সর্বশেষ আপডেট : ১ মিনিট ৫৭ সেকেন্ড আগে
শনিবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

নাজিমুদ্দিনের হত্যাকারী কারা

139415_1নিউজ ডেস্ক::
নাজিমুদ্দিন-সামাদব্লগার নাজিমুদ্দিন সামাদের হত্যাকারী কারা—এখনও জানেন না তদন্ত সংশ্লিষ্টরা। এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে নিশ্চিত না হলেও পেশাদার খুনিরা পরিকল্পিতভাবে এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন বলে ধারণা করছেন তারা। আর এই বিষয়টি মাথায় রেখেই খুনিদের খুঁজে বের করতে কাজ শুরু করেছেন বলে জানিয়েছেন তদন্তে সংশ্লিষ্টরা। তবে, হত্যাকাণ্ডের ২৪ ঘণ্টা পার হলেও এ ঘটনায় মামলা না হওয়ার বিষয়ে সুত্রাপুর থানার ওসি তপন কুমার সাহা জানান, সুত্রাপুর থানার এসআই নুরুল ইসলাম বাদি হয়ে অজ্ঞাতনামা ৫/৬ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন।

নাজিমুদ্দিনের সঙ্গে থাকা বন্ধু সোহেল তদন্তে সংশ্লিষ্টদের জানিয়েছেন, বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে সুত্রাপুরের একরামপুর মোড় অতিক্রম করছিলেন, তখন পাশ থেকে দুই যুবক হেঁটে এসে সামাদের মাথায় কোপ দেন। এতে নাজিমুদ্দিন রাস্তার ওপর পড়ে যান। আতঙ্কে সোহেল দৌড়ে রাস্তার অন্যপাশে চলে যান। রাস্তা পার হয়ে সোহেল দেখেন, ওই দুই যুবক ছাড়া আরও তিন যুবক নাজিমুদ্দিনকে ঘিরে ফেলেছেন। এ সময় খুনিদের একজন পিস্তল বের করে ‘আল্লাহু আকবার’ বলে নাজিমুদ্দিনের মাথায় পরপর দুই রাউন্ড গুলি করেন। এতে তার মাথার ডান দিকের খুলি উড়ে যায়। রাস্তায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে মাথার মগজ।

গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ডা. ইমরান এইচ সরকার বলেছেন, সাম্প্রতিক দুর্নীতি ও হত্যাকাণ্ডগুলো নিয়ে মঞ্চের আন্দোলনকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে এ হত্যাকাণ্ড ঘটানো হতে পারে। অপরাধ বিশ্লেষকরা বলছেন, ব্লগার নাজিমুদ্দিন হত্যাকাণ্ডের আগে যত ব্লগারকে হত্যা করা হয়েছে, সে ক্ষেত্রে চাপাতির পাশাপাশি গুলির ব্যবহার দেখা যায়নি। এবারই ব্যতিক্রম দেখা গেছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ব্লগাররা বলছেন, হত্যার ধরন দেখে মনে হচ্ছে, নাজিমুদ্দিন তার লেখালেখির মধ্য দিয়ে জঙ্গিদের টার্গেট হয়ে থাকতে পারেন।

ইমরান এইচ সরকার আরও বলেন, আমরা যারা বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে লাগাতার আন্দোলন করছি, এই হত্যাকাণ্ড তাদের জন্য একটা বার্তাও হতে পারে। আমরা যখন বাংলাদেশ ব্যাংকের টাকা লুটের প্রতিবাদ করছি, তনু হত্যার বিচারের দাবি করছি এবং বাঁশখালীতে পাঁচজনকে হত্যার প্রতিবাদে নানা কর্মসূচি পালন করছি, তখনই আমাদের একজনকে হত্যা করে মানুষের দৃষ্টি ভিন্নখাতে নেওয়ার চেষ্টা হতে পারে। তিনি বলেন, নাজিমুদ্দিন সমসাময়িক ইস্যুগুলো নিয়ে প্রতিক্রিয়া লিখতেন বেশি এবং সম্প্রতি তনু হত্যাকাণ্ড নিয়েও সোচ্চার ছিলেন।

ঢাকা মহানগর পুলিশের ওয়ারী জোনের উপ-কমিশনার (ডিসি) সৈয়দ নুরুল ইসলাম জানান, ব্লগার নাজিমুদ্দিনের খুনি কারা—এ বিষয়ে এখনও তারা নিশ্চিত হতে পারেননি। এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জঙ্গি সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কিনা—সেই বিষয়েও তারা নিশ্চিত নন। খুব অল্প সময়ের মধ্যে হত্যাকাণ্ডের মিশন শেষ করে পালিয়ে যান খুনিরা। খুনিদের চিহ্নিত করতে সম্ভাব্য সব কারণ সামনে রেখেই তারা খুনিদের গ্রেফতারে কাজ করছেন। ঘটনাস্থলের আশে-পাশের লোকজনকেও তারা জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন। নিহতের সঙ্গে থাকা সোহেলকেও এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তবে কাউকে আটক কিংবা গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। ফেসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে নাজিমুদ্দিনের স্ট্যাটাস ও মন্তব্যগুলো খতিয়ে দেখছেন তারা।

সুত্রাপুর থানার ওসি তপন কুমার সাহা বলেন, নাজিমুদ্দিনের ভাই লন্ডন থেকে ফেরার পর মামলা করবেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে আমাদের জানানো হয়েছে। এ জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে এখনও মামলা দায়ের করা হয়নি। এর আগে নাজিমুদ্দিনকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছিল কি না—জানতে চাইলে ওসি বলেন, এমন কোনও অভিযোগ আমরা পাইনি। নিহতের বন্ধুদের সঙ্গেও কথা হয়েছে। তারাও এ বিষয়ে কোনও তথ্য দিতে পারেননি। তিনি আরও বলেন, সুত্রাপুর থানার এসআই নুরুল ইসলাম বাদি হয়ে অজ্ঞাতনামা ৫/৬ জনের বিরুদ্ধে হত্যামামলা দায়েল করেন।

এদিকে, পরিবারের পক্ষ থেকে নিহতের ভাতিজা সুমন স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ মর্গে যান। তিনি বলেন, ঘটনা জানার পরপরই আমি ঢাকা আসি। অন্য চাচারা আজ রাতেই লন্ডন থেকে দেশে আসবেন। তারা এলেই মামলাসহ পরবর্তী বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। দেশের বাড়িতে নিহত নাজিমুদ্দিনের অসুস্থ মা ও ছোটবোন ছাড়া পরিবারের কেউ নেই। কারা, কী কারণে সামাদকে হত্যা করেছেন—জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমাদের কোনও ধারণা নেই।

এর আগে কয়েকজন ব্লগার হত্যাকাণ্ডে আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের জড়িত থাকার কথা পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হলেও এবারই এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনও মন্তব্য করেনি পুলিশ। এমনকি সাইট ইনটেলিজেন্সের পরিচালক রিতা কাৎজের পক্ষ থেকেও কোনও দায়স্বীকারমূলক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া বলেন, রাষ্ট্রের দায়িত্ব নাগরিকের অধিকার নিশ্চিত করা। সেটা করতে রাষ্ট্র ব্যর্থ হলে অপরাধীদের বিচারের মুখোমুখি করার দেওয়ার দায়িত্বও রাষ্ট্রের ওপর বর্তায়। পুলিশকে এই দায়িত্ব পালনের ক্ষমতা স্পষ্ট দেওয়া আছে। তিনি বলেন, এ ধরনের সংবেদনশীল ঘটনার ক্ষেত্রে হত্যাকাণ্ডের পর মামলা দায়ের করতে এতটা সময় পার হতে দেওয়ার কোনও সুযোগ নেই।

নিহত নাজিমুদ্দিন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সান্ধ্যকালীন কোর্সের স্নাতকোত্তর শ্রেণির ছাত্র ছিলেন। লক্ষ্মীবাজারের কাছের একটি মেসে থাকতেন তিনি। বাড়ি সিলেটের বিয়ানীবাজারে। তিনি বঙ্গবন্ধু জাতীয় যুব পরিষদের সিলেট জেলা শাখার তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক ছিলেন।বাংলা ট্রিবিউন

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: