সর্বশেষ আপডেট : ১৪ মিনিট ৫৭ সেকেন্ড আগে
শুক্রবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

পাঁচ মাস পর জাপানি নারীর লাশ হস্তান্তর

139488_1নিউজ ডেস্ক:: খুনের প্রায় পাঁচ মাস পর জাপানি নারী হিরোয়ি মিয়াতার (৬১) লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে। শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মর্গ থেকে জাপানি দূতাবাসের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

জাপানি দূতাবাসের ফার্স্ট সেক্রেটারি সুধি ওনু ও সেকেন্ড সেক্রেটারি কসু মাতসোনাগা লাশটি গ্রহণ করেন।

উত্তরা পূর্ব থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মুশফিকুর রহমান লাশ হস্তান্তরের তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তবে দূতাবাস কর্মকর্তারা লাশ কোথায় নেবেন, তা পুলিশকে জানায়নি।
এদিকে সূত্র জানায়, মিয়াতার লাশ ময়নাতদন্তের পাশাপাশি ডিএনএ পরীক্ষার জন্য আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে।

গত বছরের ২৯ অক্টোবর রাজধানীর উত্তরা পূর্ব থানা এলাকায় হিরোয়ি মিয়াতার রহস্যজনক মৃত্যু হয়। প্রায় ১০ বছর ধরে ঢাকায় ছিলেন তিনি। দীর্ঘদিন উত্তরা ৬ নম্বর সেক্টরে ১৩/বি নম্বর সড়কের ৮ নম্বর হোল্ডিংয়ে সিটি হোমস নামের একটি আবাসিক হোটেলে থাকতেন।

জানা যায়, মিয়াতা ঢাকায় ব্যবসা করতেন। এছাড়া জাপান সরকারের পেনশনও পেতেন।

গত বছরের ১৯ নভেম্বর জাপান দূতাবাসের একজন কর্মকর্তা উত্তরা পূর্ব থানায় হিরোয়ি মিয়াতা নিখোঁজ রয়েছেন বলে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। এই জিডির তদন্ত করতে গিয়ে পুলিশ জানতে পারে ২৯ অক্টোবর মিয়াতার মৃত্যুর পর তার পরিচয় ও নাগরিকত্ব গোপন করে হালিমা খাতুন নামে উত্তরা ১২ নম্বর সেক্টরের ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন কবরস্থানে সমাহিত করা হয়।

মামলার সূত্রে জানা যায়, মিয়াতা প্রতি সপ্তাহে দেশে তার মাকে ফোন করতেন। গত বছরের ২৬ অক্টোবর থেকে তার মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় মা মিয়াতাকে খুঁজে বের করে নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে ঢাকায় জাপানি দূতাবাসের কর্মকর্তাদের অনুরোধ করেন।

জাপান দূতাবাসের অনুরোধে পুলিশ অনুসন্ধানে হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে নিশ্চিত হয়ে উত্তরা পূর্ব থানায় মামলা করে।

হিরোয়ি মিয়াতাকে অপহরণের পর খুন করে লাশ গুম করা হয় বলে মামলায় উল্লেখ করে পুলিশ। এ ঘটনায় ঢাকা ও লক্ষ্মীপুরে অভিযান চালিয়ে পুলিশ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- মো. মারুফুল ইসলাম (৩০), রাশেদুল হক ওরফে বাপ্পী (৪২), ফখরুল ইসলাম (২৭), বিমলচন্দ্র শীল (৪০) ও মো. জাহাঙ্গীর (২৮)।

এদের মধ্যে বিমলচন্দ্র শীল পেশায় চিকিৎসক। পুলিশ বলেছে, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা তৈরি পোশাক ব্যবসায়ী। মিয়াতার মাধ্যমে তারা জাপানসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে ব্যবসা করতেন।

পুলিশ জানতে পারে এজাহারভুক্ত আসামি জাকিরুল ইসলাম পাটোয়ারি ও মারুফুল ইসলাম ছিলেন মিয়াতার ব্যবসায়িক অংশীদার। তারা মিয়াতাকে সিটি হোমস হোটেলে রাখতেন। রাশেদুল কৌশলে মিয়াতাকে অপহরণ করে। এরপর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় ফখরুলের বাসায় আটকে রেখে জাপানে স্বজনদের কাছে মুক্তিপণ দাবি করে।

এজাহারে বলা হয়, বিমলচন্দ্র শীলের উপস্থিতি ও সহায়তায় পাঁচ আসামি ২৯ অক্টোবর ভোর ৪টার দিকে মিয়াতাকে হত্যা করে। ওই দিন বিকেলেই মারুফুল মিয়াতার লাশ সমাহিত করে। মিয়াতার ল্যাপটপটি রাশেদুলের প্রতিষ্ঠান থেকে জব্দ করে পুলিশ।

২৬ নভেম্বর ময়নাতদন্তের জন্য মিয়াতার লাশ কবর থেকে উত্তোলনের নির্দেশ দেন আদালত। ২৭ নভেম্বর তার লাশ উত্তোলনের পরে ভিসেরা ও ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের জন্য ঢামেক হাসপাতালের মর্গে নেয়া হয়।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: