সর্বশেষ আপডেট : ২ ঘন্টা আগে
মঙ্গলবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

বৈশাখ বরণে প্রস্তুত সিলেট : সর্বত্র উৎসবের আমেজ

7স্টাফ রিপোর্টার ::
এসো হে বৈশাখ এসো এসো..। কাল পহেলা বৈশাখ ১৪২৩ বাংলা। প্রতিবছর এই দিনে বাংলা সাজে নানান রঙে। বাঙালী সাজে নানা ঢঙ-এ। পহেলা বৈশাখকে ঘিরে সিলেটে বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ । রকমারি অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে বিভিন্ন সংগঠন।

পুরাতন ও জীর্ণতাকে অতিক্রম করে নতুন ও পরিবর্তনকে আহ্বান জানানোর শ্রেষ্ঠ সময় এই বৈশাখ। নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে আগামীকাল ১ বৈশাখ বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত নগরীর পূর্ব শাহী ঈদগাহস্থ শিল্পকলা একাডেমী প্রাঙ্গণে আয়োজনা করা হয়েছে বর্ষবরণ উৎসবের।

মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্জ্বলন ও ঢাকের বাদ্যের মধ্য দিয়ে মাঙ্গলিক শুভ উদ্বোধন ঘটবে এই উৎসবটির। তারপর পর্যায়ক্রমে রয়েছে বৈশাখের গান, লোকসংগীত, কাঠিনৃত্য, ঝুমুর নৃত্য, লোকনৃত্য, সম্মেলক সংগীত, বৃন্দ আবৃত্তি, ধামাইল, মণিপুরী নৃত্য, একক ও দলীয় সংগীত এবং বাউলগান। উৎসবটিতে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, সাজসজ্জা ও পরিচালনায় রয়েছেন শিল্পকলা একাডেমীর সংগীত, নৃত্য, আবৃত্তি ও চারুকলা বিভাগ, একাডেমী ফর মণিপুরী কালচার এন্ড আর্ট, শিল্পাঙ্গন, ছন্দনৃত্যালয়, মোহনা এমসি কলেজ, রাধারমণ সাংস্কৃতিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র বিশ্বনাথ, সংগীতশিল্পী হিমাংশু বিশ্বাস, জামালউদ্দিন হাসান বান্না, বাউল সূর্য্যলাল দাস, লাভলী দেব, শামীম আহমেদ, শান্তা রাণী বর্ধণ, অনিমেষবিজয় চৌধুরী, তন্বী দেব, নৃত্যশিল্পী শ্যামল ঘোষ, বিপুল শর্মা, আবৃত্তিশিল্পী জ্যোতি ভট্টাচার্য্য এবং চারুশিল্পী অরবিন্দ দাস গুপ্ত ও ইসমাইল গনি হিমন।

ইতোমধ্যে চারু শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে আল্পনা, মুখোশ তৈরি, হাঁড়ি ও কুলা-ডালায় রংকরণ, মঞ্চ নির্মাণ ও সজ্জিত করণের কাজ শেষ হয়েছে। এসো হে বৈশাখ এসো এসো এই গানের মধ্য দিয়ে পুরাতন বছরকে বিদায় দিয়ে নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে মহড়াও সম্পন্ন করেছেন একাডেমীর সংগীত, নৃত্য ও আবৃত্তি বিভাগের প্রশিক্ষণার্থীরা।

আবহমান বাংলার এই চিরায়ত উৎসবে জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলেই উপস্থিত থেকে অনুষ্ঠান উপভোগ করার সাদর আমন্ত্রণ জানিয়েছেন সিলেট জেলা কালচারাল অফিসার অসিত বরণ দাশ গুপ্ত।

নতুন বছরে নতুন পোষাক গায়ে জড়িয়ে আনন্দের চূড়ায় উঠার বাসনা থেকে অনেকেই নগরীর মার্কেটগুলোতে আসছেন। নিজের পছন্দের পোষাক কিনে তবেই বাড়ি ফিরছেন। বৈশাখী কেনাকাটায় ছোট-বড় বিপনী বিতানগুলোর পাশাপাশি ফুটপাতের ব্যবাসায়ীদেরও সময় ভালো যাচ্ছে। সারাদিন ক্রেতার ভিড় সামালে নিচ্ছেন হাসি মুখে।

অনেক ব্যবসায়ী ঈদ-পূজার পরে বৈশাখের বেচা-কেনাকে বছরের অন্যতম ব্যবসার সময় হিসেবে ধরে নিয়েছেন।
একজন ব্যবসায়ী জানালেন, প্রতিবারের মতো এবারও বৈশাখী বেচা-কেনায় নারী ও শিশুদের পোষাক বেশী বিক্রি হচ্ছে। পাশাপাশি ছেলেদের পাঞ্জাবিটা একটু বেশী চলছে। বৈশাখ উপলক্ষ্যে বিভিন্ন ফ্যাশন হাউসের রকমারি পোশাক শোভা পাচ্ছে প্রতিটি শপিং মলে।

বৈশাখ উপলক্ষে সিলেটের বিভিন্ন হোটেল মোটেলগুলোতেও বাঙালী খাবারের আয়োজন করা হয়েছে। কেউ কেউ বিশেষ ছাড়ের ব্যবস্থা রেখে কাস্টমারকে আকর্ষণ করার চেষ্টা করছেন।

পহেলা বৈশাখে ইলিশ-পান্তা খাওয়ার একটি রেওয়াজ ধীর্ঘদিনের। এবছর এই রেওয়াজে কিছুটা ভাটা পড়বে। কেননা স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী বৈশাখে ইলিশ খাবেন না এমন খবর পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। মূলত ইলিশ রক্ষা বিষয়টিকে গুরুত্ব দিতে গিয়ে বৈশাখে খাবারের তালিকায় ইলিশ না রাখার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে গণমাধ্যমে।

তাই বিকল্প হিসেবে পান্তার সাথে হরেক রকম ভর্তা, শুটকী ভোনাকে অধিক গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। সবকিছুর পরও ইলিশ ছাড়া বাঙালি বৈশাখের স্বাদ যেন পানসে হয়ে যায়।

পান্তা-ইলিশ ছাড়া যেন সেই আনুষ্ঠানিকতা অপূর্ণ রয়ে যায়। আর এখনও বৈশাখে বেড়েছে ইলিশের চাহিদা। চাহিদার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ইলিশের দাম। বিক্রেতারা বলছেন দাম বাড়ার একটাই কারণ চাহিদার তুলনায় আমদানি কম।

লালবাজারে গিয়ে দেখা যায়, বিক্রেতারা দুই কেজি বা তার চেয়ে বেশি ওজনের প্রতি ইলিশের দাম হাঁকাছেন সাড়ে তিন হাজার টাকা। আর এক কেজি ওজনের ১টি ইলিশ বিক্রি হচ্ছে প্রতি ১ হাজার ৫ শত থেকে ১ হাজার ৩৫০ টাকা। এছাড়াও ছোট আকারের ৩টায় ১ কেজি মাছের দাম ৫৫০ টাকা। ২টায় ১ কেজি ইলিশের দাম ৯০০ থেকে ১ হাজার টাকা। স্বপ্ন ডিপাটমেন্টাল স্টোরে গিয়ে দেখা যায়, ৩৫০ গ্রাম থেকে ৪৫০ গ্রাম ওজনের ইলিশ মাছ বিক্রি হচ্ছে ১৮৫ টাকা। ১ কেজি ওজনের মাছ ১ হাজার ৩৫০ টাকা, দেড় কেজি থেকে পৌঁণে ২ কেজি ওজনের মাছ বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৮৫০ টাকা।

স্বপ্ন ডিপাটমেন্টাল স্টোর বারুত খানা শাখার সহকারী ম্যানেজার সালমান আহমদ জানান, অন্যন্য বছরের তুলনায় এবার ইলিশের চাহিদা কম। বাজারে মাছ কম আসার কারনে দাম একটু বেশি।

লালবাজারের ব্যবসায়ী সানুর মিয়া জানান, ইলিশ মাছ শিকারে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তবে বাংলা নববর্ষে বাড়তি দাম পাওয়ার আশায় আড়ৎদাররা আগে থেকে ইলিশ সংরক্ষণ করে রাখে। এটা চাহিদার তুলনায় খুবই কম। ফলে দাম বেশি।

বৈশাখে সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতেও পহেলা বৈশাখকে বরণের নানা প্রস্তুতি শেষ হয়েছে। অন্যান্য বছর দিনব্যাপী বর্ষবরণের আয়োজন থাকলেও সিলেটের ঐতিহ্যবাহী এমসি কলেজে এবারের নববর্ষের অনুষ্ঠানের ব্যাপ্তি থাকবে মাত্র দুই ঘণ্টা। এতে করে কলেজের সাধারণ ছাত্রছাত্রী ও সংস্কৃতিকর্মীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

ঐতিহ্যবাহী এ কলেজের আয়োজনের দিকে নজর থাকে সারা শহরের মানুষের । দিনটি উদযাপনের জন্য এখানে জড়ো হন নগরবাসী। কলেজের প্রধান দু’টি সাংস্কৃতিক সংগঠন মোহনা ও থিয়েটার মুরারিচাঁদ এর সাথে সম্পৃক্ত সংস্কৃতিকর্মীরা অনুষ্ঠানের ব্যাপ্তি নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেন।

কলেজের উপাধ্যক্ষ হায়াতুল ইসলাম আকঞ্জি জানান, দুই ঘন্টার এই আয়োজন সকাল ১০ টায় র‌্যালির মাধ্যমে শুরু হবে। এতে থাকবে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। বেলা ১২টায় অনুষ্ঠান সমাপ্ত করা হবে। তিনি জানান এবার কলেজের অর্থায়নে তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

বাঙালির আবহমান সংস্কৃতির এই উৎসবকে নির্বিঘ্ন করতে, নিরবিচ্ছিন্ন করতে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তামূলক প্রস্তুতি গ্রহণ করছে সিলেট মহানগর পুলিশ (এসএমপি)।

সিলেট মহানগর পুলিশ সূত্রে জানা যায়, পহেলা বৈশাখকে ঘিরে গোটা পুলিশ প্রশাসন ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে। সিলেট মহানগর জুড়ে মানুষের ঢল নামবে, মঙ্গল শোভাযাত্রাসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানমালা হবে- এসব বিষয়কে মাথায় রেখে বিশেষ পরিকল্পনা অনুযায়ী নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে পুলিশ। নিরাপত্তার ব্যাপারে সামান্যতম ছাড় দিতেও নারাজ পুলিশ।

নগরীর প্রতিটি মোড়ে মোড়ে, গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে, গুরুত্বপূর্ণ সরকারি-বেসরকারি স্থাপনায় নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত থাকবে পুলিশ। একইসাথে র‌্যাব ও গোয়েন্দা সদস্যরাও পুলিশের সাথে কাজ করবে। পোশাকধারী পুলিশের সাথে সাথে সাদা পোশাকের পুলিশ ও গোয়েন্দা সদস্যরা নগরীতে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে কাজ করবেন।

এদিকে রঙ নিয়ে কোনো ধরনের বাড়াবাড়ি সয্য করা হবে না বলে জানিয়েছে পুলিশ কর্তৃপক্ষ। এ ধরনের কাজে কাউকে দেখা গেলে সাথে সাথে আটক করা হবে। বৈশাখের আনন্দের মধ্যে কোনো ধরনের উচ্ছৃঙ্খল কর্মকান্ড চলতে দেয়া হবে না বলেও হুশিয়ারি করেছে পুলিশ প্রশাসন।

তাছাড়া পহেলা বৈশাখে ভুভুজেলা বাজানো, মোটরসাইকেলে দলবদ্ধভাবে হর্ণ বাজিয়ে জনবিরক্তি সৃষ্টি, খোলা ট্রাকে শহরজুড়ে বাদ্য বাজিয়ে প্রদক্ষিণ এসব কাজকে নিষিদ্ধ করেছে মহানগর পুলিশ।

এসএমপির অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (মিডিয়া) রহমত উল্লাহ বলেন, পহেলা বৈশাখকে ঘিরে পুলিশ বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। ইতিমধ্যেই সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী গোয়েন্দা সদস্যরা কাজ শুরু করে দিয়েছেন।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: