সর্বশেষ আপডেট : ৬ মিনিট ৩৫ সেকেন্ড আগে
শুক্রবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

বিরল প্রতিভার অধিকারী টাইগার মুস্তাফিজ

8528522খেলাধুলা ডেস্ক:
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেকের পর থেকেই দুর্দান্ত পারফর্মেন্স করে আসছেন বাংলাদেশের তরুণ পেসার মুস্তাফিজুর রহমান। ক্রিকেট বিশ্বে বিস্ময় বালক নামেই এখন তিনি সমাদৃত। ভারতের জনপ্রিয় টি টোয়েন্টি লীগ আইপিএলেও যথারীতি সেই বিধ্বংসী রুপেই দেখা গিয়েছে মুস্তাফিজকে। প্রথমবারের মত আইপিএলে খেলার সুযোগ পেয়ে অভিষেক ম্যাচেই রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর বিপক্ষে অসাধারণ বোলিং করে আবারও চেনালেন নিজেকে।

সেই ম্যাচে ভিরাট কোহলি-এবি ডি ভিলিয়ার্সরা যখন আশিস নেহরা , ভুবনেশ্বর কুমারদের বলে স্রোতের মত রান তুলছেন তখন একমাত্র ব্যতিক্রম ছিলেন বাংলাদেশের মুস্তাফিজ। সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের অন্য পাঁচ বোলারের ইকনমি রেট যেখানে ওভারপ্রতি ১২.৩১ সেখানে মুস্তাফিজের ইকোনমি রেট ছিল মাত্র ৬.৫০! শুধু তাই নয়, নিয়েছেন ডি ভিলিয়ার্স এবং শেন ওয়াটসনের মত দুটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেটও। বাংলার টাইগার মুস্তাফিজের দুর্দান্ত বোলিং নিয়ে তাই বিশ্বজুড়ে ঝড় চলবে এটাই স্বাভাবিক।

ইতিমধ্যে মুস্তাফিজকে প্রশংসায় ভাসিয়েছেন তাঁর দলের অধিনায়ক ডেভিড ওয়ার্নার এবং দলের মেন্টর ভি ভি এস লক্ষ্মণ। এখন ভারতীয় সংবাদ মাধ্যমেও চলছে মুস্তাফিজ বন্দনা। তবে হায়দ্রাবাদের প্রথম ম্যাচে মুস্তাফিজকে বোলিং ভালোভাবে কাজে লাগাতে পারেন নি অধিনায়ক। কারণ মুস্তাফিজকে দ্বিতীয় স্পেলে আনা হয়েছিল ম্যাচের প্রায় শেষের দিকে ১৮তম ওভারে। এই ব্যাপারে অস্ট্রেলিয়া ও হল্যান্ডের হয়ে খেলা পেসার ডার্ক ন্যানেস বলেন, ‘মুস্তাফিজের বোলিং দেখে বোঝা গেছে, তাকে তার দল ঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারেনি।’

তবে আইপিএলে মুস্তাফিজ ইতিমধ্যেই বেশ ভালোভাবে মানিয়ে নিয়েছেন। আগের মত জড়তা ভাব আর নেই। শুধু মাঠেই নয় মাঠের বাইরেও মুস্তাফিজ নিজেকে মানিয়ে নিতে সক্ষম হয়েছেন। দেশের শীর্ষস্থানীয় সংবাদ পত্রিকা প্রথম আলোকে মুঠোফোনে এমনটাই নিশ্চিত করেছেন হায়দ্রাবাদ দলের ম্যানেজার বিজয় কুমার। তিনি বলেন, ‘এখানে সে খুবই ভালো আছে। ধীরে ধীরে মানিয়ে নিচ্ছে। খুব একটা সমস্যা হচ্ছে না।’

আইপিএলের যাওয়ার আগে ধারণা করা হচ্ছিল ভাষাগত দিক থেকে সমস্যায় পরবেন মুস্তাফিজ। যেহেতু বাংলা ছাড়া ইংলিশ কিংবা হিন্দি একেবারেই বলতে পারেন না তিনি তাই সমস্যা হওয়াটা অনেকটা অনুমিতই ছিল। কিন্তু মুস্তাফিজ এ ব্যাপারটাতেও নিজেকে মানিয়ে নিয়েছেন। বিজয় কুমারের ভাষ্য অনুযায়ী, ‘সে মানিয়ে নিচ্ছে। তাকে এক-দুই শব্দে সংক্ষেপে বলা হয়, যাতে সহজেই বুঝে নিতে পারে। আর ক্রিকেটের বিষয়গুলো তো বোঝেই। যেহেতু ইংরেজি ভালো বোঝে না, এ কারণে টিম মিটিংয়ে আলোচনায় ওভাবে অংশ নিতে পারে না। কিন্তু সহজ জিনিসগুলো বুঝতে পারে। সবার সঙ্গে ভালোভাবেই সে মিশতে পারছে।’

তবে মুস্তাফিজের ইংরেজি জানাটা যে অতি জরুরী এটা নিজেও মানছেন তিনি। কারণ আইপিএলের পর তাকে খেলতে যেতে হবে ইংল্যান্ডে। কাউন্টিতে সাসেক্সের হয়ে খেলবেন তিনি। সেখানে ইংরেজি ছাড়া যোগাযোগ রক্ষা করতে আসলেই অনেক বড় সমস্যা হতে পারে তাঁর। ভারতের জনপ্রিয় দৈনিক হিন্দুস্তান টাইমসকে এই নিয়ে মুস্তাফিজ বলেন, ‘আইপিএলের পর আমি কাউন্টি (সাসেক্সে) খেলতে যাব। ইংরেজিটা শেখা তাই প্রয়োজন।’

অবশ্য ইংরেজি না জানলেও মুস্তাফিজ প্রকৃত জবাব দেন বল হাতেই। অসাধারণ সব কাটার দিয়ে প্রতিপক্ষ ব্যাটসম্যানদের কুপোকাত করাই যেন এখন এই তরুণ বোলারের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। কাটারকে শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া মুস্তাফিজের আগে থেকেই ভক্ত হায়দ্রাবাদে তাঁরই সতীর্থ বোলার আশিস নেহারা। অভিজ্ঞ পেসার আশিস নেহরা মুস্তাফিজের কাটারে মুগ্ধ হয়ে এর আগে বলেছিলেন, ‘ওর স্লোয়ারগুলো ঈশ্বরপ্রদত্ত।’

টি টোয়েন্টি ক্রিকেটের ধুমধাড়াক্কা ব্যাটিং প্রদর্শনীতে যেখানে বোলাররা পাত্তাই পান না সেখানে মুস্তাফিজের অসাধারণ বোলিং নৈপুণ্যে একের পর এক ব্যাটসম্যানকে ঘায়েল করা আসলেই দৃষ্টিনন্দনযোগ্য।দলের অন্য সকল বোলার যেখানে একই সুতোয় গাঁথা, সেখানে বাংলার টাইগার মুস্তাফিজই যেন একমাত্র ব্যতিক্রম এবং আপন আলোয় উজ্জ্বল। সুত্র-অনলাইন

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: