সর্বশেষ আপডেট : ২৯ মিনিট ২ সেকেন্ড আগে
সোমবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

আপনার সন্তান অটিজমে আক্রান্ত কি না, বুঝবেন কিভাবে

full_1713898295_1460280608লাইফস্টাইল ডেস্ক:
অটিজমে আক্রান্ত শিশুকেই অটিস্টিক শিশু বলে। ‘অটিজম’ শিশুমনের এক অদ্ভুত রোগ। ১৯৪৩ সালে আমেরিকান চিকিৎসক লিও ক্যানার শিশুদের আচরণ গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করে ১১টি শিশুর মধ্যে আচরণগত বৈসাদৃশ্য লক্ষ্য করেন এবং এসব অস্বাভাবিক আচরণ করা শিশুদের অটিজম রোগী হিসেবে আখ্যায়িত করেন।

রোগ চেনার উপায়
সাধারণত শিশুর বয়স ১৮ মাস থেকে তিন বছরের মধ্যে এ রোগ শনাক্ত করা সম্ভব হয়। যত দ্রুত রোগটি শনাক্ত করা যায়, শিশুর জন্য ততই মঙ্গল। সাধারণত শিশুদের মধ্যে নিচের বৈশিষ্ট্যগুলো থাকলে অটিজম শনাক্ত করা সম্ভব হয়।

* ভাষার বিকাশ হতে বিলম্ব হয় (এক বছর বয়সে অর্থবহ অঙ্গভঙ্গি, ১৬ মাস বয়সে একটি শব্দ এবং দুই বছর বয়সে দুটি শব্দের বাক্য বলতে পারে না)।
* সমবয়সী কিংবা অন্যদের সঙ্গে সামাজিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারে না।
* ডাকলেও সাড়া দেয় না এবং আপন মনে থাকতে পছন্দ করে।
* অন্যদের চোখের দিকে তাকায় না। কিংবা আদর করলেও ততটা সাড়া দেয় না।
* একই জিনিসের পুনরাবৃত্তি করে এবং একই কাজ বারবার করতে পছন্দ করে।
* কাজকর্ম এবং সক্রিয়তা সীমিত বা গণ্ডিবদ্ধ।
* পরিবেশ এবং আশপাশের কোনো পরির্বতন খুবই অপছন্দ করে।
* কখনো কখনো অতিসক্রিয়, আবার কখনো কখনো খুব কম সক্রিয় হয়। অতিসক্রিয়তা থেকে কখনো কখনো খিঁচুনি হতে পারে।
* সাধারণত, দোলনা বা রকিং চেয়ার বা এ জাতীয় পুনরাবৃত্তিমূলক খেলা পছন্দ করে।
* সাধারণত খেলনা দিয়ে কোনো গঠনমূলক খেলা খেলতে পারে না।
* কখনো মনে হতে পারে যে এরা কানে শুনতে পায় না।
* মাকে বা অন্য কোনো প্রিয়জনকে জড়িয়ে ধরে না এবং তাদের কেউ ধরলেও তেমন প্রতিক্রিয়া দেখায় না অথবা অত্যন্ত ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে।
* কোনো বিশেষ কিছুর প্রতি অত্যধিক আকর্ষণ থাকে। যেমন কাগজ ছেঁড়া, পানি বা তরল পদার্থ দিয়ে খেলা, চাল বা ডাল জাতীয় দানাদার কিছু দিয়ে খেলা ইত্যাদি।
* কোনো বিশেষ সংবেদনের প্রতি অস্বাভাবিক আচরণ করে। যেমন- আলোতে চোখ বন্ধ করা, শব্দ শুনলে কানে হাত দেয়া, দুর্গন্ধে কোনো প্রতিক্রিয়া না করা, স্বাদে তেমন কোনো অভিব্যক্তি প্রকাশ না করা ইত্যাদি।

অটিজমের কারণ
এখনো পর্যন্ত অটিজম কেনো হয়, তার সঠিক কারণ উদ্ঘাটন সম্ভব হয়নি। জন্মপরবর্তীকালের কোনো জটিলতা কিংবা শিশুর প্রতি অমনোযোগিতার ফলে এ রোগের সৃষ্টি হয় না। কাজেই কোনো মা-বাবা ও আত্মীয়স্বজন নিজেদের দোষী ভাবা অথবা মা-বাবাকে দায়ী করার কোনো যৌক্তিকতা নেই। আমাদের দেশে সঠিক তথ্য না থাকলেও গড়ে প্রতি হাজারে ১০ থেকে ২০টি শিশু এ রোগে আক্রান্ত বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। উন্নত দেশগুলোতে এ সংখ্যা আরও বেশি বলে জানা গেছে।

অটিজমের চিকিৎসা
অটিজম সারিয়ে তোলার জন্য কোনো ধরনের কার্যকর চিকিৎসা এখনো পর্যন্ত আবিষ্কার হয়নি। কাজেই জাদুকরী বা নাটকীয় কোনো পরামর্শে বিভ্রান্ত হওয়া বোকামি। তবে নিজেদের সম্পূর্ণ অসহায় মনে করাটাও চিকিৎসাবিজ্ঞানের অগ্রযাত্রার এই যুগে সঠিক নয়। অটিস্টিক শিশুরা কখনো বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে অত্যন্ত পারদর্শী হয়। যথাযথভাবে তাদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হলে তারা সম্পূর্ণ স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারবে বিধায় তাদের প্রতিবন্ধী আখ্যায়িত করা সঠিক নয়।

অটিস্টিক শিশুদের প্রশিক্ষণ
আমাদের দেশেও বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান এ ধরনের শিশুদের নিয়ে কাজ করছে। প্রশিক্ষণকেন্দ্রগুলোর দায়িত্ব হলো, দ্রুত শিশুটিকে একটি পর্যায় থেকে অন্য পর্যায়ে উন্নীত করার পথটি উন্মুক্ত করা। এ ক্ষেত্রে মা-বাবা এবং পরিবারের অন্য সদস্যদের নিম্নলিখিত বিষয়গুলো প্রশিক্ষণ দিতে হবে।

* বেঁচে থাকার জন্য যে কাজগুলো করা অবশ্যই দরকার সেগুলো শেখাতে হবে।
* এ ধরনের শিশুদের সংবেদনশীলতা অত্যন্ত প্রখর অথবা অপ্রতুল হওয়ায় তাদের সংবেদনশীলতার সমন্বয় না করা হলে কোনো কিছু শিখতে কিংবা মনোসংযোগ করতে অনেক বিলম্ব হয়।
* শিশুদের সঙ্গে মুখোমুখি এবং একই উচতায় ও চোখে চোখ রেখে কথা বলতে হবে।
* ঠোঁটের নড়াচড়া এবং চোখ ও হাতের সঞ্চালন অনুসরণ করতে সাহায্য করতে হবে।
* স্বাভাবিকভাবে শিশুটি কোনো শব্দ উচারণ করলে তাকে অর্থপূর্ণ শব্দে রূপান্তর করার চেষ্টা করতে হবে।
* শুরুতে অতি দরকারী কিছু সহজ এবং একক সিলেবলযুক্ত শব্দ নির্বাচন করে সেগুলো শেখানোর চেষ্টা করতে হবে। যেমন-মা, বাবা, পানি, ভাত, জামা, জুতা, বই, বল ইত্যাদি।
* শেখানো কথাগুলো বারবার এবং প্রতিদিন পুনরাবৃত্তি করতে হবে, যাতে কোনোভাবেই শিশুটি শিখে ফেলা শব্দগুলো ভুলে যেতে না পারে।
* শরীরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ, ছবির বই, দরকারি জিনিসপত্র দেখিয়ে ধীরে ধীরে শেখানোর চেষ্টা করতে হবে।
* কথা বলতে না পারলে তাকে ছবির ভাষা দেয়ার চেষ্টা করতে হবে, যেন ছবি দেখিয়ে তার চাহিদা বোঝাতে পারে।
* ধীরে ধীরে অক্ষর, সংখ্যা, ছড়া গানের ক্যাসেট, ভিডিও ইত্যাদির প্রতি আকর্ষণ বাড়াতে হবে এবং শেখানোর চেষ্টা করতে হবে।

সামাজিকতা ও আচরণগত বিকাশ
* সমবয়সী শিশুদের সঙ্গে মিশতে ও ভাবের আদান-প্রদান করতে সহায়তা করতে হবে।
* কখনোই একা খেলতে দেয়া যাবে না।
* আদান-প্রদানমূলক খেলা, যেমন- বল দেয়া-নেয়া, গাড়ি দেয়া-নেয়া ইত্যাদি নিয়ম করে শিশুদের সঙ্গে খেলতে হবে। প্রথমে সহজ যেমন লুকোচুরি, টুকি ইত্যাদি থেকে ধীরে ধীরে গঠনমূলক খেলা খেলতে হবে।
* শিশুকে খেলার মাঠে বা পার্কে নিয়ে যেতে হবে এবং সহজভাবে চলাফেরা করতে দিতে হবে।
* তত্ত্বাবধানের সঙ্গে নিরাপত্তা নিশ্চিত করে অন্যদের সঙ্গে খেলায় সক্রিয় অংশগ্রহণের জন্য অনুপ্রাণিত করতে হবে।
* শিশুটিকে সব সামাজিক অনুষ্ঠানে নিয়ে যেতে হবে।
* ‘এটা ধরো না’, ‘ওটা করো না’, সারাক্ষণ এ জাতীয় নিয়ন্ত্রণ করা থেকে বিরত থাকতে হবে।
* কেউ যেন শিশুটিকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য না করে, বিরূপ সমালোচনা না করে এবং কোনো কঠিন আচরণ না করে, এর প্রতি সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে।

জরুরি বিষয়গুলো শেখাবেন যেভাবে
প্রথমেই নিশ্চিত হোন আপনার শিশুটি কী কী বিষয় যেমন- খাবার, খেলনা বেশি পছন্দ করে। এগুলো প্রশিক্ষণ সহায়কশক্তি হিসেবে ব্যবহার করতে হবে। প্রশিক্ষণ সহায়ক বিষয়টিকে শিশুর দৃষ্টিসীমার মধ্যে রেখে তাকে আশ্বস্ত করতে হবে যে, নির্দেশিত কাজটি করলে তার পছন্দের জিনিসটি দেয়া হবে। এভাবে শিক্ষণীয় কাজটি সে নির্ভুল করে একনাগাড়ে তিন-চারবার করতে পারলে তার চাহিদা পূরণ করতে হবে এবং তাকে পুরস্কৃত করতে হবে।

বিশেষজ্ঞ ও প্রশিক্ষণকেন্দ্র
ঢাকায় ঢাকা শিশু হাসপাতাল এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিশু নিউরোলজি বিভাগ, চট্টগ্রামে চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতাল ও শিশু বিকাশ কেন্দ্রে অটিস্টিক শিশুদের নিয়ে কাজ করেন এমন বেশ কয়েকজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এবং নার্সিং স্টাফ রয়েছেন। ঢাকায় অটিজম ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন, কেয়ারিং গ্লোরি, বিউটিফুল মাইন্ডসহ বেশ কিছু বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এ ধরনের শিশুদের নিয়ে কাজ করছে।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: