সর্বশেষ আপডেট : ৫ মিনিট ৩৮ সেকেন্ড আগে
শুক্রবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

বাংলা সনের অজানা কথা

full_426654978_1460648098ডেইলি সিলেট ডেস্ক::
প্রচলিত বাংলা সন কি আসলেই বাংলার? ইতিহাস বলে- এর উৎপত্তি মোগলদের হাতে। ভারতের অনেক স্থানের মানুষ একে নিজেদের ক্যালেন্ডার হিসেবে গ্রহণ না করলেও, চারশ বছর ধরে এটি গ্রহণ করে নিয়েছে দুই বাংলার মানুষ। তবে এতে নানা সময় হয়েছে বেশকিছু ঘসামাজা-

# মোঘল সম্রাট আকবর (১৫৫৬-১৬০৫) কর আদায়ের উদ্দেশ্যে নতুন বাংলা ক্যালেন্ডার প্রচলন করেন। এর আগে মুসলিম শাসনামলে কৃষি ও ভূমিকর আদায় করা হতো ইসলামিক হিজরী ক্যালেন্ডার অনুসারে। হিজরী পঞ্জিকা চন্দ্র নির্ভর হওয়ায় কৃষিবছর ও অর্থবছর আলাদা হয়ে যেত। তাই ফসল না উঠলেও কর দেয়ার সময় চলে আসতো। অসময়ে কর পরিশোধ করতো হতে ব’লে কৃষকদের কষ্টের সীমা ছিলনা। সহজে কর আদায়ের উদ্দেশ্যে সম্রাট আকবর ক্যালেন্ডার সংশোধনের নির্দেশ দেন।

# কর আদায়ের জন্য ক্যালেন্ডার তৈরি করেন নির্দেশমত সে সময়ের বিখ্যাত পন্ডিত, রাজ জ্যোতিষি ও সম্রাটের উপদেষ্টা আমীর ফাতেউল্লাহ সিরাজী। তিনি চান্দ্র-হিজরী ক্যালেন্ডারের ওপর ভিত্তি করে হিন্দু সৌর মাসের সমন্বয়ে নতুন ক্যালেন্ডার তৈরি করলেন। যার নাম হয় তারিখ ই এলাহি।

# তারিখ ই এলাহি বা “সৌর ক্যালেন্ডার” যা “বাংলা সন” নামে পরিচিত তা সরকারীভাবে চালু করা হয় ১৫৮৪ সালে। যদিও এটা আকবর-এর রাজত্বের ২৯ বছর পর চালু করা হয় তবুও এর গননা করা হয় ১৫৫৬ সাল থেকে যখন সম্রাট আকবর সিংহাসনে আরোহণ করেন।১৫৫৬ খৃস্টাব্দে হিজরী সাল ছিল ৯৬৩। ফলে ওই বছরকে ৯৬৩ সৌর বছর ধরে সাল গণনা শুরু হয়।

# তারিখ ই এলাহি ক্যালেন্ডারের প্রচলন পরবর্তী ফসল কাটা হলে কৃষকেরা কর পরিশোধ করেন। পরের বছরও তাই করেন। ফলে কৃষকদের কাছে এটা ‘ফসলী সন’ বলে পরিচিত ব্যাপকভাবে পরিচিত হয়। বাংলার সু্বেদাররা ফসলী সন হিসেবেই কর আদায় শুরু করলে মোঘল আমলে বাংলায় এটি সরকারী ক্যালেন্ডার হিসেবে মর্যাদা পায়।

# ফতে উল্লাহ সিরাজী বারোমাসের নাম রাখেন হিন্দু জ্যোতিষশাস্ত্র সম্মতভাবে নক্ষত্রের নামে। ১. বিশাখা (Librae) থেকে বৈশাখ ২. জাইষ্ঠা (Scorpii) থেকে জৈষ্ঠ ৩. আষাঢ়া (Sagittarii) থেকে আষাঢ় ৪. শ্রাবণা (Aquilae) থেকে শ্রাবণ ৫. ভাদ্রপাদা (Pegasi) থেকে ভাদ্র ৬. আশ্বিনী (Arietis) থেকে আশ্বিন ৭. কৃতিকা (Tauri) থেকে কার্তিক ৮. পুস্যা (Aldebaran) থেকে পৌষ ৯. আগ্রৈহনী (Cancri) থেকে অগ্রহায়ন ১০. মাঘা (Regulus) থেকে মাঘ ১১. ফাল্গুনী (Leonis) থেকে ফাল্গুন এবং ১২. চিত্রা (Virginis) থেকে চৈত্র।

# ১৯৬৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বাংলা একাডেমীর তত্ত্বাবধানে ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর নেতৃত্বে একটি বিশেষ কমিটি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের জন্য বাংলা ক্যালেন্ডার পরিমার্জন করেন। অন্যান্য ক্যালেন্ডারের মতো এতে ৩৬৫ দিনে এক বছর। সূর্যের চারদিকে একবার ঘুরে আসতে পৃথিবীর সময় লাগে ৩৬৫ দিন ৫ ঘন্টা ৪৭ সেকেন্ড। এই অমিলে সমতা আনতে গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার প্রতি চার বছর অন্তর ফেব্রুয়ারী মাসে একটি অতিরিক্ত দিন যোগ করে। একে লিপ ইয়ার বলে।

জ্যোতিষশাস্ত্রের ওপর নির্ভরশীল বাংলা ক্যালেন্ডারে এই অতিরিক্ত এক দিন কম হতো। তাছাড়া বাংলা মাসগুলোর দৈর্ঘ্য ছিল ভিন্ন ভিন্ন। এই অসামঞ্জস্য মেটাতে ও আরও যথাযথ করতে বাংলা একাডেমীর প্রস্তাবনা এরকমঃ

* বছরের প্রথম পাঁচটি মাস, বৈশাখ থেকে ভাদ্র, গঠিত হবে ৩১ দিনে।
* বছরের বাকি সাতটি মাস, আশ্বিন থেকে চৈত্র, গঠিত হবে ৩০ দিনে।
* বছর শুরু হবে গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারের ১৪ এপ্রিল এবং প্রতি লিপ ইয়ার বছরের ফাল্গুন মাসে অতিরিক্ত একটি দিন যোগ হবে।

এটি ১৯৮৭ সাল থেকে সরকারিভাবে এটি গ্রহণ করা হয়।

# বৈশাখ মাসের এক তারিখ বা পহেলা বৈশাখ বাংলা বছরের প্রথম দিন। ভারতের পশ্চিম বাংলায় এটা চন্দ্র-সূর্য তিথি গণনা করে পালিত হয় এপ্রিল মাসের ১৪ অথবা ১৫ তারিখে।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: