সর্বশেষ আপডেট : ৩১ সেকেন্ড আগে
বৃহস্পতিবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

দুঃসহ ১৬ দিনের কথা ভুলতে পারছেন না তনুর ভাইয়ের বন্ধু সোহাগ

Comilla-pic20160412085600 (1)নিউজ ডেস্ক::
‘কখনও কখনও মনে হয়েছিল, আজ বুঝি ওরা আমাকে হত্যা করে ফেলবে। আজ বুঝি আমার শেষ দিন। চোখ বাঁধা অবস্থায় দুঃসহ যন্ত্রণায় একেকটি দিন যেন মনে হয়েছিল একেকটি বছর। সময় যেন ফুরাতে চাইতো না। চোখে ভেসে উঠতো বাবা-মাসহ আত্মীয় স্বজনদের ছবি।’ ১৬ দিন পর শ্বাসরুদ্ধকর বন্দীদশা থেকে বাবা-মায়ের বুকে ফিরে মঙ্গলবার সকালে জেলার বুড়িচং উপজেলার নারায়নসার বাড়িতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এভাবেই কথাগুলো বলছিলেন মিজানুর রহমান সোহাগ।

সোহাগ দৃর্বৃত্তদের হাতে নিহত কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ছাত্রী তনুর ছোট ভাই আনোয়ারের বন্ধু। গত ২০ মার্চ কুমিল্লা সেনানিবাসের বাসার অদূরে একটি জঙ্গলে পাওয়া যায় তনুর মরদেহ। এ ঘটনার পর টিভিতে খবর দেখে বন্ধু আনোয়ারকে ফোন করেছিল সোহাগ। এরপরের গল্পটা সবারই জানা। অত্যন্ত ভয়াবহ ও নিষ্ঠুর ঘটনা ঘটে ২৭ মার্চ দিবাগত মধ্য রাতে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার পরিচয়ে সাদা পোশাকে বাড়ি থেকে আটক করে তুলে নেয়া হয় সোহাগকে।

সোহাগের বাবা নুরুল ইসলাম জানান, আমার ছেলে তনুর ভাইয়ের বন্ধু। এক সাথে তারা লেখাপড়া করেছে, আমরাও তনু হত্যার বিচার চাই। কিন্তু গত ২৭ মার্চ থেকে আমার ছেলে কোথায় ছিল তা আমরা এখনও জানি না। কেন তাকে এভাবে ধরে নিয়ে যাওয়া হলো তা জানতে র্যাব, পুলিশ, ডিবি, সিআইডিসহ সকল সংস্থার নিকট গেলেও কেউই আমার ছেলের সন্ধান দেয়নি। আজ তাকে আমরা ফিরে পেয়ে আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া জানাচ্ছি।

সোহাগের বড় বোন খালেদা আক্তার জানান, মঙ্গলবার ভোরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে বাড়ির অদূরে নাজিরা বাজার এলাকায় একটি সিএনজি স্টেশনের পাশে সোহাগকে গাড়ি থেকে রেখে যায় কিছু অজ্ঞাত লোক। তখন তার চাচা মো. তাজুল ইসলাম ও সেলিম তাকে বাড়িতে নিয়ে আসে।

তাজুল জানান, প্রথমে সে আমাদের দেখে অস্বাভাবিক আচরণ করে। মনে হচ্ছিল সে কাউকেই চিনতে পারছিল না। ’
সোহাগ জানান, ‘যখন তাকে গাড়িতে তোলা হয় তারপর থেকে সে কিছুই বলতে পারবে না। মনে হয় আমাকে অজ্ঞান করে ফেলা হয়। এভাবে ৫/৬ দিন আমার জ্ঞান ছিল না। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রায় সাড়ে ২৩ ঘণ্টাই চোখ ও হাত বাঁধা থাকতো। শুধু খাওয়া ও বাথরুমে যাওয়ার জন্য কিছু সময়ের জন্য চোখ খুলে দেয়া হতো। একই কাপড়ে থেকেছি এতো দিন।’

কে বা কারা তাকে ধরে নিয়ে গেছে তাও সোহাগ জানেন না বলে জানিয়েছেন। সোহাগ জানায়, তনু হত্যাকাণ্ড নিয়ে তারা আমাকে কিছুই বলেনি এবং কেউ খারাপ ব্যবহারও করেনি।

সোহাগের মা সাহিদা বেগম জানান, ‘ছেলেকে ফিরে পেয়েছি। এটা আমাদের জন্য খুব আনন্দের। মায়ের বুকে ছেলে ফিরে এসেছে এ আনন্দ কোন ভাষা দিয়ে বুঝাতে পারবো না। এখন আর কারও বিরুদ্ধে আমাদের অভিযোগ নেই।’

সোহাগের বোন খালেদা আক্তার জানান, ২৮ মার্চ ভোর থেকে এ যাবত সকল আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার অফিসে গিয়েও ভাইয়ের সন্ধান পাইনি। এ বিষয়ে মিডিয়ার লোকজন যথেষ্ট সহযোগিতা করেছে। আমার পরিবার সকল মিডিয়ার ভাইয়ের নিকট কৃতজ্ঞ।

তবে একাধিক সূত্র জানায়, তনুর হত্যাকাণ্ডের সন্দেহভাজন হিসেবেই তাকে আটক করা হয়েছিল। এ বিষয়ে তাকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হলেও এখন ভয়ে মিডিয়ায় মুখ খুলতে চাচ্ছে না।

মঙ্গলবার দুপুরে বুড়িচং থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তর কুমার বড়ুয়া জানান, মিজান নিখোঁজের বিষয়ে তার পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় জিডি করা হয়েছিল। তাই আজ বিকালের মধ্যেই আমি তার বাড়িতে গিয়ে মিজানের সঙ্গে কথা বলবো।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: