সর্বশেষ আপডেট : ১ ঘন্টা আগে
মঙ্গলবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

সাব্বাঁশ!

bambooশিশির মনির::
বাঁশ একটি কাষ্ঠল চিরহরিৎ উদ্ভিদ। শ্রেনীবিভাগের ক্ষেত্রে বিজ্ঞানীরা বাঁশকে ঘাস পরিবারের বৃহত্তম সদস্য হিশেবে বিবেচনা করেন। তবে সে যাই হোক- বর্তমান সময়ে আমাদের জনজীবণে ‘বাঁশ’ শব্দটির বিশেষ অর্থে কিছু ব্যবহার রয়েছে। তবে সেটা একান্তই বন্ধুবিশেষ ক্ষেত্রে। এই যেমন কেউ আমাকে ধোঁকা দিলো। বন্ধু সমাজে এটাকে এটাকে মজা করে এভাবে বলা হয়-‘ সে আমাকে বাঁশ দিলো।’ আবার ধরেন বাংলাদেশ ক্রিকেট খেলায় কোন দলকে হারিয়েছে। এটাকে বন্ধুবিশেষে এভাবেও বলা হয়-‘বাংলাদেশ অমুক দলকে বাঁশ দিয়েছে।’ অর্থাৎ স্থানবিশেষে এই বাঁশ শব্দটির বহুবিধ ব্যবহার রয়েছে।

তাই বলে যে গাছ হিসেবে ‘বাঁশ’ এর কোন ব্যবহার নেই, তা কিন্তু নয়। গ্রামীণ জনজীবণে বাঁশের নানাবিধ ব্যবহার আমাদের সকলের জানা। শুধু কি তাই? সাম্প্রতিক সময়ে আমরা বাঁশ গাছের আরও কিছু অভিনব ব্যবহার দেখেছে পুরো দেশ। চুয়াডাঙ্গার দর্শনায় উদ্ভিদ সঙ্গনিরোধ কেন্দ্রের কার্যালয় ও গবেষণাগার নির্মাণে লোহার রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহার করা হয়েছে। গত দুদিনের সংবাদ মাধ্যমের অন্যতম আলোচিত খবর এটি।

যারা বাঁশ গাছ লাগান আর বাঁশ বিক্রির ব্যবসা করে জীবণ ধারণ করেন, তারাও কি কখনও রডের বদলে বাঁশ ব্যবহারের কথা ভেবেছেন? আচ্ছা ধরুন, কোন বাঁশ ব্যবসায়ীকে যদি বলা হয়- আপনি বাঁশ দিবেন, আর আমি সিমেন্ট দিব। আপনার জন্য চমৎকার একটি বিল্ডিং বানাবো। আপনি সেখানে সুখে শান্তিতে থাকবেন। বাঁশ ব্যবসায়ী কি এমন লোভনীয় প্রস্তাবে রাজি হবে? আপনার কী মনে হয়? আমার তো মনে হচ্ছে বাঁশ ব্যবসায়ী তাৎক্ষনিক বাঁশের অভিনব আরেকটা ব্যবহার আবিষ্কার করলেও করে ফেলতে পারেন।

সরকারি ভবন নির্মাণে বাঁশের ব্যবহার আমরা জেনে ফেলেছি। এবার চলুন সরকারি স্কুল ভবন নির্মাণে বাঁশ কী ভূমিকা রাখতে পারে তা জেনে নিই। নতুন খবর হলো- গাইবান্ধা সদর উপজেলার রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের মেঘডুমুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবন নির্মাণে রডের বদলে বাঁশ ব্যবহারের ঘটনা ঘটেছে। ঢালাইয়ের সময় স্থানীয় বাসিন্দারা রডের বদলে বাঁশের ব্যবহার দেখতে পান। এই ছিল আপাতত রডের বদলে বাঁশ ব্যবহারের এখন পর্যন্ত পাওয়া ইতিবৃত্ত।

অনেকে ঠাট্টা করে বলছেন- রডের বদলে বাঁশ, আমাদের দেশিয় প্রযুক্তির আধুনিক ব্যবহারের অংশ। মজার খাতিরে তাদের ঠাট্টার সাথে আমি একমত হতে পারি। তবে আল্লাহ না করুক, কাল যদি শুনি পদ্মা সেতুতেও এই দেশিয় প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে, তবে সেই হাট্টা যেন ঠাট্টাই থাকে।

এবার আসুন অন্যদিকে। রডের বদলে বাঁশ ইস্যুর নিচে চাপা পড়েছে বেশ কিছু লাশ। ঘটনা চট্টগ্রামের বাঁশখালীর। সরকার কর্পোরেট ইস্যু- কয়লা বিদ্যুতকেন্দ্র নির্মাণে চাপা পড়বে বাপ-দাদার বসতিভিটা, এমন শঙ্কায় আন্দোলনের দানা বাঁধতে ছিল এলাকাবাসীর মনে। মিছিল নিয়ে রাস্তায় বেরিয়েছিল। পুলিশের গুলি। নিহতের সঠিক সংখ্যা নিয়ে মতপার্থক্য তৈরি হলেও এসংখ্যা ৫/৬ এর কম নয় এটা নিশ্চিত করে বলা যায়। অতঃপর বাঁশখালী এখন শান্ত। মজা করে বললে- ‘বাঁশ খেয়ে বাঁশখালী এখন শান্ত।’

উদ্ভিদ বিজ্ঞান বলে- বাঁশ সাধারণত একত্রে গুচ্ছ হিসেবে জন্মায়। এক একটি গুচ্ছে ১০-৭০/৮০ টি বাঁশ গাছ একত্রে দেখা যায়। এসব গুচ্ছকে বাঁশ ঝাড় বলে। এই যদি হয় বিজ্ঞানের কথা তাহলে আমার আশঙ্কা আরও বেড়ে যায়। কারণ আমরা- জাতীয় জীবণে বাঁশ দেখেছি, বাঁশঝাড় এখনও দেখিনি। সেটা বোধহয় সামনে অপেক্ষা করছে। তবে সেটা আমাদের কাম্য নয়। আজ আর নয়, আজকের লেখার ইতি টানছি। এর-আগে চলুন আমরা বাংলা ভাষাকে বাঁশ প্রয়োগে স্বল্পমাত্রায় সমৃদ্ধ করি।
সবাই পড়ুন-
রডের বদলে বাঁশ- সাব্বাঁশ। বাঁশখালী খেল বাঁশ- সাব্বাঁশ। বাঁশের বদলে লাশ- সাব্বাঁশ।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: