সর্বশেষ আপডেট : ১২ মিনিট ৫৩ সেকেন্ড আগে
রবিবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

বাংলাদেশের কারাগার যেন ‘হেফাজতে মৃত্যু’

139921_1নিউজ ডেস্ক: ২০১৫ সালের বার্ষিক মানবাধিকার প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রকাশিত এ প্রতিবেদনে যথারীতি বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি সম্পর্কেও রয়েছে বিস্তারিত আলোচনা।

যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুসারে প্রতি বছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানবাধিকার বিষয়ক প্রতিবেদন মার্কিন কংগ্রেসের কাছে পেশ করেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
বৃহস্পতিবার ১৯৯টি দেশের মানবাধিকার প্রতিবেদন পেশ করা হয়েছে। এটি যুক্তরাষ্ট্রের ৪০তম বার্ষিক মানবাধিকার প্রতিবেদন।

বাংলাদেশ সম্পর্কে প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির সংসদ নির্বাচনকে বেশিরভাগ আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক বিতর্কিত এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের ঘাটতি ছিল বলে মত দিয়েছেন।

এ সময় সবচেয়ে বড় তাৎপর্যপূর্ণ মানবাধিকার সমস্যা ছিল বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড এবং গুম, সেক্যুলার ব্লগার হত্যা এবং অনলাইন ও গণমাধ্যমের ওপর কিছু বিধিনিষেধ।

এছাড়া নিরাপত্তা বাহিনীর নির্যাতন এবং স্বেচ্ছাচারী গ্রেপ্তার, বিচার বিভাগের দুর্বল সক্ষমতা ও স্বাধীনতা এবং বিচারপূর্ব দীর্ঘ বন্দীদশাও মানবাধিকার সমস্যা হিসেবে রয়ে গিয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, রাজনৈতিক সংঘাত এবং সরকারি কর্মকর্তাদের দুর্নীতিও বাংলাদেশের সমস্যা। কিছু বেসরকারি সংস্থা তাদের কার্যক্রম চালাতে আইনি এবং অনানুষ্ঠানিক বাধার অভিযোগ করেছেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সরকারি দলের ছাত্র সংগঠন এবং যুব সংগঠনের সহিংসতাও দেশটিতে একটি সমস্যা।

প্রতিবেদনে বলা হয়, মানবাধিকার সংগঠনগুলোর প্রতিবেদন এবং গণমাধ্যমের খবরে বহু গুম ও অপহরণের কথা এসেছে। কিছু ঘটনায় নিরাপত্তা বাহিনীর জড়িত থাকার অভিযোগ এসেছে। এসব রোধ করা কিংবা তদন্ত করার কোনো উদ্যোগ নেয়নি সরকার।

র‌্যাব ও পুলিশের বিরুদ্ধে শারিরীক ও মানসিক নির্যাতন, হুমকি প্রদান, পিটুনি, ইলেকট্রিক শক, ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের অভিযোগ রয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, কারাগারের অবস্থা করুণ। ঠাসাঠাসি করে থাকা, অপর্যাপ্ত স্যানিটেশনের কারণে স্থানীয় একটি এনজিও বাংলাদেশের কারাগারগুলোকে ‘হেফাজতে মৃত্যু’র সাথে তুলনা করেছে।

কারা কর্তৃপক্ষের হিসেবে, গত আগস্টে কারাগারে বন্দীর সংখ্যা ছিল ৬৯,৭১৯ জন যেখানে ধারণ ক্ষমতা ৩৪,৬৮১ জন। এদের মধ্যে ৭৪ ভাগই বিচারাধীন অথবা বিচারের অপেক্ষমান। কয়েদীদের সাথে বিচারাধীন মামলার আসামিদের একত্রে রাখা হয়।

সরকার কোনো এনজিও কিংবা রেড ক্রিসেন্টকে কারাগার পরিদর্শনের অনুমতি দেয় না।

প্রতিবেদনে বলা হয়, আইনে বিচার বিভাগের স্বাধীনতার কথা থাকলেও নিম্ন আদালতে নিয়োগ, বেতনভাতা, কর্মক্ষেত্র নির্ধারণের ক্ষমতা নির্বাহী বিভাগের হাতে থাকায় বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। কিছু বিচারক অভিযোগ করেছেন, তাদের আদেশ পছন্দসই না হওয়ায় তাদেরকে দুর্গম এলাকায় বদলি করা হয়েছে। সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনীর মাধ্যমে বিচারপতিদের অভিশংসনের ক্ষমতা দেয়া হয়েছে সংসদকে। তবে এ বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ আইন এখনো তৈরি হয়নি।

এছাড়া দুর্নীতি, মামলার পাহাড়, স্বাক্ষী ও ভিকটিমদের ভয়ভীতি প্রদর্শন, প্রমাণ নষ্ট করার কারণে ন্যায়বিচার পাওয়া কঠিন। মানবাধিকার পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ম্যাজিস্ট্রেট, সরকারি আইনজীবী এবং আদালতের কর্মকর্তারা আসামি ও বাদীদের কাছ থেকে ঘুষ দাবি করেন।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: