সর্বশেষ আপডেট : ৪ ঘন্টা আগে
মঙ্গলবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

ফখরুল মনোনীত না নির্বাচিত?

9নিউজ ডেস্ক : বিএনপির কাউন্সিলের পর মহাসচিব ও সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিবসহ এখন পর্যন্ত দলটির ১৯ নেতার নাম ঘোষণা করা হয়েছে। নেতাকর্মীদের আশা, দ্রুততম সময়ের মধ্যে চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া জাতীয় স্থায়ী কমিটিসহ দলের বাকি নেতাদের নাম ঘোষণা করবেন।

তবে নতুন কমিটির নেতা হিসেবে যাদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে তারা ‘নির্বাচিত না মনোনীত’, এ নিয়ে বিএনপিপন্থি বুদ্ধিজীবীদের মধ্যে মতপার্থক্য সুস্পষ্ট। দ্বিধা-দ্বন্দ্বে ভুগছেন দলটির নেতাকর্মীরাও। বুদ্ধিজীবীদের কেউ কেউ বলছেন, তারা নির্বাচিত। অন্যদিকে, বাকিরা বলছেন- তারা মনোনীত। তাদের মতে, বিএনপির মহাসচিব ‘নির্বাচিত’ হলে সেটা দলের জন্যই ভালো হতো। কারণ, নির্বাচিত হলে উনার (ফখরুল) সাহসটা ভিন্ন হতো। উনি আওয়াজ করে কথা বলতে পারতেন।

কাউন্সিলের পূর্বেই বিএনপির চেয়ারপারসন হিসেবে বেগম খালেদা জিয়া এবং সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে তারেক রহমান বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। এরপর কাউন্সিলে তাদের এ নির্বাচনকে অনুমোদন দেন কাউন্সিলররা।

গত ১৯ মার্চ অনুষ্ঠিত বিএনপির ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলের ১০ দিন পর ৩০ মার্চ মহাসচিব, সিনিয়র ‍যুগ্ম-মহাসচিব ও কোষাধ্যক্ষ হিসেবে যথাক্রমে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী ও মিজানুর রহমান সিনহার নাম ঘোষণা করা হয়। এরপর গত ৯ এপ্রিল সাতজন যুগ্ম-মহাসচিব ও নয়জন সাংগঠনিক সম্পাদকের নাম ঘোষণা করে বিএনপি।

এমন অবস্থায় দৈনিক আমার দেশ পত্রিকা বন্ধ ও ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের কারাবন্দিত্বের তিন বছর পূর্তি উপলক্ষে সোমবার (১১ এপ্রিল) রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের সেমিনার হলে ‘আমার দেশ পরিবার’র উদ্যোগে এক প্রতিবাদী আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমাজউদ্দীন আহমদের সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এছাড়া বিএনপিপন্থি বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের নেতারাও বক্তব্য রাখেন।

অনুষ্ঠানে ‘মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নির্বাচনের মধ্যদিয়ে মহাসচিব হলে সেটা বিএনপির জন্য ভালো হতো’ -এমন দাবি করেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, ‘এই জাতি-দেশ ও আমাদের কী দুর্ভাগ্য, একজন রাজনীতিবিদ (মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর) তার কর্মের যথাযোগ্য সম্মান পেলেন না। এক ব্যক্তির (খালেদা জিয়া) দয়াতে (ফখরুলকে) জেনারেল সেক্রেটারি (মহাসচিব) হতে হলো। এর কারণ, আমরা যে গণতন্ত্রের কথা বলছি, সেই গণতন্ত্র তার (খালেদা) পার্টিতে নেই। পার্টিতে যদি গণতন্ত্র থাকতো, উনি (ফখরুল) নির্বাচিত মহাসচিব হতেন। উনি যদি নির্বাচিত হতেন, তাতে তো খালেদা জিয়ার উদ্দেশ্যও পূরণ হতো। কিন্তু সেক্ষেত্রে তফাৎটা কী হতো, উনার (ফখরুল) সাহসটা ভিন্ন হতো। উনি আওয়াজ করে কথা বলতে পারতেন। যেটি দলের জন্য ভালো হতো।’

এ প্রসঙ্গে বিএনপির রাজনীতির পরামর্শক ও সমালোচক এ বুদ্ধিজীবী আরো বলেন, ‘কাউন্সিলরদের মতামত নিয়ে বিএনপির মহাসচিব পদে নির্বাচন হলে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নিরাপদে নির্বাচিত হতেন। তার বিপক্ষে দুই-চারজন দাঁড়ালেও তাতে কোনো ক্ষতি হতো না। ওইটাই গণতন্ত্র। কাউন্সিলরা জানে, কে দলের জন্য কাজ করেছে আর কে কাজ করেনি। কিন্তু ওই প্রক্রিয়ায় তিনি নির্বাচিত হলেন না। ফলে এখনো তার (ফখরুল) মনে দ্বিধা আছে, আমি এটা করব, নেত্রী কী মনে করবেন? আমি কি যাব না যাব না (দলের কোনো কাজে কোথাও)? অথচ তার এখন মূল করণীয় হলো সংগঠন গুছানো। মিটিংয়ে আসা, প্রধান অতিথি হওয়ার কোনো দরকার নেই।’

সভায় মির্জা ফখরুলকে ‘বিএনপির নির্বাচিত মহাসচিব’ আখ্যায়িত করে অধ্যাপক ড. এমাজউদ্দীন আহমদ বলেছেন, ‘মির্জা আলমগীর সম্প্রতি বিএনপির মহাসচিব হয়েছেন। তবে তিনি কি ‘মনোনীত না নির্বাচিত’? মহাসচিবের নিয়োগকে আমি নিয়োগ না বলে নির্বাচনই বলবো। কারণ, নির্বাচিত ব্যক্তির (খালেদা জিয়া) মাধ্যমেই যখন কেউ নিযুক্ত হন, তখন সেটাকে নিয়োগও বলা সঠিক না, আবার নির্বাচিত বলাও কষ্টকর। তবে সবদিক বিবেচনা করে আমি তাকে (ফখরুল) বিএনপির নির্বাচিত মহাসচিবই বলবো।’

অনুষ্ঠানে মির্জা ফখরুল ইসলামকে ‘বিএনপির সদ্য নিযুক্ত মহাসচিব’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ। তিনি তার বক্তব্যের শুরুতে প্রধান অতিথি মির্জা আলমগীরকে সম্বোধন করতে গিয়ে বলেন, ‘আমি মির্জা আলমগীরকে বিএনপির সদ্য নিযুক্ত মহাসচিব বলবো। নির্বাচিত মহাসচিব বলবো না। তিনি নির্বাচিত হলে (দলের জন্য) ভালো হতো।’

গত ১৯ মার্চ রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে বিএনপির ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়। ওইদিন বিকেল থেকে রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত কাউন্সিলের দ্বিতীয় অধিবেশন (কর্ম-অধিবেশন) চলে। সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও মহাসচিবসহ কোনো পদই কাউন্সিলে ঘোষিত হয়নি। কাউন্সিলের এক পর্যায়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের প্রস্তাবে ‘মহাসচিবসহ কমিটি গঠনের সর্বময় ক্ষমতা’ চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ওপর সর্বসম্মতিক্রমে ন্যস্ত করেন কাউন্সিলররা।

কাউন্সিলরদের সর্বসম্মত ওই সিদ্ধান্তের পর কর্মঅধিবেশনে ড. মোশাররফ হোসেন তাদের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনারা সর্বসম্মতিক্রমে ‘কমিটি গঠনের সর্বময় ক্ষমতা’ ম্যাডামের (খালেদা জিয়া) ওপর ন্যস্ত করায় তিনি যাদেরকে দায়িত্ব দেবেন তারা সবাই ‘নির্বাচিত’ হিসেবে গণ্য হবেন।’

বিএনপির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, কর্মকর্তাসহ জাতীয় নির্বাহী কমিটি দলের জাতীয় কাউন্সিলের মাধ্যমে নির্বাচিত হবেন। তবে এই কমিটির অন্তত এক-তৃতীয়াংশ জাতীয় কাউন্সিল থেকে নিতে হবে।

জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘কাউন্সিলে ‘দলের মহাসচিবসহ কমিটি গঠনের সর্বময় ক্ষমতা’ চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ওপর সর্বসম্মতিক্রমে ন্যস্ত করেন কাউন্সিলররা। ওই ক্ষমতাবলে তিনি (খালেদা) কমিটির সদস্যদের নাম ঘোষণা করছেন। এটি চলমান প্রক্রিয়া। আশা করি, দ্রুততম সময়ের মধ্যেই পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষিত হবে।’

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: