সর্বশেষ আপডেট : ৭ ঘন্টা আগে
শুক্রবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

সিলেটের উন্নয়নে অর্থ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ

Sylhet-

খলকু কামাল, নিউ ইয়র্ক::

মাননীয় অর্থমন্ত্রী
২০০৮ সালে জাতীয় নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে আপনি বলেছিলেন সিলেটকে আলোকিত করে গড়ে তুলবেন। গত ৭ বছরে আপনার আমলে সিলেটে কয়েক শত কোটি টাকার উন্নয়ন হয়েছে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ বাজেটের দুটি বড় কাজ হয়েছে আর তা হলো ১৯৭ কোটি টাকা দিয়ে বাদাঘাটে নতুন জেলা কারাগার নির্মাণ ও আমার স্থায়ী নিবাস ভেঙে পশ্চিম কাজিরবাজারে ১৮৭ কোটি টাকা দিয়ে ব্রিজ নির্মাণ। পাশাপাশি ৬৫ কোটি দিয়ে সিলেট এয়ারপোর্টে রিফুয়েলিং স্টেশন স্থাপন। কিন্তু দুঃখজনক হলে সত্যি, আজ পর্যন্ত সিলেট বিমানবন্দরে বিমান ছাড়া অন্য কোন বিদেশী বিমান উঠানামার পারমিশন দেয়া হচ্ছে না। কারণ, বিমানের নাকি ব্যবসা একেবারে ধ্বংস হয়ে যাবে। এ অজুহাত তৈরি করে বিমানের চেয়ারম্যান ফাইলটি তার ডিপ ফ্রিজে রেখেছেন। অথচ চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে, এয়ার এরাবিয়ান, ওমান এয়ার, ফ্লাই দুবাই উঠানামা করে তখন কি বিমানের ব্যবসা বারোটা বাজেনি?

আপনি আরও বললেন, আম্বরখানা ভয়াবহ ট্রাফিক জ্যামের স্থায়ী সমাধানে আম্বরখানার বালুচর থেকে লাক্কাতুরা পর্যন্ত ৭০ কোটি দিয়ে একটি বাইপাস সড়ক নির্মাণ করা হবে। দুঃখজনক হলে সত্যি, গত ৭ বছরেও এই বাইপাস নির্মাণের কোন বাস্তবমুখী ও আন্তরিক উদ্যোগ নিতে আমরা দেখিনি। এ সড়কের নির্মাণ কাজ কবে শুরু ও শেষ হবে, একমাত্র আল্লাহ ছাড়া আর কেউই জানে না।

আপনার প্রবাসী নগর নিজ জেলা শহর উত্তর সিলেটে ৫ লাখ মানুষের নিরাপত্তার স্বার্থে একটিমাত্র ফায়ার সার্ভিস স্টেশন রয়েছে। এটা কোন অবস্থায় পর্যাপ্ত নয়। সিলেট বিভাগীয় ফায়ার সার্ভিস দপ্তর থেকে ঢাকা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ে সুপারিশ করা হয়েছে, প্রবাসী অধ্যুষিত সিলেট সিটি কর্পোরেশনে ন্যূনতম আরও ৪টি নতুন ফায়ার সার্ভিস স্থাপন জরুরি। কিন্তু বাস্তবে এর কোন উদ্যোগ কারও পক্ষ থেকে নেয়া হচ্ছে না। গত ৪-৫ বছর থেকে ঢাকা, চট্টগ্রাম, ফরিদপুর ও কক্সবাজারে উন্নয়নের জোয়ার বইছে। কিন্তু সে তুলনায় সিলেটে একেবারে নগণ্য উন্নয়ন হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, গত ৭ বছরে চট্টগ্রামে ৫ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প কাজ সম্পূর্ণ হয়েছে। আরও হচ্ছে ঢাকা-চট্টগ্রাম ডাবল রেললাইন নির্মাণ, খরচ হচ্ছে ৬ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। ৩৮১২ কোটি টাকা দিয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ককে চারলেনে রূপান্তর করা হচ্ছে। চট্টগ্রাম কর্ণফুলীতে চ্যানেল নির্মাণ ব্যয় সাড়ে ৮ হাজার কোটি। কক্সবাজারে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মাণে খরচ প্রায় ১৯০০ কোটি। অথচ এসব একনেকের বৈঠকে আপনার উপস্থিতিতে বাজেটগুলো পাস হয়। কিন্তু আপনি তো প্রধানমন্ত্রীকে বলতে পারতেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আখাউড়া থেকে সিলেট পর্যন্ত ডাবল রেললাইন নির্মাণ ঢাকা-সিলেট মহাসড়ককে চারলেনের বাজেট একনেকের বৈঠকে জরুরি ভিত্তিতে পাস করার উদ্যোগ নিতে হবে।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা, ‘সিলেট মেডিকেল কলেজকে পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর’-এর কার্যক্রম অতি দ্রুত শুরু করা। পাশাপাশি প্রতিটি বিভাগে সরকারি নীতিমালা মোতাবেক সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজকে পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর দায়িত্ব শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে একান্তভাবে কথা বলে আপনাকে নিতে হবে।
শুধু কি তাই, আপনি রেল ও সড়ক সেতুমন্ত্রীকে শক্ত ভাষায় বলতে পারতেন, সিলেট-আখাউড়া ডাবল রেললাইন নির্মাণ করতে হবেই। একনেকের বৈঠকে বাজেট পাস করার দায়িত্ব আমার। তাই সড়ক ও রেলমন্ত্রী আপনার অর্ডার অগ্রাহ্য করতেন না। এখনও সময় আছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বলুন, ‘আগামী ২০১৮ সালের ডিসেম্বর মাসের ভিতর সিলেট শহর ও শহরতলিতে নতুন আরও চারটি ফায়ার সার্ভিস চালুর ব্যবস্থা করুন। আমি অর্থমন্ত্রী বাজেটের ব্যবস্থা করবো।’
সিলেট শহরবাসীর গর্ব ও অহংকার মাননীয় মন্ত্রী মহোদয়!

আমরা চাই আপনি সিলেট শহর ও শহরতলির জন্য এমন কিছু করে যান, যাতে আপনার অনুপস্থিতিতে সিলেট জেলা ও আপনার জন্মভূমি সিলেট শহরবাসী আপনাকে আজীবন শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করে এবং ইতিহাসের পাতায় প্রতিটি নর-নারীর হৃদয়ে আপনার নাম অম্লান হয়ে থাকে।

মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী
আপনার অবগতির জন্য বলছি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশের বিভিন্ন এলাকা সফর অথবা যে কোন মিটিং করতে গিয়ে দাবি-দাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষা বিষয়ে কী পরিমাণ ওয়াদা ও প্রতিশ্রুতি দেন তার কোন সঠিক হিসাব আপনার কাছে আছে কি? এ পর্যন্ত তিনি বলছেন, দেশের প্রতিটি জেলা সদরে একটি করে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা হবে। উপজেলা সদরে একটি করে কলেজ ও স্কুলকে সরকারিকরণ করা হবে। পাশাপাশি আপনি বলছেন, প্রতিটি উপজেলার একটি করে কারিগরি স্কুল নির্মাণ করা হবে। এখন মাননীয় মন্ত্রীর প্রতি শ্রদ্ধা ও সম্মান রেখে আপনার কাছে জানতে চাই, গত ৭ বছর থেকে আপনি শিক্ষামন্ত্রী থাকার পর এ পর্যন্ত ৪৯০টি উপজেলার মধ্যে কয়টি উপজেলা সদরে কারিগরি স্কুল নির্মিত হয়েছে? অথবা ৬৪টি জেলার মধ্যে নতুন কোন বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন হয়েছে কি?

আমি আরও জানতে চাই, আপনার নিজ বিভাগের ৩৮টি উপজেলার মধ্যে কোন উপজেলায় কারিগরি স্কুল অথবা একটি কলেজ অথবা একটি স্কুলকে সরকারিকরণ করেছেন? অথবা আপনার নিজ আসন বিয়ানীবাজার, গোলাপগঞ্জে কি কারিগরি স্কুল নির্মাণ করেছেন? দয়া করে জানালে আমিসহ শত শত মানুষ উপকৃত হবো।
আমি দেশের পত্রপত্রিকা পড়ে অবহিত হয়েছি, দেশে উচ্চশিক্ষায় ভর্তি সংকট খুবই প্রকট। দেশ ও জাতির স্বার্থে আমার প্রস্তাব যে, দেশের বড় বড় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে লেখাপড়ার চাপ কমাতে হলে জরুরি ভিত্তিতে দেশের ১৯টি পুরোনো জেলা শহরে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী কলেজগুলোকে পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নীত করলে রাতারাতি ভাল ফল পাওয়া যাবে। শুধু শিক্ষক-কর্মচারী ও বর্তমান কলেজের উপর নতুন ভবন নির্মাণ করলে চলবে। পাশাপাশি একইভাবে এই ১৯ জেলা সদরের সরকারি মহিলা ডিগ্রি কলেজগুলোকে পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে রূপান্তর করলে মেয়েরা পরিপূর্ণ নিরাপত্তার সঙ্গে কম খরচে নিজ নিজ জেলা শহরে মাস্টার্স কোর্স সম্পন্ন করতে পারবে। সরকারি নীতিমালা মোতাবেক দেশের ৬৪টি জেলা শহরে একটি করে পলিটেকনিক্যাল ইনস্টিটিউশন স্থাপন করে এর সঠিক বাস্তবায়ন জরুরি। আপনার একান্ত অবগতির জন্য আরও বলছি, আওয়ামী লীগের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী মরহুম আব্দুস সামাদ আজাদের সাথে ১৯৯৬ সালে সিলেট সার্কিট হাউসে সিলেট শহরস্থ সরকারি মহিলা কলেজের একটি প্রতিনিধি দল সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি বলেছিলেন, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সিলেট মহিলা কলেজকে পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে রূপান্তর করা হবে। এর পর মরহুম সাইফুর রহমান ও স্পিকার হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীও বলেছিলেন, মহিলা কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয় করা হবে। বড় বড় দলের শীর্ষ নেতারা এত আশ্বাস ও ওয়াদা দেয়ার পরও গত দীর্ঘ ২০ বছরে বাস্তবে দাবিটি পূরণ হয়নি।

মাননীয় শিক্ষামন্ত্রীর অবগতির জন্য বলছি, গত ২১শে জানুয়ারি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সিলেট মদন মোহন কলেজে বলেছেন, সিলেটকে শিক্ষা ক্ষেত্রে এগিয়ে নেয়ার জন্য সিলেট জেলা থেকে শিক্ষামন্ত্রী নিয়োগ করেছি, অতএব সিলেটের শিক্ষার যাবতীয় সমস্যা তিনি দেখাশোনা ও বাস্তবায়ন করবেন। এখন আপনার কাছে আমার জানতে ইচ্ছে করছে, আপনি গত ৭ বছর থেকে শিক্ষামন্ত্রী থাকার পর সিলেট মহিলা কলেজকে আজ পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ মাস্টার্স কোর্স চালু না করা কি আপনার জন্য চরম ব্যর্থতা নয়?

এর আগে শিক্ষা সচিব ছিলেন মো. সাদিক। বর্তমানে আছেন সিলেট শহরের কৃতী সন্তান অতিরিক্ত সচিব চৌধুরী সুফাদ আহমদ। আপনারা দুজন মিলে শিক্ষার ক্ষেত্রে সিলেট বিভাগকে অনেক কিছু দিতে পারেন। ইচ্ছে করলে আন্তরিকতার সাথে আগামী ২০১৯ নির্বাচনের আগে সিলেট বিভাগের ৩৮টি উপজেলার শিক্ষা বিষয় সমস্যা একেবারে সমাধান করে দিতে পারেন। সে ক্ষমতা আপনাদের রয়েছে। আপনার, অর্থমন্ত্রীর এবং আপনার সচিব মুফাদের শিক্ষা নিবাস সিলেট এমসি কলেজকে এ সুযোগে অনায়াসে পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর করে নিতে পারেন। এতে ইতিহাসের পাতায় যুগ যুগ আপনার নাম অম্লান হয়ে থাকবে। এখনও এ সরকারের তিন বছর মেয়াদ রয়েছে। এর ভিতর ৩৮টি উপজেলার যে সমস্ত কলেজ এখনও সরকারি হয়নি, সেগুলোকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সরকারি করা হোক।
আপনার কাছে আরও জোরালো দাবি, প্রতিটি উপজেলার মেয়েরা যাতে পর্যাপ্ত নিশ্চিত নিরাপত্তার সঙ্গে লেখাপড়া করতে পারে, তার জন্য ৪৮৭টি উপজেলা সদরে একটি করে সরকারি মহিলা ডিগ্রি কলেজ ও একটি করে সরকারি বালিকা হাইস্কুল স্থাপন করুন।

এবার আপনার আসন বিয়ানীবাজার ও গোলাপগঞ্জ নিয়ে আলোচনা করবো। প্রতিটি উপজেলার গুরুত্ব বাড়ছে। বাড়ছে জনসংখ্যার চাপ। গ্রামের প্রতিটি মানুষ উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজনে জেলা শহরমুখী হচ্ছে। তাই প্রবাসী অধ্যুষিত বিয়ানীবাজার ও গোলাপগঞ্জের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স দুটিকে ১০০ শর্যায় উন্নীত করা, সকল বিভাগে ডাক্তার, নার্সসহ সকল সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিতকরণ ও ডায়ালিসিস সার্ভিস চালু। সিলেট জেলার বড় দুটি নদী সুরমা ও কুশিয়ারার উপর বর্তমান সরকার বড় বড় ৩টি সেতু নির্মাণ করেছেন। যেমন পশ্চিম কাজিরবাজার, কানাইঘাট ও ঢাকা দক্ষিণ। সম্পূর্ণ কৃতিত্ব আপনার সরকারের। তাই পাশাপাশি কুশিয়ারা নদীর উপর অবশিষ্ট ২টি ব্রিজ যেমন আপনার নিজ আসন শিকপুর বহর গ্রাম ও প্রতিবেশী বালাগঞ্জ উপজেলা সদরে এ ২টি ব্রিজ নির্মাণের দায়িত্ব আপনাকে নিতে হবে এবং আগামী ২০১৯ সালের নির্বাচনের আগে নির্মাণ কাজ সম্পর্ণ করতে হবে। এজন্য দরকার সড়ক ও সেতুমন্ত্রীর সাথে শক্ত লবিং ও একান্ত বৈঠক করে ব্রিজ ২টি পরিদর্শন করিয়ে আগামী একনেকের বৈঠকে বাজেট পাস করিয়ে নির্মাণ কাজ শুরু ও শেষ করতে হবে। কারণ ২০১৩ সালের ১৭ই আগস্ট সিলেটের ডাকের প্রতিবেদনে দেখা যায়, আপনি শিকপুরবহর গ্রাম সেতুর স্থান পরিদর্শন করতে গিয়ে বললেন, ৫০ কোটি ব্যয়ে এ ব্রিজ নির্মাণ হবে। এখন জানতে চাই, এ ব্রিজ নির্মাণ কাজ কি আদৌ শুরু হয়েছে? আর হয়ে থাকলে কবে শেষ হবে।

সাথে সাথে গোলাপগঞ্জ সদরে এখনও সরকারি নীতিমালা মোতাবেক এবং একজন পাওয়ারফুল মন্ত্রী থাকার পরও ফায়ার সার্ভিস স্টেশন স্থাপন হয়নি। এটা আপনার জন্য অবশ্যই লজ্জার। তাই বলছিলাম নিজ নিজ এলাকার জন্য এমন কিছু উন্নয়নমূলক কাজ করে যান, যাতে আপনার অনুপস্থিতিতে এলাকার লোকজন আপনাকে আজীবন শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করে।

মাননীয় অর্থ প্রতিমন্ত্রী
২০১৪ সালের নির্বাচনের পরে অর্থ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব বুঝে নেয়ার কিছু দিন পর সিলেট চেম্বার অব কমার্সের শীর্ষ ব্যক্তিদের সঙ্গে বৈঠকে আপনি বলেন, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সিলেট-ঢাকা মহাসড়ককে চারলেনে রূপান্তরের নির্মাণ কাজ শুরু হয়ে ২০১৯-এর ভিতরে শেষ হবে। মন্ত্রী মহোদয় এসব কথা বলার দু’টি বছর অতিবাহিত হয়েছে, এখনও একনেকের বৈঠকে বাজেট পাস হয়নি। এমনকি প্রধানমন্ত্রী গত ২১শে জানুয়ারি সিলেট আলিয়া মাদরাসা ময়দানে এ বিষয় নিয়ে কোন টুঁ শব্দ উচ্চারণ করেনি। এর আগে গত ২০১৪ জাতীয় নির্বাচনে জয়ী হয়ে সুনামগঞ্জের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের এক বৈঠকে বলেছিলেন, সুনামগঞ্জ-নেত্রকোনা রাস্তা নির্মাণ শেষ পর্যায়ে। বাকি রয়েছে মাত্র ৬ মাইল রাস্তা। জনাব মন্ত্রী, পত্রপত্রিকার মাধ্যমে যে তথ্য পাই, তাহলো, এ পর্যন্ত সুনামগঞ্জ থেকে জামালগঞ্জ পর্যন্ত যে রাস্তা নির্মাণ হয়েছে, তাকে কোন অবস্থায় মহাসড়ক বলা যায় না। ১০-১২ ফুটের রাস্তা দিয়ে কোনভাবেই ২টি বড় বাস-ট্রাক যাতায়াত করতে পারবে না। বর্তমান যুগোপযুগী সময়ে রাস্তাকে দুলেনের ন্যূনতম ৩০ ফুট চওড়া সড়ক নির্মাণ করতে হবে। পাশাপাশি সুনামগঞ্জ-দিরাই রাস্তার কাটইর মোড় থেকে জামালগঞ্জ পর্যন্ত যে ছোট্ট রাস্তা নির্মাণ হয়েছে সেটাকে আরও অধিক সম্প্রসারণ করা অতি জরুরি। জামালগঞ্জ উপজেলা সদরে সুরমা নদীর উপর ব্রিজ নির্মাণ করতে হবে এবং জামালগঞ্জ থেকে সরাসরি ধর্মপাশা পর্যন্ত ২০১৮ সালের ভিতর স্বপ্নের সুনামগঞ্জ-নেত্রকোনা সড়ক সম্পূর্ণভাবে নির্মাণ কাজ শেষ হবে কি?

গত ২০১৫ সালের প্রথম দিকে রানীগঞ্জের উপর কুশিয়ারা নদীর উপর ব্রিজ নির্মাণের বাজেট পাস হওয়ার পরও আজ পর্যন্ত নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে কি? আর হয়ে থাকলে কত বছরে এর পুরো নির্মাণ কাজ শেষ হবে? আপনি আরও বললেন, আপনার শেষ স্বপ্ন যে সুনামগঞ্জ সদরে একটি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করবেন। আসলে নতুন বিদ্যালয় স্থাপন খুবই ব্যয়বহুল। কারণ, পুরাতন ১৯ জেলা সদর ছাড়া অন্য কোন জেলাতে নতুন বিদ্যালয় স্থাপনের কোন লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। এটা শুধু নামে নীতিমালা। এর চেয়ে ভাল ও উত্তম হবে আপনার নিজ জেলার সরকারি ডিগ্রি কলেজকে পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর করা যাতে সুনামগঞ্জের ছাত্রছাত্রীরা পরিপূর্ণ নিরাপত্তার সঙ্গে কম খরচে, সুন্দর পরিবেশে, নিজ নিজ জেলা শহরে মাস্টার্স কোর্স সম্পন্ন করতে পারবে।

আপনার অবগতির জন্য আরও বলছি, গত ২০১০ সালের ১১ই নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী তাহিরপুরে এক মিটিংয়ে সুনামগঞ্জের সার্বিক উন্নয়নে ঘোষণা দিয়ে বলেন, সকল উপজেলার একটি করে ফায়ার সার্ভিস স্টেশন স্থাপন হবে। সকল উপজেলা হাসপাতালগুলোকে ৫০ শয্যায় উন্নীত হবে। রানীগঞ্জে ব্রিজ নির্মাণ হবে টাঙ্গর হাওরে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে। এখন আপনি সংসদে স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে জানতে পারেন, গত ৪ বছর আগে তার ঘোষণার একটি দাবিও আজ পর্যন্ত বাস্তবায়ন হয়নি কেন? এর জন্য দায়ী কে? এখন সুনামগঞ্জবাসী জানতে চায়, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ওয়াদা কবে কখন সত্যিকার অর্থে বাস্তবায়ন হবে। মাননীয় প্রতিমন্ত্রী, আপনার পদ অতি গুরুত্বপূর্ণ। আপনি ইচ্ছে করলে সুনামগঞ্জের চেহারা বদলে দিতে পারেন। তাই এখনও সময় আছে, আপনি আন্তরিকতার সাথে অর্থ, সড়ক ও সেতু এবং প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে শক্তিশালী লবিং করে জেলার অতি গুরুত্বপূর্ণ ৫টি দাবিকে, যেমন জেলা সদর সরকারি হাসপাতালকে ৫০০ আসনে উন্নীতকরণ, সরকারি নীতিমালা মোতাবেক জেলা শহরে একটি ৫০ আসনের মেডিকেল কলেজ স্থাপন, সরকারি নীতিমালা মোতাবেক জেলা শহরে একটি পলিটেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট স্থাপন, সরকারি নীতিমালা মোতাবেক জেলায় বর্তমান ভাড়াটে পাসপোর্ট অফিসের স্থলে একটি নতুন নিজস্ব পাসপোর্ট অফিস নির্মাণ। এতে ইতিহাসের পাতায় আপনার নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে এবং প্রতিটি মানুষ আপনাকে শ্রদ্ধা ও সম্মান এবং কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করবেন।

জনাব, সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত
গত টার্মে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন আপনার আমন্ত্রণে আওয়ামী লীগের সাবেক শীর্ষ নেতা মরহুম আবদুল জলিল ও বর্তমান মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদকে নিয়ে আপনার এলাকা দিরাই সফরকালে একটি মিটিংয়ে হাজার হাজার উপজেলাবাসীর সামনে বলেছিলেন, আগামীতে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় গেলে দিরাই থেকে শাল্লা হয়ে আজমিরীগঞ্জ ভায়া বানিয়াচং হয়ে ঢাকার সাথে একটি আঞ্চলিক বিকল্প সড়ক নির্মাণ করবেন। এখন আমার মতো অনেকেই জানতে চায়, গত ৭ বছরে আপনার সরকার ক্ষমতায় থাকার পরও এ রাস্তা নির্মাণের কোন উদ্যোগ নিয়েছেন কি? আপনার তো বিশাল পাওয়ার! ইচ্ছে করলে অর্থমন্ত্রী, যোগাযোগমন্ত্রী অথবা প্রধানমন্ত্রীর সাথে একান্ত বৈঠক করে বলতে পারেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী! ৭৫ পাড়ি দিয়েছি। যেকোনো সময় ডাক আসলে না ফেরার দেশে চলে যেতে হবে। বিশেষ করে এই পড়ন্ত বয়সে চাওয়া-পাওয়া আর তেমন নেই। ২০০৮ সালে নির্বাচনের সময় আপনার দেয়া প্রতিশ্রুতি মোতাবেক শাল্লা থেকে আজমিরীগঞ্জ পর্যন্ত ১০-১১ মাইলের নতুন একটি রাস্তা নির্মাণ করে দিন, আগামী একনেকের বৈঠকে বাজেটটি পাস করুন। অবহেলিত শাল্লা-আজমিরীগঞ্জ রাস্তা নির্মাণ হলে সুনামগঞ্জ ও হবিগঞ্জ জেলার লাখ লাখ মানুষ উপকৃত হবে। বদলে যাবে শাল্লা-আজমিরীগঞ্জ উপজেলার চেহারা। স্থাপিত হবে একটি আধুনিক যোগাযোগ নেটওয়ার্ক।
মাননীয় এমপি, সংসদে যখন কোন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে আপনার বাঘের গর্জন শুনতে পাই তখন আমরা সিলেটবাসী আপনাকে নিয়ে গর্ববোধ করি। কারণ বর্তমান সংসদে আপনার মতো প্রজ্ঞাবান কোন সদস্য নেই। আপনার বিকল্প শুধু আপনি নিজেই। আপনি সংসদে বিভিন্ন মন্ত্রীকে সরাসরি প্রশ্ন করে জানতে পারেন। বিশেষ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে, প্রধানমন্ত্রী গত ২০১০-১১ নভেম্বর তাহিরপুরে বলে গেছেন, সুনামগঞ্জের প্রতিটি উপজেলায় একটি করে ফায়ার সার্ভিস স্টেশন স্থাপন হবে। গত ৫ বছরে কোন একটি উপজেলায় ফায়ার সার্ভিস স্থাপন হয়েছে কি?
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আরও বলেছেন, ‘প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৫০ শয্যা করে তোলা হবে এবং রাণীগঞ্জে ব্রিজ নির্মাণ যাতে সুনামগঞ্জবাসী এ পথ দিয়ে সহজে ঢাকায় যাতায়াত করতে পারেন।’ বৃহত্তর সিলেটবাসীর গর্ব ও অহংকার মাননীয় এমপি।
সড়ক ও সেতুমন্ত্রীর কাছে প্রশ্ন করতে পারেন এখনও সুনামগঞ্জ যোগাযোগ ক্ষেত্রে অনেক পিছনে কেন? ২০০১ সালের ১লা নভেম্বর বর্তমান প্রধানমন্ত্রী সুনামগঞ্জ-নেত্রকোনা সড়কের জন্য ২৫৫ কোটি বরাদ্দ করার পরও আজও এ রাস্তাটি নির্মাণ কাজ শেষ হয়নি কেন। এর কারণ কি? আজও সুনামগঞ্জের বড় বড় ৪টি ব্রিজ নির্মাণের কোন লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না কেন।
ছাতক, দোয়ারা, জামালগঞ্জ ও রানীগঞ্জের নির্মাণ কাজ কবে শুরু হয়ে শেষ হবে, তা একমাত্র আল্লাহই ভালো জানেন। আর সুনামগঞ্জ-নেত্রকোনা মহাসড়ক দু’লেনের ন্যূনতম ৩৩ ফুটের রাস্তা নির্মাণ করতে হবে, যাতে বড় বড় বাস-ট্রাক সরাসরি যাতায়াত করতে পারে।

আপনার আরও অবগতির জন্য বলছি, গত ১১ ফেব্রুয়ারি নিউ ইয়র্কের জ্যামাইকার একটি হোটেলে আপনার সাথে সিলেটের একটি প্রতিনিধি দল সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে আপনি আমাদেরকে আশার বাণী দিয়ে বলেছিলেন, সিলেট-আখাউড়ার মধ্যে যাতে ডাবল রেললাইন নির্মাণ হয় তার জন্য শক্ত ভূমিকা সংসদে ও বাইরে তুলে ধরবেন। যাতে এর বাজেট দ্রুত পাস হয়। আমরা চাই, ২০১৯ নির্বাচনের পূর্বে সিলেট-আখাউড়া ডাবল রেললাইনের নির্মাণ কাজ দ্রুত সম্পূর্ণ হোক। পাশাপাশি আপনার নিজ এলাকা দিরাই-শাল্লা-আজমিরীগঞ্জ ভায়া বানিয়াচং পর্যন্ত একটি বিকল্প সড়ক নির্মাণ হলে বৃহত্তর সিলেটবাসী আজীবন আপনাকে শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করবে এবং ইতিহাসের পাতায় আপনার নাম অম্লান হয়ে থাকবে। আপনার সর্বাঙ্গীণ সুস্বাস্থ্য কামনা করি। শুধু একটি কথা বলে শেষ করছি, বৃহত্তর সিলেটের যোগাযোগ উন্নয়নে ঝাঁপিয়ে পড়–ন আমরা আছি আপনার পাশে।মাজ

9340_kholkuলেখক, গবেষক ও সমাজসেবক
৩ এপ্রিল ২০১৬, নিউ ইয়র্ক

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: