সর্বশেষ আপডেট : ২ মিনিট ৪১ সেকেন্ড আগে
শনিবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

‘ব্যস্ত স্থানে নাজিমকে মেরে হেঁটে চলে যায় খুনিরা’

shotra-bg20160407052902নিউজ ডেস্ক:: পুরান ঢাকার একটি ব্যস্ত সড়কে তিন-চার জন যুবক কুপিয়ে ও গুলি চালিয়ে হত্যা করে যায় অনলাইন অ্যাকটিভিস্ট নাজিমুদ্দিন সামাদকে। তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সান্ধ্যকালীন কোর্সের ছাত্র। তার ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন না এলেও মর্গের কর্মীরা জানিয়েছেন, তার মাথার এক পাশে গুলি এবং অন্য পাশে কোপের চিহ্ন রয়েছে।

সিলেটের বাসিন্দা নাজিমুদ্দিনের লাশ নিয়ে বৃহস্পতিবার রাতে বাড়ির উদ্দেশে রওনা হয়েছেন তার স্বজনরা। এর আগে নাজিমের হত্যার বিচারের দাবিতে দিনভর বিক্ষোভ চালায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের।

বুধবার রাত পৌনে ৯টার দিকে সূত্রাপুর থানা এলাকার ইকরামপুর মোড়ে হৃষিকেশ দাস রোডে নাজিমুদ্দিনের উপর হামলা চালানো হয় বলে পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়। ইকরামপুর মোড় প্রচণ্ড ব্যস্ত রাস্তা যেখানে সবসময় অসংখ্য মানুষে ও লেগুনার চলাচল।

একরামপুর মোড়ের সুর্বণা টেইলাসের সামনে সড়কের পাশে ড্রেনের কাছে রক্তের ছাপ। সেখানে আশপাশে অনেক দোকান এবং সেগুলোর অধিকাংশই নাজিম হত্যাকাণ্ডের সময় খোলা ছিল বলে স্থানীয়রা জানান।

সুবর্ণা টেইলার্সটিও খোলা ছিল, তার পাশের এস আর হেয়ার ড্রেসারও খোলা ছিল। খোলা ছিল রাস্তার বিপরীত পাশের হাবিব ফার্মেসি ও মহান চাঁদ সুইটসও। তবে এসব দোকানের মালিক বা কর্মীদের কাছে ঘটনা জানতে চাইলে বেশিরভাগই চুপ মেরে যান। অনেকে বলেন, ওই সময়টায় তিনি দোকানে ছিলেন না।

অবশেষে এক কর্মচারী বলেন, “রাত পৌনে ৯টার দিকে আমাদের দোকানে ওঠার সিঁড়িতেই কয়েক যুবক মিলে এক যুবককে মারতে থাকে। একটু পরই গুলির শব্দ শুনি। কিছু বোঝার আগেই ওই যুবকরা দ্রুত চলে যায়।”

ওই যুবকরা কতজন ছিল, তারা কীভাবে এসেছিল এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, তারা ছিল ৩/৪ জন। হেঁটেই এসেছিল।
লক্ষ্মীবাজারের রোড ধরে নাজিম হেঁটে আসছিলেন।

তিনি বলেন, মারামারি দেখে ও গুলির শব্দে শুনে আশপাশের দোকানগুলো মুহূর্তের মধ্যে বন্ধ হয়ে যায়।

ঘটনাস্থলে রাস্তার উপর সিটি করপোরেশনের একটি বৈদ্যুতিক বাতি রয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতেও ওই বাতিটি জ্বলতে দেখা যায়।

আশপাশে বড় বড় ভবনগুলোতে হলেও ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরা (সিসি ক্যামেরা) দেখা যায়নি। তবে সোহরাওয়ার্দী কলেজের সামনের স্বপ্ন ডিপার্টমেন্টাল স্টোরে একটি সিটি ক্যামেরা রয়েছে।

সূত্রাপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সমীর চন্দ্র সূত্রধর বলেন, “যেসব ভবনের সিসি ক্যামেরা পাই, তার ফুটেজ সংগ্রহ করে দেখব।”

অনলাইনে ধর্মান্ধতার বিরুদ্ধে লেখালেখি করতেন নাজিম। সিলেটে গণজাগরণ মঞ্চের কর্মী ছিলেন তিনি। হেফাজতের আন্দোলনের সময় ‘নাস্তিক ব্লগারদের’ যে কথিত তালিকা কয়েকটি গণমাধ্যমে এসেছিল, তাতে তার নামও ছিল।

ধর্মান্ধতার বিরুদ্ধে বলছিলেন এমন কয়েকজনকে গত বছর হত্যা করা হয়। তাদের হত্যাকাণ্ডেও মূলত চাপাতিই ব্যবহার করা হয়েছিল। এর পাশাপাশি গত বছর হত্যাকাণ্ডের শিকার হন দুজন বিদেশি এবং কয়েকজন ধর্মযাজকরাও।

এসব হত্যাকাণ্ডেই জঙ্গিদের কাজ বলে সন্দেহ পুলিশের। তবে শুধু তেজগাঁওয়ের বেগুনবাড়িতে নাজিমের মতোই অনলাইন অ্যাকটিভিস্ট ওয়াশিকুর রহমান বাবু হত্যাকাণ্ডস্থল থেকে দুজনকে ধাওয়া করে ধরেছিল জনতা।

নাজিম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতে অজ্ঞাত ৫/৬ জনকে আসামি করে সূত্রাপুরের এসআই নুরুল ইসলাম বাদী হয়ে একটি মামলা করেছেন বলে থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সমীর চন্দ্র সূত্রধর জানান।

লেখালেখির কারণেই কী এই খুন- প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, “ঘটনার পর থেকে তার (নাজিমুদ্দিন) ফেইসবুকে লেখা প্রায় সবই পড়েছি। কিন্তু কোথাও ধর্মীয় উস্কানির মতো বাক্য খুঁজে পাইনি।”

নাজিমুদ্দিন যেখানে থাকতেন সেই গেন্ডারিয়ার রজনী চৌধুরী ঘোষ লেনের বাসায়ও গিয়েছে পুলিশ। তার সঙ্গেই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনে বিভাগে অধ্যরনরত সোহেলের সঙ্গেও কথা বলেছে পুলিশ।

ডিএমপির ওয়ারি জোনের জ্যেষ্ঠ সহকারী কমিশনার নূরুল আমীন বলেন, সোহেলের সঙ্গে কয়েকবার ফোনে কথা হয়েছে। তিনি সহযোগিতা করছেন তদন্তে।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: