সর্বশেষ আপডেট : ৪১ মিনিট ৩৪ সেকেন্ড আগে
শনিবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

বিয়ানীবাজারের ওয়াহিদ বিলাসী স্বপ্ন নিয়ে পাড়ি দিয়েছিলেন ব্রাজিলে, সর্বস্ব হারিয়ে…

noyon-bg20160410120904নিউজ ডেস্ক::
মানবপাচারের আর্ন্তজাতিক মাফিয়া জাল ছড়িয়ে রয়েছে বাংলাদেশে। এ চক্রের ফাঁদে পড়ে আমেরিকা প্রবেশ করতে গিয়ে সর্বস্ব হারাচ্ছেন অনেক বাংলাদেশি। এ জাল মেক্সিকো থেকে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে এবং বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও ছড়িয়ে রয়েছে।

গত বুধবার (০৬ এপ্রিল) রাতে আমেরিকার ডিটেনশন ক্যম্প থেকে ফেরত আসা বাংলাদেশিদের মুখে শোনা যায়, দক্ষিণ আমেরিকার এই মাফিয়া জালে বাংলাদেশিদের দংশিত হওয়ার খবর।

সিলেটের বিয়ানীবাজারের আব্দুল ওয়াহিদ বিলাসী স্বপ্ন নিয়ে পাড়ি দিয়েছিলেন দক্ষিণ আমেরিকার ব্রাজিলে। বৃহস্পতিবার (০৭ এপ্রিল) তিনি জানান, ২০১২ সালে দালালের মাধ্যমে ট্যুরিস্ট ভিসায় ব্রাজিল যান তিনি। এজন্য এলাকার দালাল তার কাছ থেকে ১২ লাখ টাকা নেন। বাংলাদেশ থেকে পাচারকারীরা একসঙ্গে ১২ জনকে ব্রাজিল পাঠান। তিন বছর ব্রাজিল একটি মুরগির কারখানায় কাজ করেন তিনি। কিন্তু আয় বেশি ছিল না। তিন বছর পর ব্রাজিলে থেকে আবারো প্রতারণার ফাঁদে পা বাড়ান ওয়াহিদ। ১০ হাজার ডলারের বিনিময়ে মেক্সিকো হয়ে আমেরিকা প্রবেশের জন্যে দালালের সঙ্গে চুক্তি করেন তিনি।

পায়ে হেঁটে, গাড়িতে, ট্রাকে, ঘোড়ার পিঠে, নৌকা দিয়ে নদী পার হয়ে মেক্সিকো পৌঁছায় তাদের ৭ জনের দল। এ পথ পাড়ি দিতে বিভিন্ন স্থানে সময়ক্ষেপণ ও সুযোগের জন্যে অপেক্ষা করায় দুই মাস সময় কেটে যায়। এ সময় এক মাফিয়া থেকে অন্য মাফিয়াদের হাতে বিক্রি হতে থাকেন তারা। চলে নির্মম নির্যাতন। সবশেষে মেক্সিকোতে মাফিয়ারা এক মাস একটি ঘরে আটকে রাখেন তাদের। এ সময় মুক্তিপণ হিসেবে বাড়ি থেকে ১০ লাখ টাকা পাঠানো হলে বাঁচিয়ে রাখা হয় ওয়াহিদকে। এর মাঝে মাঝে বাড়ি থেকে টাকা পাঠাতে দেরি হলে চলতো নির্যাতন।

ওয়াহিদ জানান, মেক্সিকোতে কোনো একটি অ্যাকাউন্ট থেকে একবারের বেশি টাকা আসতে পারে না অন্য দেশ থেকে। ফলে তার বড় ভাই ৫ লাখ টাকা ব্রাজিল হয়ে মেক্সিকোতে এবং ৫ লাখ টাকা ইংল্যন্ড হয়ে মেক্সিকো পাঠান।

ওয়াহিদ বলেন, এই মাফিয়া চক্র সারা পৃথিবীতেই জালের মতো বিস্তার করে রয়েছে।

তিনি জানান, টাকা পাওয়ার পর পাচারকারী মাফিয়া সদস্যরা মেক্সিকো ইমিগ্রেশনে টাকা দিয়ে পার করিয়ে দেন। আমেরিকার পুলিশের হাতে বন্দি হন তারা। তবে নিজেদের শরণার্থী হিসেবে দাবি করে আশ্রয় প্রার্থনা করলেও মিললো না। দীর্ঘ ১২ মাস ১৩ দিন আমেরিকায় কারাবরণ শেষে দেশে ফেরেন তিনি।

৩০ বছর বয়সী রাসেল আহমেদ ২০১৪ সালের আগস্ট মাসে আমেরিকার উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। সব মিলিয়ে ৩৮ লাখ টাকার চুক্তি ছিল পাচারকারীদের সঙ্গে। তার বাড়িও সিলেটের বিয়ানীবাজারে। তার বড় ভাইয়ের প্রবাস জীবনের সব টাকাই খরচ হয় এবং তাদের পুরো পরিবার নিঃস্ব হয়ে যান এই আমেরিকার স্বপ্নে।

তিনি জানান, আগস্টে প্রথমে তাদের পেরু নিয়ে যান দালাল। সেখানে দু’দিন অবস্থান করে বলিভিয়া। বলিভিয়া থেকে ইকুয়েডর, সেখান থেকে আলসালভেদরে ২ দিন থেকে আসেন পানামায়। প্রতিটি দেশেই এক মানবপাচারের এক চক্র থেকে আরেক চক্রে হস্তান্তর হন তারা।

কোস্টারিকা, ইকুয়েডর, নিকারাগুয়া, গুয়াতেমালা, কলম্বিয়া হয়ে মেক্সিকো পৌছান রাসেল। এ বিপদসঙ্কুল যাত্রা পথে নির্মম নির্যাতনের শিকার হন তারা। মেক্সিকোতে এসে মূল মাফিয়া চক্রের হাতে আটকা পড়েন। মাফিয়া চক্রকে প্রায় ১৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দিয়ে বাঁচেন তিনি। বাড়ি থেকে জমি বিক্রি করে, সকল সম্পদ নিঃশেষ করে মুক্ত করা হয় রাসেলকে।

বিনিময়ে মেক্সিকোর এই মাফিয়া চক্র টেক্সাসের ইমিগ্রেশন পুলিশের হাতে তুলে দেয় রাসেলকে। সেখানে প্রায় দেড় বছর জেল খাটার পর দেশে ফেরত পাঠানো হয় তাকে।

অভিবাসী এবং মানবপাচার নিয়ে কাজ করা বেসরকারি সংস্থা ক্যারাম এশিয়ার আঞ্চলিক সমন্বয়ক হারুন-অর রশিদ বলেন, মেক্সিকো হয়ে মানবপাচারের এ ঘটনা নতুন নয়। ২০১৪ সালেই আমরা মেক্সিকোতে এ মাফিয়া চক্রের দাপট দেখেছি। যারা মানবপাচার এবং মাদকদ্রব্য ব্যবসাকে নিয়ন্ত্রণ করে। বেসরকারি দাতা সংস্থাগুলো এক্ষেত্রে মেক্সিকো সরকারকে চাপ দিয়েছে। তবে অবস্থার খুব বেশি উন্নতি হয়নি বোঝা যায় এই বাংলাদেশিদের অভিজ্ঞতায়।

তিনি বলেন, ৩৮ বা ৪০ লাখ টাকা খরচ করে মানুষ বিদেশে যাচ্ছে। এ থেকে বোঝা যায়, দেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়নি। হলেও বিদেশে গেলেই অর্থনৈতিক উন্নতি হবে সরকারের এ ধরনের মাইগ্রেশন পলিসিও মানুষকে দেশ ছাড়তে উৎসাহিত করে। তাই সরকারকে নিজের অভিবাসী পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনতে হবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশে এই আন্তর্জাতিক চক্রের হোতাদেরও চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় অানতে হবে।

গত বুধবার ২৭ বাংলাদেশি যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে ফিরেছেন। তারা সকলেই অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে গ্রেফতার হয়ে এক থেকে দেড় বছর কারাভোগ করেছেন। ফেরত আসা ২৭ জনের মধ্যে নোয়াখালীর ১৩ জন, সিলেটের আটজন, ঢাকার তিনজন এবং মুন্সিগঞ্জ, কুমিল্লা ও বরিশালের একজন করে রয়েছেন।বাংলানিউজ

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: