সর্বশেষ আপডেট : ৪৩ সেকেন্ড আগে
শনিবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

বন্যার পূর্বাভাস : দিরাইয়ে দ্রুত ধান কাটার পরামর্শ প্রশাসনের

Ab_Faryachakraদিরাই সংবাদদাতা ::
দিরইয়ে কালনী নদীর তীর উপচে চাপতি, বরাম ও টাংনির হাওরে পানি ঢুকছে। তলিয়ে যাচ্ছে ফসলী মাঠের পাকা-আধপাকা বোরো ধান। আগাম বন্যার পূর্বাবাসের খবর উদ্বিগ্ন করে তুলছে কৃষকদের। দিগি¦দিক হয়ে ছুটাছুটি করছেন তারা। বাঁধ রক্ষার কাজও ব্যাহত হচ্ছে বৈরী আবহাওয়ার কারনে। প্রতি ঘন্টায় পানি বাড়ার খোঁজ-খবর নিচ্ছেন কেউ কেউ। বাইরে থেকে ধান কাটার শ্রমিক না আসায় স্থানীয়রা মজুরী হাকাচ্ছেন, খেয়াল খুশীমতো। শনিবার দিরাই উপজেলার চাপতি ও বরাম হাওর ঘুরে কৃষকদের সাথে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

চাপতি ও বরাম হাওরে বাঁধ রক্ষার কাজে সংশ্লিষ্ট শ্রমিকদের জন্যে শুকনো খাবার নিয়ে আসা পৌর কাউন্সিলর এবিএম মাসুম বলেন, শুক্রবার থেকে পাউবো’র কর্মকর্তারা হাওর রক্ষার কাজে পিআইসিকে নিয়ে নজরদারী বাড়ালেও চাহিদানুযায়ী বাঁশ, চাটাই, বস্তাসহ বাঁধরক্ষার সরঞ্জাম বার বার তাগিদ দিয়েও পাওয়া যাচ্ছে না। এ দিকে উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা আগাম বন্যার পূর্ববাসের বিষয়টিকে প্রধান্য দিয়ে দ্রুত ধান কাটার পরামর্শ দিচ্ছেন কৃষকদের। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আলতাফ হোসেন, পাউবো’র এসও এবং এসডিকে নিয়ে সার্বক্ষনিক প্রতিটি ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধে অবস্থান করে শ্রমিকদের দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন।

তাড়ল গ্রামের কৃষক সফু মিয়া বলেন, বলছেন, চাপতির হাওরে ১৫ কেদার জমিতে উচ্চ ফলনশীল জাতের ধান চাষ করেছিলেন। এবার ফলনও হয়েছিল ভালো। অর্ধেক জমির ধান অতিবৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে। চড়া মজুরীতেও ধান কাটার শ্রমিক মিলছে না।

জগদল ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি ছুবা মিয়া অভিযোগ করেন, কচুয়া গ্রাম থেকে চাতল স্লুইস গেট হয়ে বৈশাখী বাঁধ পর্যন্ত প্রায়রআড়াই হাজার মিটার নদীর তীরে পূনরাকৃতির কোনো কাজ হয় নি। এতে নদীর তীর উপচে পানি ঢুকে হাওরের নিচু জমির উঠতি ফসল তলিয়ে যাচ্ছে।

পাউবো’র এসও শহিদুল্যা বলেন, অর্থাভাবে কচুয়া গ্রাম থেকে বৈশাখী বাঁধ পর্যন্ত আমাদের কোনো কাজ ধরা ছিল না। হাওরের ফসল অকাল বন্যার ঝুঁকির মূখে পড়ায় এখন মাটি ফেলে নদীর তীর উচু করা হচ্ছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাজেদুল ইসলাম বলেন, চাতল স্লুইস গেট দিয়ে পানি ঢুকে চাপতির হাওরের চাতল বিলের অন্তত ২০০ হেক্টর জমির ধান তলিয়ে গেছে। এ ছাড়া গাতার বন, খাকছিড়া, খালিভুই, আসমানিগুল, খাইজ্জার গুল, বড়জাই, ফাতাল জট, আতারাই, বারবন্দ, বরাম হাওরের রসরাজের ঢালা, চন্ডিতলা, তেরা জানি, বুড়ি দিরাই, লড়ি পাঙ্গাইস্যা, উদগল হাওরের গাতুয়া, ছিকইন দাইড়, কালিগুটা হাওরের বান বিল, ফুকরাইন, বোকারভাঙ্গা, ভাটিপাড়া-আদমপুরের হাওর, মধুরাপুর-বদলপুরের হাওরসহ আরও অন্তত ২ হাজার হেক্টর ধানী জমি পানিতে ডুবো ডুবো অবস্থায় রয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলতাফ হোসেন জানিয়েছেন, ‘পাহাড়ি ঢলের পানিতে নদী কানায় কানায় ভরে ওঠায় প্রতিটি হাওরের উঠতি ফসলের শতভাগ অকাল বন্যার ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। আমরা পূর্বাবাস পেয়েছি ১৯/২০ এপ্রিল বন্যা হতে পারে। এ জন্যে দ্রুত ধান কাটার জন্য উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তারা কৃষকদের নানাভাবে উদ্বোদ্ধ করছেন। মসজিদের মাইকেও এলান দেওয়া হচ্ছে।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: