সর্বশেষ আপডেট : ৪ ঘন্টা আগে
মঙ্গলবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

‘ক্ষমতায় আওয়ামী লীগ, নাকি ওলামা লীগ’

Imranনিউজ ডেস্ক::
গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকার বলেছেন, নাজিমুদ্দিন সরকারি দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিলেন। তারপরও শুধু অন্যায়ের সঙ্গে আপোস না করায়, ওলামা লীগের বিরুদ্ধে বলায় তাকে খুন হতে হলো। তাই আমাদের সন্দেহ হয়, ক্ষমতায় আওয়ামী লীগ নাকি ওলামা লীগ!

সিলেটের গণজাগরণ মঞ্চের কর্মী ও অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট নাজিমুদ্দিন সামাদ হত্যার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার (৭ এপ্রিল) শাহবাগে বিক্ষোভ সমাবেশে একথা বলেন তিনি।

বুধবার (৬ এপ্রিল) রাত সাড়ে নয়টায় রাজধানীর সূত্রাপুরে কুপিয়ে এবং গুলি করে হত্যা করা হয় নাজিমকে।

আওয়ামী লীগ অন্যদের ধর্ম নিয়ে রাজনীতির বিরোধিতা করে। আমাদের প্রশ্ন, ওলামা লীগ তাহলে কী করছে? ওলামা লীগের বিরুদ্ধে কেন তারা কথা বলেন না? সরকার ধীরে ধীরে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা থেকে ওলামা লীগের চেতনায় প্রবেশ করছে। নাজিমুদ্দিন বঙ্গবন্ধুর আদর্শের কথা বলতো, তারপরও রিজার্ভ লুট, তনু ধর্ষণ আর হত্যার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় তাকে খুন হতে হলো।

বিভিন্ন অন্যায় ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে বলে জানান তিনি, ‘একটি ঘটনা ঘটিয়ে আরেকটি ঘটনা ধামচাপা দেওয়া হচ্ছে। নাজিমুদ্দিনকে খুন করে রিজার্ভ লুট, তনু ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডকে চাপা দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। এই ধামাচাপার অবসান ঘটাতে হবে। জনগণকে সচেতন থাকতে হবে, কোনোকিছুই ভুলে গেলে চলবে না। আমি সবাইকে আহ্বান জানাই, ঐক্যবদ্ধ হয়ে এই ধামাচাপার সংস্কৃতির সমূলে বিনাশ করুন।

ইমরান এইচ সরকার বলেন, সামাদই নন, কিছুদিন আগে খুন হয়েছেন মসজিদের মুয়াজ্জিন, ইমাম, মন্দিরের পুরোহিত, গির্জার যাজক। একটির পর একটি ঘটনা ঘটে চলছে। সোহাগী জাহান তনুকে ধর্ষণের পর হত্যার প্রতিবাদে যখন সারাদেশের মানুষ সোচ্চার, তখনই এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে আগের খুন-ধর্ষণের ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হলো।

প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, অপরাধ ধামাচাপা দেওয়ার এক নতুন মডেল তৈরি হয়েছে। প্রতিটি খুনের পর বলা হচ্ছে, অপরাধীরা আল্লাহু আকবার স্লোগান দিয়ে পালিয়ে গেছে। একটা সুনির্দিষ্ট গোষ্ঠীর দিকে দেখিয়ে আসল ঘটনা আড়াল করা হচ্ছে। জনগণের মধ্যে বিভেদ তৈরি করা হচ্ছে। ধর্মীয় স্লোগানের কথা তুলে দুটি পক্ষ তৈরি করা হচ্ছে, একপক্ষ আরেক পক্ষকে দোষারোপে ব্যস্ত থাকছে। আর এই ফাঁকে সরকারি লোকজন ব্যস্ত রিজার্ভ লুটে। অপরাধীদের আর বিচার হচ্ছে না।

দেশে যে শাসন চলছে, তা কোনোভাবেই গণমানুষের আকাঙ্ক্ষার শাসন নয়। প্রশাসন যদি দাবি করে থাকে যে, জঙ্গীগোষ্ঠী এই খুন করেছে, তাহলে খুনিদের গ্রেফতার করে তারপর তাদের প্রমাণ করতে হবে কারা জড়িত। অপরাধীদের গ্রেফতারের কোনো চেষ্টা না করে বার বার একই স্ক্রিপ্ট পড়ে পার পেয়ে যাবেন, আমরা তা মেনে নেব না।

ইমরান এইচ সরকার বলেন, একটার পর একটা ঘটনা ঘটছে। আর আপনারা এক দিন আনসারুল্লাহ, এক দিন অমুক, এক দিন তমুককে দায়ী করে ফাঁকা বুলি দিচ্ছেন, অপরাধীদের ধরায় কোনো আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। তাই আমাদের সন্দেহ জাগে, এই হত্যার পেছনে এমন কেউ আছে। যে কারণে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী কালো চশমা পরে আছেন। তাই নাজিমুদ্দিন হত্যার দায় সরকারের উপরেই বর্তায়।

সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন— মারুফ রসূল, সঙ্গীতা ইমাম, বাকি বিল্লাহ, শম্পা বসু, ভাস্কর রাসা প্রমুখ।

বিক্ষোভ সমাবেশ শেষে গণজাগরণ মঞ্চের মশাল মিছিল শাহবাগ থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি ঘুরে আবার শাহবাগে ফিরে আসে।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: