সর্বশেষ আপডেট : ২ মিনিট ৮ সেকেন্ড আগে
মঙ্গলবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

পৃথিবীর মতোই যে গ্রহগুলো বসবাসযোগ্য হতে পারে

8নিউজ ডেস্ক: আমাদের সাধারণ জ্ঞানে এবং বিশ্বাসে আমরা মনে করি যে পৃথিবীই একমাত্র গ্রহ যা মানুষের বসবাসযোগ্য। বিগত একশত বছরে মানব জাতি বিজ্ঞান এবং প্রযুক্তিতে অনেক দূর এগিয়ে গেছে। তবে এটাও সত্যি যে অনেক বিষয়ই এখনও মানুষের অনাবিষ্কৃত আছে। তাই এই প্রশ্ন ঘুরেফিরে আসে যে আমাদের নিজেদের গ্রহ পৃথিবীই কি শুধুমাত্র বাসযোগ্য? নাকি আরও গ্রহ আছে যেখানে প্রাণের অস্তিত্ব থাকতে পারে? আমাদের গ্রহের মত অন্যান্য গ্রহেও কি আছে এক্সোপ্লানেট সাপোর্ট সিস্টেম? মহাকাশচারীরা এখনও এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন।

আমাদের নিজেদের গ্রহ পৃথিবী সূর্যের খুব কাছেও নয় যে অনেক উত্তপ্ত হবে আবার এমন দূরত্বেও নয় যে খুব শীতল হবে। এজন্য এখানে প্রাণের বিকাশ ঘটেছে। নিজেদের তারা থেকে এমন দূরত্ব বজায় রাখা এই ধরনের গ্রহগুলোকে বলে গোল্ডিলক্স জোন। বিজ্ঞানীরা এই রকম আরো কিছু গ্রহের খোঁজ পেয়েছেন।

বেঁচে থাকার জন্য সবচেয়ে প্রয়োজনীয় উপাদান পানি। আর গোল্ডিলক্স গ্রহগুলোতে পানি পাওয়া যাওয়ার সম্ভাবনাই জীবের অস্তিত্ব পাওয়ার বা মানুষের বসবাস যোগ্যতার সম্ভাবনাকে প্রবল করে। এমন ৩টি গ্রহ সম্পর্কে আলোচনা করা যাক।

Gliese 667C c
পৃথিবী থেকে ২০১১ সালে আবিষ্কৃত এই গ্রহটির দূরত্ব ২৩ আলোকবর্ষ। আমেরিকান এবং ইউরোপিয়ান মহাকাশচারীরা এটি আবিষ্কার করেন। অনেক বেশী পাথুরে এই গ্রহটি আকারে পৃথিবীর ৪ গুণ বড়। প্রতি ২৩ দিন ১৪ ঘন্টায় একবার তার কক্ষপথে ঘুরে আসে। এর সূর্য থেকে এটি বেশ কাছে। তারপরও এটি মানুষের বসবাসযোগ্য হতে পারে। মজার ব্যাপার হল, এই গ্রহ একটি লাল বামন তারাকে ঘিরে ঘুরছে যা সূর্য থেকেও ছোট আকৃতির বলে ধারণা করা হয়। এর কারণে সৌরজগতে পৃথিবীর অবস্থান আর গ্লিয়েস ৬৬৭সি সি এর তার তারা থেকে দূরত্ব আসলে সমান। কিন্তু সমস্যা হল গ্রহটি টাইডালি লকড, যার কারণে এর এক অংশ সারা বছরই সূর্যের দিকে থাকে আর অন্য অংশটি থাকে বিপরীত দিকে। তারার দিকে মুখ করে থাকা অংশটি এতই উত্তপ্ত থাকে যে প্রাণীর বেঁচে থাকা অসম্ভব। আর অপর অংশ সমানতালে ভীষণ মাত্রায় শীতল। তবুও এই দুই বৈপরীত্যের মাঝামাঝি এলাকায় জীবের বসবাসের উপযুক্ত পরিবেশ আছে বলে মনে করা হয়। কারণ সেখানে তাপমাত্রা একেবারে নাতিশীতোষ্ণ যা প্রাণের টিকে থাকার সহায়ক।

Kepler-438 b
এটি লায়রা নক্ষত্রমন্ডলীর একটি গ্রহ। পৃথিবী থেকে এর অবস্থান ৪৭০ আলোকবর্ষ দূরে। আয়তনে পৃথিবীর চেয়ে ১.২ গুণ বড়। একটি কমলা বামন তারাকে ঘিরে ঘুরছে এটি। আমাদের পৃথিবীর তুলনায় ৪০ শতাংশ বেশী তাপ গ্রহণ করে গ্রহটি এবং ৭০ শতাংশ বেশী পাথুরে। বেশী তাপ এবং পাথুরে এলাকা নিয়েও মানুষের বসবাসের উপযুক্ত হতে পারে গ্রহটি! আর্কিবোতে অবস্থিত পোরতো রিকো বিশ্ববিদ্যালয়ের মতে, এর আকৃতি, তারা থেকে দূরত্ব, শক্তি গ্রহণের মাত্রা, ইত্যাদির কারণে এটার সাথে পৃথিবীর বেশ মিল আছে। পৃথিবীর সাথে এর ৮৩ শতাংশ মিল রয়েছে।

Kepler-296
এটিও পৃথিবীর কাছাকাছি আকৃতির একটি গ্রহ। এর ব্যাস ১.৭৫ গুণ বড় পৃথিবীর তুলনায়। এটি পৃথিবীর ২য় ঘনিষ্ট গ্রহ হিসেবে স্বীকৃত। প্রতি ৩৪.১ দিনে একবার কক্ষপথে ঘুরে আসে। আকৃতি, তাপমাত্রা, আবহাওয়া সব মিলিয়ে এটিও গোল্ডিলক্স জোনের আওতায় পড়ে।

কিছুদিন পরপরই এমন গ্রহের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে। কে জানে হয়ত অনেক আলোকবর্ষ দূরের কোন একটা গ্রহে একদিন মানুষ গিয়ে ঠিকই বসতি গড়ে তুলবে। আপাতত অপেক্ষার পালা।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: