সর্বশেষ আপডেট : ৩ মিনিট ৪৪ সেকেন্ড আগে
শুক্রবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

জিনের বাদশার খপ্পরে পড়ে…

8935_153ডেইলি সিলেট ডেস্ক::
শাহরাস্তিতে এক জিনের বাদশার খপ্পরে পড়ে অসংখ্য পরিবার নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। এ জিনের বাদশা বিভিন্ন কেরামতি দেখিয়ে এলাকার সহজ সরল লোককে প্রথমে তার আয়ত্তে নেয়। পরে শুরু করে তার আসল উদেশ্য হাসিলের চেষ্টা। কাউকে বিদেশ পাঠানো, সরকারি চাকরিতে নিয়োগ পাইয়ে দেয়া ও মানসিক রোগীকে সুস্থ করার নাম করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে জিনের বাদশা সম্প্রতি উধাও হয়ে যায়। তার এ গা-ঢাকার খবরে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো থেকে বিভিন্ন ঘটনা প্রকাশ হতে শুরু করে। ১৯৯৯ সালে শাহরাস্তি উপজেলার মেহের দক্ষিণ ইউপির ফতেপুর গ্রামের সরাই বাড়ির জহিরুল ইসলামের ছোট ছেলে মো. ছেফায়েত উল্যার (৩২) জিনের বাদশা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।

ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও এলাকাবাসী জানায়, ওই থেকে তার জিনের শক্তি, অনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে নিতে দালাল নিয়োগ দেয়। দালাল হিসেবে বাড়ির নিকট আত্মীয় মুনসুর আলী, তার স্ত্রী জৈদুন্নেছা, বোন শাহিন আক্তার, জৈদুন্নেছার মা সাদিয়া বেগম, মুনসুরের দুই ছেলে রাশেদ ও আব্দুল আউয়ালকে ব্যবহার করতে শুরু করেন। ওই সঙ্গবদ্ধ চক্র জিনের বাদশাকে কখনো ছেফায়েত, মহিন, ফারুক, বাবা হুজুর, টিভি চ্যানেলের সংবাদ পাঠক, সরকারি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ট্রাভেল এজেন্সির মালিক হিসেবে পরিচয় দেয়া শুরু করেন। সাধারণ মানুষ আস্তে আস্তে ওই কথা বিশ্বাস করে তার এ প্রতারণার ফাঁদে পা দেয়। মানুষের আগ্রহ দেখে জিনের বাদশা তার নিজ গৃহে প্রায় সে আসন বসিয়ে চিকিৎসা প্রদান শুরু করে। প্রতারণার নতুন ফন্দি হিসেবে যুবতী নারীকে আসনে বসিয়ে তার ওপর জিন সোয়ারের নাম করে চালাতো অনৈতিক কর্মকাণ্ড। ওই থেকে কথিত জিন সোয়ারের নামে রোগীসহ স্থানীয় অসংখ্য যুুবতী তার এ ফাঁদে পড়ে লালশার শিকার হয়। তখন ভয়ে কেউ মুখ না খুললেও এখন অনেকেই বিষয়গুলো নিয়ে কানাঘুষা করছে।

এমনি এক ভুক্তভোগী নিজ বাড়ির এক রোগী আ. রহিমের স্ত্রী রাজিয়া সুলতানা বুলু (৩৫) জানান, জিনের বাদশার কাছে অন্যদের ন্যায় তিনিও স্বামীকে মানসিক রোগের চিকিৎসা করাতে সঙ্গবদ্ধ চক্রের মুনসুর ও তার স্ত্রী জৈদুন্নেছার কথায় নিয়ে যান। ওই থেকে চিকিৎসার নামে প্রথমে ৪ লাখ পরে স্বামীকে সুস্থ করে এয়ারপোর্টে চাকরি দেবে বলে ৮ লাখসহ মোট ১২ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। পরে আমার স্বামীর সুস্থতা ও চাকরির কালক্ষেপণ দেখে জৈদুন্নেছার কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে সঙ্গবদ্ধ চক্র আমার তিন কন্যাকে গুম করার হুমকি দেয়। এদিকে গত ২৭শে মার্চ আমার মায়ের মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে স্বামীর বাড়ি হাজিগঞ্জ থেকে বাপের বাড়ি আসলে সঙ্গবদ্ধ চক্রের সদস্যরা জিনের বাদশার ভয় দেখিয়ে মায়ের দাফনের পূর্বে আমাকে বাড়ি ছাড়া করে। আজ আমি সব হারিয়ে অনিশ্চিত জীবন নিয়ে সুষ্ঠু বিচারের আশায় দ্বারে দ্বারে ঘুরছি।

অপর দিকে উপজেলার রায়শ্রী গ্রামের উত্তরপাড়ার আবু তাহেরের পুত্র মো. সাইফুল ইসলাম রিপনকে (২৭) ইতালি নেয়ার কথা বলে তাকেও ফাঁদে ফেলে। রিপনের মা রোকেয়া বেগম জানান, তারা পার্শ্ববর্তী মেহের (দ.) ইউপির বহু অলৌকিক ক্ষমতার অধিকারী জিন হুজুরের কথা শুনতে পায়। তখন তারা হুজুরের কাছে তদবিরে এলে জিন হুজুর তার ছেলেকে দ্রুত ইতালি পাঠাবার নির্দেশ দেন। হুজুর ভক্ত পরিবারটি প্রথমে ৭ লাখ পরে হুজুরের আবদারে পালিত গরু ও পরিধেয় স্বর্ণ গয়না বিক্রি করে ১ লাখ টাকাসহ মোট ৮ লাখ টাকা তার হাতে তুলে দেয়।

পরে তারা ইতালির ভিসা ও হুজুরের সন্ধান না পেয়ে সংবাদকর্মীর কাছে এ প্রতারণার তথ্য তুলে ধরেন। এদিকে পার্শ্ববর্তী রায়শ্রী (দ.) ইউপির বিজয়পুর গ্রামের কালারবাড়ির রফিকুল ইসলামের ছেলে মো. আরিফ হোসেনকে (২৭) ঢাকা শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে চাকরি দেয়ার নাম করে ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা নেয়। একই গ্রামের বাঁশি বাড়ির নুরু মিয়ার স্ত্রী রেখা বেগমকে (২৪) সে টিভি সংবাদ পাঠক পদে তাকে চাকরি পাইয়ে দেয়ার নামে ৪ লাখ টাকা গ্রহণ করে। লাকসাম উপজেলার মির্জাপুর গ্রামের জনৈক বুলু বেগম থেকে গায়েবি অপারেশন করবে বলে ২ লাখ টাকা নেয়। বরুড়া উপজেলার নলুয়া চাঁদপুর গ্রামের আলমগীরের স্ত্রী সীমা আক্তারকে চাকরি দিবে বলে ৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। ওদিকে স্থানীয় ইউপি সদস্য মোঃ হুমায়ুন কবির জানান, সুচতুর ছেফায়েত ছোটবেলা থেকে জনগণের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য নানাপন্থা অবলম্বন করতো।
বিভিন্ন সময় মানুষ জমিয়ে চমক দেখাতে কাঁচের টুকরো মুখে দিয়ে তার ক্ষমতা প্রদর্শন করতো। অনেক সময় ধারালো চুরি কাচতি দিয়ে গ্রামের আবাল-বৃদ্ধ-বনিতাকে ভয় দেখাতো। ইউপি চেয়ারম্যান মো. শফি আহম্মেদ মিন্টু মুঠোফোনে জানান, জিনের বাদশা ছেফায়েতের খপ্পরে পড়ে অনেক পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, শুনেছি। তবে আমি তাকে দেখিনি। এদিকে জিনের বাদশার ওইসব কর্মকাণ্ড সম্পর্কে তার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করে না পেয়ে তার সঙ্গবদ্ধ চক্রের দ্বারস্থ হলে কেউ মুখ খুলতে রাজি হয়নি। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা বলছে, প্রতারক জিনের বাদশা বহাল তরিবতে ঢাকায় কোনো এক এলাকায় বসবাস করছে।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: