছে- মিয়ানমারের আরাকান ফল্ট। এখানে সর্বশেষ ভূমিকম্প হয় ১৭৬২ সালে। বুধবার মিয়ানমারে ৬ দশমিক ৯ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে। এতে গোটা বাংলাদেশও কেঁপে ওঠে। চট্টগ্রামে হেলে পড়ে অন্তত ১০টি ভবন, আহত হয় অর্ধশতাধিক মানুষ। এরপর বিষয়টি নিয়ে ফের আলোচনা শুরু হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ‘হিমালয় তৈরি হওয়ার সময় থেকেই ভারতীয় প্লেট এবং ইউরেশীয় প্লেটের মধ্যে প্রতিযোগিতা চলছে- কে কার নিচে পিছলে যাবে।’ এর ফলেই ওই দুটি প্লেট বরাবর তৈরি হয়েছে কয়েকটি চ্যুতি বা ফাটল। কয়েকটি চ্যুতি বেশ বড় মাপের। সেগুলো ‘থ্রাস্ট’ বা খোঁচা। ভূমিকম্পগুলো তৈরি হয় এই চ্যুতি ও খোঁচায় অতিরিক্ত শক্তি সঞ্চয়ের জন্য।

দুটি প্লেটের মধ্যে নিরন্তর ঘর্ষণের জন্য এই চ্যুতি এবং খোঁচাগুলিতে সব সময়ে শক্তি সঞ্চিত হচ্ছে। স্বভাবতই চ্যুতির থেকে খোঁচায় সঞ্চিত শক্তির পরিমাণ বেশি। কোনো চ্যুতি বা খোঁচায় সঞ্চিত শক্তির পরিমাণ যখন সম্পৃক্ত হয়ে যায় তখন আরো শক্তি সঞ্চয়ের জন্য ওই চ্যুতি বা খোঁচায় ঝাঁকুনি হয় (চিনি দিয়ে ভর্তি একটি বোতলে অতিরিক্ত চিনি ভরার সময় যেমন ঝাঁকুনির প্রয়োজন হয়, তেমনই)।

তখনই একটি প্লেট অন্য একটি প্লেটের নিচে পিছলে যায়। যে খাঁজে সঞ্চিত শক্তির পরিমাণ যত বেশি, ঝাঁকুনির ফলে সেখানে তত বেশি মাত্রার ভূমিকম্প তৈরি হয়। এ রকমই একটি খোঁচায় ঝাঁকুনির ফলই হল গতবছর নেপালে ৭.৯ মাত্রার ভূমিকম্প। ঠিক কোথায় তৈরি হয়েছে এ দিনের ভূমিকম্পটি?

ভূ-বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, হিমালয়ে এই ধরনের তিনটি খোঁচা রয়েছে। প্রধান কেন্দ্রীয় (মেইন সেন্ট্রাল), প্রধান প্রান্তীয় (মেইন বাউন্ডারি) এবং হিমালয়ের পৃষ্ঠদেশীয় (ফ্রন্টাল)।

বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, ভূমিকম্প প্রতিরোধ বা এ সম্পর্কে আগাম তথ্য-উপাত্ত পাওয়া সম্ভব নয়। তবে ভূমিকম্পের কারণে সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি কমানো সম্ভব। এছাড়া ভূমিকম্প-পরবর্তী উদ্ধার কাজের জন্য প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা, তথ্য-উপাত্ত ও নীতিমালা থাকা প্রয়োজন।

সাধারণত বড় একটি ভূমিকম্পের পরবর্তী দেড়শ’ থেকে আড়াইশ’ বছরের মধ্যে বড় আরেকটি ভূমিকম্প হয়। সেই বিবেচনায় এই তিনটি ফল্ট যে কোনো সময়ে সক্রিয় হয়ে উঠবে। তাই বিষয়টি মাথায় রেখে চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিয়ে রাখা জরুরি। বাংলাদেশে ভূমিকম্প প্রস্তুতি ও তথ্য-উপাত্ত নিয়ে জাতিসংঘের উন্নয়ন প্রকল্প (ইউএনডিপি) অনেকদিন ধরে সরকার ও বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে কাজ করে আসছে।

এ বিষয়ে বুয়েটের অধ্যাপক ড. মেহেদী আহমদ আনসারী বলেন, ইউএনডিপি বর্তমানে রাজউকের সঙ্গে ইমারত নির্মাণ বিধিমালা বাস্তবায়নে কাজ করছে। বিল্ডিং কোড মেনে যদি রাজউক ভবন তৈরি নিশ্চিত করতে পারে, তাহলে সেটা ভূমিকম্প মোকাবেলায় একটি কাজ হবে।

বড় ধরনের ভূমিকম্প আঘাত হানলে এর পরবর্তী উদ্ধার তৎপরতা ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার জন্য বাংলাদেশের তেমন প্রস্তুতি নেই। গত বছরের এপ্রিলে নেপালে বা বুধবার মিয়ানমারে আঘাত হানা ভূমিকম্পের সমান মাত্রার ভূমিকম্প বাংলাদেশের ভেতরে বা কাছাকাছি আঘাত হানলে ঢাকা বা বড় শহরগুলো যেমন মৃত্যুপুরীতে পরিণত হবে, তেমনি উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনাও কঠিন হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মাকসুদ কামাল ভূমিকম্প ও ঢাকা শহরের উদ্ধার তৎপরতা বিষয়ে গবেষণা করে থাকেন। তিনি বলেন, এ ধরনের ভূমিকম্পে ঘনবসতিপূর্ণ বাংলাদেশে ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা হবে অনেক বেশি। বিশেষ করে ঢাকা শহর মৃত্যুপুরীতে পরিণত হবে। রিখটার স্কেলে সাত বা তার বেশি তীব্রতার ভূমিকম্প হলে ঢাকা শহরের ৭২ হাজার ভবন ভেঙে পড়বে। টেলিসংযোগ, পানি সরবরাহ, গ্যাস ও বিদ্যুৎ লাইনে বিপর্যয়সহ অগ্নিকাণ্ডের আশংকা আছে। এমন পরিস্থিতিতে অনুসন্ধান ও উদ্ধার কাজ সমন্বয় দুরূহ হয়ে পড়ে। এজন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেয়া জরুরি।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: