সর্বশেষ আপডেট : ৭ মিনিট ৫৬ সেকেন্ড আগে
রবিবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে বড়লেখায় তিন হাজার ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত

Barlekha-3-300x200বড়লেখা প্রতিনিধি::
মৌলভীবাজারের বড়লেখায় কালবৈশাখী ঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ে ঘরে চাল ও বেড়া উড়ে এবং শিলাবৃষ্টিতে টিন ছিদ্র হয়ে প্রায় তিন হাজার ঘরের ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতি হয়েছে বোরো ফসল ও সবজির। গত শুক্রবার দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে এই ঝড় ও শিলাবৃষ্টি আঘাত হানে। আকস্মিক কয়েকদফার এ কালবৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে লন্ডভন্ড হয়ে পড়ে জনজীবন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঝড় ও শিলাবৃষ্টি কমবেশি উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে আঘাত করেছে। ঘরবাড়ি ও ফসলের খেত তছনছ এবং গাছপালা উপড়ে ফেলেছে। ঝড়ে উড়ে গেছে বিভিন্ন ঘরের চাল ও বেড়া। শিলাবৃষ্টি পুরোনো টিনের চালে তৈরি করেছে অসংখ্য ছিদ্র। তাতে টিনের চালা সম্পূর্ণ ঝাঁজরা হয়ে গেছে।

রোববার ও আগেরদিন শনিবার সরেজমিনে দিনভর ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে। তবে বেশি ক্ষতি হয়েছে উপজেলার উত্তর শাহবাজপুর, দক্ষিণভাগ দক্ষিণ ও দক্ষিণভাগ উত্তর ইউনিয়নে। উত্তর শাহবাজপুর ইউনিয়নের বড়আইল, কুমারসাইল, করমপুর, ইসলামপুর, আতুয়া, আলিমপুর, সায়পুর, ভূগা, চানপুর গ্রাম ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।

এর মধ্যে সীমান্তবর্তী বড়আইল, আতুয়া ও কুমারসাইলে প্রায় পাঁচ শতাধিক বরবটি ও ঝিঙ্গা খেত শিলাবৃষ্টিতে তছনছ হয়ে গেছে।

উত্তর শাহবাজপুর ইউনিয়নের কুমারসাইল চা-বাগানের বড় টিলাবাবু (টিলা বাবু চা-বাগানের পদবি) সাধন দেব জানিয়েছেন, তাদের বাগানের শ্রমিকদের ৪২টি ঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। চা-সেকশনের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এতে বাগানের প্রায় কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে তিনি জানান।

বড়আইল গ্রামের সবজি চাষী ছমির উদ্দিন (৫৫) জানান, তাঁর রামাই (বরবটি) খেতে ৩০/৩৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছিল। প্রতিবারের মতো আশা করেছিলেন দুই-আড়াই লাখ টাকার রামাই বিক্রি করতে পারবেন। শিলাবৃষ্টিতে সব তছনছ হয়ে গেছে। এখন চোখে পথের দিশা দেখছেন না।

একই গ্রামের সবজি চাষী রমজান আলী (৫৫) ও আব্দুল ওহাব বাবু (৫৮) বলেন, কি পরিমান ক্ষতি হয়েছে তা চোখে না দেখলে বোঝা যাবে না।

উত্তর শাহবাজপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. আকবর আলী জানিয়েছেন, ৩৫-৪০ বছরেও এরকম শিলাবৃষ্টি হয়নি। ক্ষয়ক্ষতির খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। আমার ইউনিয়নে অন্তত দুই হাজার ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত ক্ষতিগ্রস্তদের সাহায্য ও ঘর নির্মাণের জন্য বিনা সুদে ঋণ প্রদানের দাবি জানান।

অপরদিকে দক্ষিণভাগ দক্ষিণ ইউনিয়নের গজভাগ, দোহালিয়া, পূর্ব দক্ষিণভাগ, জ্যোতিরবন্দ, পাথারিয়া, মোকাম ও সমনবাগ চা-বাগান এবং দক্ষিণভাগ উত্তর ইউনিয়নের কেরামতনগর চা-বাগানসহ বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

অন্যদিকে দক্ষিণভাগ উত্তর ইউনিয়নের কাঁঠালতলী, উত্তরভাগ, মুছেগুল, গৌরনগর, শিমুলিয়া, চুকারপুঞ্জি, লক্ষীছড়া, বিওসি কেছরিগুলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্থ এসব এলাকা পরিদর্শন করেছেন দক্ষিণভাগ উত্তর ইউনিয়নের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান এনাম উদ্দিন।

বড়লেখা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম সুন্দর বলেন, ‘শিলাবৃষ্টিতে ক্ষয়ক্ষতির খবর শুনে সরেজমিনে এলাকা ঘুরে তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। এ পর্যন্ত প্রায় দুই থেকে তিন হাজারের মতো ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। এছাড়া বোরো ফসল ও সবজির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

রোববার বিকেলে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আজাদের রহমান জানান, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণের কাজ চলমান। এখন পর্যন্ত কোন সাহায্য পাওয়া যায়নি। মৌখিকভাবে জেলা প্রশাসক স্যারকে জানানো হয়েছে।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: