সর্বশেষ আপডেট : ১ মিনিট ২৭ সেকেন্ড আগে
রবিবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

তনুর ভাইয়ের বন্ধু সোহাগের চোখ ও হাত বেঁধে রাখা হয়েছিল

139777_1নিউজ ডেস্ক:
হাত ও চোখ বাঁধা অবস্থায় একটি ঘরে এত দিন রাখা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন সোহাগী জাহান তনুর ছোট ভাইয়ের বন্ধু মিজানুর রহমান সোহাগ। কেবল খাওয়ার সময় তার এক হাত খুলে দেওয়া হতো। সেখানে আরো কয়েকজন ছিল। কারা, কোথায় তাকে নিয়ে গিয়েছিল, তিনি বুঝতে পারেননি।

দুই সপ্তাহের বেশি সময় নিখোঁজ থাকার পর মঙ্গলবার সকাল ছয়টার দিকে কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার নারায়ণসার গ্রামে নিজ বাড়িতে ফেরেন সোহাগ। সেখানে তিনি এসব কথা বলেন। সোহাগ শারীরিকভাবে পুরোপুরি সুস্থ নন। তার কথাবার্তা এলোমেলো।

সোহাগ বলেন, বাড়ি থেকে নিয়ে যাওয়ার পর ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে মাইক্রোবাসের মধ্যে তার চোখ ও হাত বেঁধে ফেলা হয়। এরপর থেকে সব সময় তার চোখ ও হাত বাঁধা ছিল। খাওয়ার সময় এক হাত খুলে খাবার দেওয়া হতো। মঙ্গলবার সকালে তাকে গাড়ি থেকে বাড়ির কাছে নামিয়ে দেওয়া হয়।
সোহাগের চাচা মো. সেলিম বলেন, ফজরের নামাজ আদায় করার পর তিনি হাঁটছিলেন। নাজিরাবাজারে মদিনা পেট্রলপাম্পের কাছে সোহাগকে দেখতে পান। তিনি সেখান থেকে তাকে বাসায় নিয়ে যান। এ সময় তার চোখ ও হাত বাঁধা ছিল না বলে তিনি জানান।

সোহাগ বলেন, ‘পাপ করিনি। তাই ফিরে এসেছি। আল্লাহ আমাকে বাঁচিয়ে এনেছেন।’

সোহাগের মা সাহিদা আক্তার ও বাবা নুরুল ইসলাম বলেন, তাদের ছেলে ফিরে এসেছে। এতেই তারা খুশি।

সোহাগের বড় বোন খালেদা আক্তার এর আগে সকালে বলেন, সোহাগ যে লুঙ্গি পরে বাড়ি থেকে গিয়েছিলেন, সেই লুঙ্গি পরেই ফিরে এসেছেন। তিনি যেখানে ছিলেন, ভালো ছিলেন বলে পরিবারকে জানিয়েছেন।

বুড়িচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার বড়ুয়া বলেন, ‘সকালে খবর পেয়েছি ছেলেটি ফিরে এসেছে। পুলিশ সোহাগের বাড়িতে যাবে।’

গত ২৭ মার্চ গভীর রাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয় দিয়ে একদল লোক সোহাগকে নিয়ে যায় বলে তার পরিবার জানিয়েছিল। দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় সোহাগের কোনো খোঁজ মেলেনি। পরিবারের সদস্যদের ধারণা, তনু হত্যার পর তার ছোট ভাই আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলার কারণেই সোহাগকে সরকারি কোনো বাহিনীর সদস্যরা ধরে নিয়ে গেছেন।

এ জন্য তারা পুলিশ, র‌্যাব ও গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কার্যালয়ে ধরনা দিয়েছেন, কিন্তু ছেলের খোঁজ পাননি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী কোনো বাহিনী তাকে ধরে নেওয়ার কথা স্বীকার করেনি, আবার তাকে উদ্ধারও করতে পারেনি।

পরিবারের পক্ষ থেকে ৩০ মার্চ এ ঘটনায় বুড়িচং থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। জিডিতে বলা হয়, ২৭ মার্চ দিবাগত রাত একটায় সাদাপোশাকধারী লোক তিনটি মাইক্রোবাস নিয়ে এসে তাদের বাড়িতে তল্লাশি চালায়। এ সময় তাকে নিয়ে চলে যায়। পরদিন পরিবারের সদস্যরা র‌্যাব ও ডিবি কার্যালয়ে খোঁজ নিয়ে তার অবস্থান সম্পর্কে জানতে পারেননি।

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী সোহাগী জাহান তনু ২০ মার্চ খুন হন। ওই দিন রাত সাড়ে ১০টার দিকে সেনানিবাসের পাওয়ার হাউসের অদূরে কালভার্টের পাশের ঝোপ থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: