সর্বশেষ আপডেট : ৫ মিনিট ৪৭ সেকেন্ড আগে
বৃহস্পতিবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

কেমন আছেন আশির দশকের নায়ক!

full_682460963_1460198605নিউজ ডেস্ক: আশির দশকের নায়ক হুসাইন মোহাম্মদ এরশাদ রাজনীতিতে বরাবর আলোচিত মুখ। কিন্ত গত বছর খানেক এরশাদকে আর রাজনীতির মাঠে পাওয়া যাচ্ছে না। আড়ালে-আবডালেই কাটিয়ে দিচ্ছে রাজনীতির এই পুরোনো খলনায়ক। এখন আর তাকে সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলতে শোনা যায় না।

কিন্ত কেন? তার আইনজীবী সিরাজুল ইসলাম দাবী করছেন সরকার তাকে মামলা দিয়ে ভয়ে রেখেছে। তার বিরুদ্ধে বিচারধীন মামলাগুলো নিষ্পত্তি না করে তাকে বাগে রাখার চ্ষ্টো করছেন।

বিএনপি সমর্থিত রাষ্ট্রপতি আব্দুস সাত্তার কে হটিয়ে ১৯৮১ সালের ২৪ মার্চ এরশাদ প্রধান সামরিক কর্মকর্তা হন। তখন রা্ষ্ট্রপতি বিচারপতি আহসান উদ্দিন চৌধুরী। ১৯৮৩ সালে এরশাদ আহসান উদ্দিনকে সরিয়ে নিজে রাষ্ট্রপিত হন। এরপর শুরু হয় তার ক্ষমতার খেলা।

১৯৮৬ সালের ১ জানুয়ারি জাতীয় পার্টি নামে নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করেন। ওই বছরই ১৫৩ টি আসনে সংসদ নির্বাচনে জয়লাভ করেন। সংবিধানে ৭ম সংশোধনী এনে সামরিক শাসনকে জায়েজ করে নেয়। টানা এক দশকে কেবল ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য পির মাশায়েখের ফুঁ গউজ কুতুবদের দোয়া এমনকি শেষমেশ সংবিধানের ৮ম সংশোধনীর মাধ্যমে ইসলামকে রাষ্ট্র ধর্ম ঘোষণা করেও এরশাদ টিকতে পারেনি।

নব্বইর গণ-আন্দোলনের মুখে ক্ষমতা ছাড়তে হয়েছে তাকে। তখন থেকেই এরশাদ ইতিহাসের খল নায়ক। বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এসে ২৭ টি মামলা ঠুকে দিয়েছে এরশাদের বিরুদ্ধে। তারপর পুরো নব্বইর দশক কমবেশি জেলের ভাত খেতে হয়েছে তাকে।

১৯৯৭ সালে এরশাদ বিএনপির সাথে জোটবদ্ধ হয়ে আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামে। তবে কিছুদিন পর আবার বিএনপি থেকে বেরিয়ে যায়। ২০০৬ সালে বিএনপি সরকারের শেষের দিকে যখনি আন্দোলন চরম পর্যায়ে তখন বিএনপির সাথে এরশাদের একরকম দফারফা হওয়ার গুঞ্জন ওঠে বিএনটি সেই লোভে এরশাদের ৬টি মামলা রাজনৈতিক হয়রানিমূলক বলে তুলে নেয়।

২০০৭ সালে ১১ জানুয়ারি দেশে জরুরি অবস্থা জারি হয়। এরশাদ আওয়ামী লীগের সাথে কয়েকটি শর্তে জোট বাঁধে। জাতীয় পার্টি সূত্র জানায়, মহাজোট গঠনের সময় আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল জলিল ও জাতীয় পার্টির মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলাদারের মধ্যে একটি গোপন সমঝোতা হয়। সেখানে এরশাদের নামের মামলাগুলো প্রত্যাহারের বিষয়টিও ছিল।

জানা গেছে, মহাজোট ক্ষমতায় আসার পর ২০০৯ সালের ১৭ মে প্রথম দফায় মামলা প্রত্যাহারের আবেদন করেন এরশাদ। কোনো অগ্রগতি না হলে ২০১০ সালের ২০ এপ্রিল দ্বিতীয় দফায় তিনি স্বরাষ্ট্রসচিব বরাবর মামলা প্রত্যাহারের আবেদন করেন।

তাতেও কাজ না হলে জাতীয় পার্টির পক্ষ থেকে এ সরকার আমলে নেতা-কর্মীরা কয়েক দফা আন্দোলন করে। এমনকি জাতীয় সংসদ থেকে ওয়াক আউটের ঘোষণাও দেন তাঁরা। তবে ওয়াক আউট না করলেও কয়েক দফা বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে জাপা নেতা-কর্মীরা

ইতিমধ্যে ১৮টি মামলা আইনের স্বাবাবিক গতিতে নিষ্পত্তি হয়েছে। এ মামলাগুলো কেন তুলে দেয়া হচ্ছে না এর জবাবে সাবেক আইনপ্রতিমন্ত্রী ও বর্তমান খাদ্য মন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম বিডিলাইভকে বলেন, ‘নিয়মানুযায়ী সরকার অনেকের দুর্নীতি মামলা প্রত্যাহারের জন্য সুপারিশ করেছিল। কিন্তু দুদক কারো দুর্নীতি মামলা প্রত্যাহার করেনি আমরা কি করব’।

জাতীয় পার্টির (জাপা) প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ অভিযোগ করে বলেছেন, এরশাদের বিরুদ্ধে মামলাগুলো তাঁরা আরো আগেই নিষ্পত্তি করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু সরকারপক্ষ অহেতুক বিলম্ব করেছে। এখন সরকার সেগুলো চাঙ্গা করায় তাঁরা শঙ্কিত।

আদালতে ৩টি মামলার কার্য়ক্রম চলছে।

মেজর মঞ্জুর হত্যা মামলা: ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের কাছে প্রথম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতে এ মামলার বিচার চলছে।

এ মামলার বিচারিক কার্য়ক্রম শেষ হয়েছিল রায় ঘোষণার দিনও ঘোষণা করা হয় কিন্ত অজানা কোনো এক কারণে রায় ঘোষণার ঠিক আগের দিন আদালতের বিচারক বদলি হয়ে যায় আবারও এরশাদের ভাগ্য ঝুলে যায়। মামলাটিতে এখন আবার পুনতদন্ত চলছে। এ মামলার এরশাদের পক্ষের আইনজীবী শেখ সিরাজুল ইসলাম বিডিলাইভকে বলেন, সরকার ইচ্ছে করেই মামলাটা ঝুলিয়ে রেখেছে। এরশাদকে ফাঁদে ফেলার জন্য।

রাডার ক্রয় দুর্নীতি মামলা: মামলাটি ঢাকার বিভাগীয় বিষেশ জজ আদালতের বিচারক মো. নুরুল ইসলামের আদালতে বিচারাধীন। ১২তম সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ চলছে। মামলার রাষ্ট্রপক্ষের কৌসুলি অ্যাডভোকেট শাহিন ইসলাম।

১৯৯৫ সালের ১২ আগস্ট মামলাটিতে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে আদালত। ১৯৯২ সালের ৪ মে তৎকালীন দুর্নীতি দমন ব্যুরো মামলাটি দায়েরের পর ১৯৯৪ সালের ২৭ অক্টোবর আদালতে চার্জশিট দাখিল করে।

উল্লেখ্য, সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদসহ অপর আসামিরা পরস্পর যোগসাজসে আর্থিক সুবিধাপ্রাপ্ত হয়ে ফ্রান্সের থমসন সিএসএফ কোম্পানির অত্যাধুনিক রাডার না কিনে বেশি দামে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্টিং কোম্পানির রাডার কিনে সরকারের ৬৪ কোটি ৪ লক্ষ ৪২ হাজার ৯১৮ টাকা আর্থিক ক্ষতি করেছিলেন।

পাঁচ তারকা হোটেল দুর্নীতি মামলা: হলিডে ইন নামে প্রস্তাবিত পাঁচ তারকাবিশিষ্ট সরকারি হোটেল-সংক্রান্ত দুর্নীতির মামলাটি দুদক বাদি হয়ে কার্যক্রম চালাচ্ছে এ মামলার এরশাদের পক্ষের আইনজীবী অ্যাডবোকেট শেখ সিরাজুল ইসলাম। এ মামলা এখন হাইকোর্টে স্থগিত অবস্থায় আছে।তবে যে কোনো সময় চালু হয়ে যেতে পারে।

৭ম সংশোধনী মামলা: ১৯৮২ থেকে ১৯৮৬ সাল পর্যন্ত সামরিক শাসনকে বৈধ ঘোষণা করে এরশাদ সংবিধানের ৭ম সংশোধনী আইন পাশ করে। ওই সময়ে মার্শাল ল আদালতে সাজা প্রাপ্ত জনাব সিদ্দিক আহমেদ ৭ম সংশোধনীর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে উচ্চ আদালতে রিট করেন। আদালত ২৬ অগাস্ট ২০১০ সালে ৭ম সংশোধনীকে অবৈধ ঘোষণা দেন। রায়ের ৩০৯ নম্বর প্যারায় বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘সংসদ দণ্ডবিধির ১২৩ক ও ১২৪ক ধারায় রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব ধুলিসাৎ করার অভিযোগে আইনি ব্যাবস্থা নিতে পারে। উল্লেখ্য এ ধারার সর্বচ্চো শাস্তি জাবজ্জীবন কারাদণ্ড।

রায়ে আরও বলা হয়, ‘সংসদ চাইলে ভবিষ্যতে যাতে কোনো সেনা শাসক সংধিান স্থগিত করে সামরিক শাসন জারি করতে না পারে সে জন্য আ্ইন পাশ করতে পারে’।

২০১১ সালে সংবিধানের ১৫তম সংশোধনীতে ৭ক অনুচ্ছেদ সংযোজন করে সংবিধান অবমাননাকারীকে সর্বচ্চো শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। যেটা মৃত্যুদণ্ড।

এরশাদকে এ বিধানের আওতায় আনা যাবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. আসিফ নজরুল বলেন, ‘রেটরোসপেক্টিভ ইফেক্ট দিয়ে এরশাদকে সরকার চাইলে এ আইনের আওতায় এনে শাস্তি দিতে পারে’।

বিএনপি এরশাদের জাত শত্রু অপরদিকে আওয়ামী লীগ এরশাদের উপর নাখোশ এখন এরশাদ মামলাকলে ফেঁসে যেতে পারে অথবা কোনো দলে পাত্তা না পেয়ে কেবল ভেসে যেতে পারে’ এমনটা-ই ধারণা রাজনীতি বিশ্লেষক এমএম আকাশের।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: