সর্বশেষ আপডেট : ৭ মিনিট ২ সেকেন্ড আগে
রবিবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

গোয়াইনঘাটে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও এলজিইডি কর্মকর্তাদের দায়িত্ব অবহেলায় ১’শ হেক্টর জমির ফসল পানির নিচে

3145dae0-1e02-425c-a6d7-93d1f02618b7রফিক সরকার, গোয়াইনঘাট::
সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার পূর্ব জাফলং ইউনয়নের আসামপাড়া, আসামপাড়া হাওড়, নবম খন্ড, সানকী ভাঙ্গা ও নয়াগাঙ্গের পাড় হাওড় এলাকার বেড়িবাঁধ প্রকল্পের আওতায় ফসলি জমিতে পাহাড়ি ঢলের পানি প্রবেশ করে প্রায় ১’শ হেক্টর জমির ইরি, বুরো ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। আর এজন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফলতি আর এলজিইডি কর্মকর্তাদের সঠিক তদারকির অভাবকেই দায়ী করছেন ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকেরা।

জানা যায়, উপজেলার পূর্ব জাফলং ইউনয়নের আসামপাড়া, আসামপাড়া হাওড়, নবম খন্ড, সানকী ভাঙ্গা ও নয়াগাঙ্গের পাড় হাওড় এলাকার ফসল আগাম বন্যার হাত থেকে রক্ষার জন্য ২০১২ইং সালে জাপানিজ ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেটিভ এজেন্সি (জাইকা) প্রায় ১২ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ প্রকল্প স্থাপনের উদ্যোগ নেয়।
একই সাথে বেড়িবাঁধ প্রকল্পের আওতাধীন এলাকার জমিতে চাষাবাদের জন্য প্রয়োজনীয় পানির চাহিদা পূরণ ও অপসারণের সার্থে ৪টি স্লুইসগেট নির্মাণ করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। এর মধ্য থেকে স্থানীয় এলাকার কৃষকদের সমন্বয়ে গঠিত নলজুরি খাল পানি ব্যাবস্থাপনা সমবায় সমিতি লিমিটেড (রেজিনং-১/২০১২ইং) এর মাধ্যমে ৫ হাজার ৮’শ মিটার বেড়ি বাঁধের কাজ সম্পন্ন করা হয়।

অপরদিকে ৪টি স্লুইসগেট নির্মাণের কাজ পায় সিলেটের এমএমআরজেবি কন্সট্রাকশন নামক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। চুক্তি অনুযায়ী গেল বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে বেড়িবাঁধ প্রকল্পের সমুদয় কাজ সম্পন্ন করে স্থানীয় নলজুরি খাল পানি ব্যাবস্থাপনা সমবায় সমিতি লিমিটেডের কাছে হস্তান্তর করার কথা ছিলো।
কিন্তু চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত তিন দফায় কাজের মেয়াদ বৃদ্ধি করার পরও স্লুইস গেটের এপ্রোচের মাটি ভরাটের কাজ সম্পন্ন করতে পারেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। যার ফলে গত বৃহস্পতি ও শুক্রবারে সারী নদী দিয়ে আসা পাহাড়ী ঢলের পানি স্লুইস গেটের পাশ দিয়ে প্রবেশ করে এই এলাকার প্রায় ১’শ হেক্টর জমির ইরি, বুরো ধান তলিয়ে গেছে।

এ প্রসঙ্গে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী চিন্ময় বাবুর সাথে মোবাইল ফোনে আলাপকালে তিনি জানান সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে যথা সময়ে অর্থছাড় না পাওয়ার কারণে কাজ সম্পন্ন করতে পারিনি। সময় মতো বরাদ্ধ পেলে কাজ অনেক আগেই সম্পন্ন হতো।

নলজুরি খাল পানি ব্যাবস্থাপনা সমবায় সমিতি লিমিটেডের সভাপতি সাবেক ইউপি সদস্য আমজাদ হোসেন জানান বেড়িবাঁধ প্রকল্পের আওতায় আসামপাড়া, আসামপাড়া হাওড়, নবম খন্ড, সানকী ভাঙ্গা ও নয়াগাঙ্গের পাড় হাওড় এলাকার প্রায় শতাধিক হেক্টর জমিতে ইরি, বুরো ধান চাষাবাদ করা হয়েছে। ধান কাটার সময় ঘনিয়ে আসায় এলক্ষে প্রস্তুতিও নিয়ে রেখেছেন এই এলাকার কৃষকেরা। কিন্তু বিধিবাম গত দুই দিনে সাতকুড়ি খালে স্থাপিত স্লুইসগেটের পাশ দিয়ে পাহাড়ী ঢলের পানি প্রবেশ করে সব ধান তলিয়ে গেছে। তিনি বলেন সময় মতো স্লইস গেটের এপ্রোচের কাজ সম্পন্ন করা হলে কৃষকের এই সর্বনাশ হতো না।
আর এজন্য তিনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফলতি ও স্থানীয় সরকার বিভাগের কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে অবহেলাকেই দায়ী করেন তিনি।

গোয়াইনঘাটের স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপ-সহকারি প্রকৌশলী পলাশ আহমেদ জানান কাজের তদারকির বিষয়ে আমাদের কোন ত্রুটি নেই। মূলত বৃষ্টি বাদলের কারণে স্লুইস গেটের এপ্রোচের মাটি ভরাটের কাজ সম্পন্ন করতে পারিনি। তবে কাজটি চলমান রয়েছে। কাজ সম্পন্ন হলে প্রকল্পটি সমিতির নিকট হস্তান্তর করা হবে বলে জানান তিনি।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: