সর্বশেষ আপডেট : ১ ঘন্টা আগে
শুক্রবার, ২ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

ছাতকের হাদাটিলা অবাধে চলছে বৃক্ষনিধন

Sreepur_120151029184315ছাতক প্রতিনিধি ::
ছাতকের ইসলামপুর ইউনিয়নের হাদাটিলা সামাজিক বনায়নের ছোট-বড় গাছ অবাদে কেটে নেয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যে বনায়নের সহশ্রাধিক গাছ কেটে বিক্রি করা হয়েছে। একাধিকবার গাছসহ চোর আটক করা হলেও বন বিভাগের সংশি¬ষ্টরা কোন ব্যবস্থা গ্রহন করেননি বলে বনায়ন উপকারভোগীদের অভিযোগ। ফলে হাদার টিলা সামাজিত বনায়নে নির্বিচারে গাছ কাটার উৎসব চলছে। গাছ কাটার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় ইতিমধ্যে একাধিক ব্যক্তির নামে কয়েকটি ভুয়া অভিযোগে মামলা করেছে বন বিভাগ।

সরজমিন খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০০৫সালে সামাজিক বনায়নের লক্ষ্যে বন বিভাগের হাদার টিলা নামক স্থানে প্রায় ৪০একর ভুমিতে চুক্তিভিত্তিক ১০ বৎসর মেয়াদের বৃক্ষ রোপন করেন স্থানীয় ২২জন উপকারভোগী। এ লক্ষ্যে ৩৩ সহশ্রাধিক আকাশমনি জাতীয় বৃক্ষ রোপন ও লালন-পালন করেন উপকারভোগীরা। ২০০৯ সালে বনায়নের সাড়ে ৪ হাজার গাছ বিক্রির উপযুক্ত বলে বন বিভাগের মাধ্যমে মার্কিং করা হয়। কিন্তু অজ্ঞাত কারনে ৬বছরেও মার্কিংকৃত গাছ বিক্রি করেনি বন বিভাগ কর্তৃপক্ষ। বিক্রি করার নিমিত্তে মার্কিং করা এসব গাছের মধ্যে গত ৬বছরে সহশ্রাধিক গাছ চুরি করে বিক্রি করা হয়েছে বলে উপকারভোগীরা দাবী করছেন।

বিভিন্ন সময়ে গাছ কাটা ও চুরি করা অবস্থায় চোরদের আটক করে স্থানীয় বন বিভাগে জানানো হলেও কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন অজুহাতে বিষয়টিকে এরিয়ে গেছেন বলে উপকারভোগীরা অভিযোগ তুলেন। গাছ কাটার বিরোধিতা করায় অনেকেই বন বিভাগের মামলায় আসামী হতে হয়েছে।

একাধিক স্থানীয় লোকজন জানান, ২০০৫ সালের দিকে একই ইউনিয়নের গোয়াপাকুরা হাওড়ের বিভিন্ন মৌজায় মূতরা প্রকল্প নামে বন বিভাগের কয়েক’শ হেক্টর ভুমি লিজ দেয়া হয়। সরকারের কোটি টাকার মুতরা প্রকল্পটি ছিল মূলত অলিক বা অদৃশ্য। কোথাও, কখনো মুতরা চাষ হয়েছে বলে স্থানীয় লোকজনের জানা নেই। সরকারের মুতরা প্রকল্পটি কোন দিন আলোর মূখ দেখেনি।

পরবর্তীতে মুতরা প্রকল্পের এসব ভুমি বন বিভাগের কিছু অসাধূ কর্মকর্তা স্বল্প মেয়াদে খন্ড খন্ড করে লিজ প্রদানের মাধ্যমে বিপুল অঙ্কেঁর টাকা আত্মসাত করেছে। মুতরা প্রকল্পের এসব ভুমি বন বিভাগের খাতায় পত্রে মুতরা বাগান নামে চালিয়ে দেয়া হচ্ছে। আসলে গোয়াপাকুড়া হাওড়ে মুতরা বাগানের প্রকল্পটি সম্পুর্ন অদৃশ্য। মুতরা বাগানকে কেন্দ্র করে বন বিভাগের এসব অসাধূ কর্মকর্তারা গাছ চুরির বিষয়টি ধামাচাপা দিতে প্রতিবাদিদের বিরুদ্ধে মূতরা বাগান ধ্বংশের অভিযোগে একের পর এক মামলা দিয়ে যাচ্ছেন।

হাদার টিলা সামাজিক বনায়ন প্রকল্পের এক উপকার ভোগী মতছির আলী বনায়নের গাছ কাটার প্রতিবাদ করায় তিনিও মুতরা ধ্বংশের মামলায় আসামী হয়েছেন। মতছির আলীসহ এলাকার আকবর আলী, মোতাহের আলী, ফরিদ উদ্দিন, আক্রম আলী, হাজী ওয়ারিছ মিয়া জানান, বন বিভাগের কর্মকর্তাদের নির্দেশেই বনায়নের গাছ প্রতিনিয়ত কেটে বিক্রি করা হচ্ছে। যারা গাছ কাটার বিরোধিতা করছে তাদের বিরুদ্ধে মুতরা ধ্বংশের মিথ্যা অভিযোগে মামলা দিয়ে হয়রানী করছে। মূলত সরকারের বৃক্ষরোপন অভিযানের অংশ হিসেবে সামাজিক বনায়ন ধ্বংশের এখানের বন বিভাগের কতিপয় কর্মকর্তা ও কর্মচারী জড়িত। সুনামগঞ্জ জেলা রেঞ্জ অফিসার আহমদ উল্লা সরজমিন তদন্তে এসে মুতরা ধ্বংসের কোন সত্যতা খোজে পাননি।

হাদার টিলা বনায়নের গার্ড (পিএম) রেজাউল করিম জানান, বনায়নের ৫টি চুরি হওয়া গাছ আটক করা হলেও কর্তৃপক্ষ কোন ব্যবস্থা গ্রহন করেননি। তার এখানে ৬বছর ধরে দায়িত্ব পালন সময়ে কোথাও কোন মুতরা বাগান দেখেননি বলে জানান। বদলীকৃত রেঞ্জ অফিসার আহমদ উল¬া জানান, মুতরা ধ্বংশের বিষয়ে মামলা দায়ের করা সম্পুর্ন অযৌতিক। যে কর্মকর্তারা এসব কর্মকান্ডে জড়িত তাদেরকে শাস্তির আওতায় আনা উচিত।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: