সর্বশেষ আপডেট : ১৪ মিনিট ৪৩ সেকেন্ড আগে
শুক্রবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

আর্সেনিকের বড় ঝুঁকিতে বাংলাদেশ

1451419-700x416নিউজ ডেস্ক:: দেশের বহু গ্রামে আর্সেনিকযুক্ত পানি খেতে বাধ্য হচ্ছে মানুষ।দেশের বহু গ্রামে আর্সেনিকযুক্ত পানি খেতে বাধ্য হচ্ছে মানুষ।
নিউ ইর্য়ক ভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ তাদের প্রকাশিত নতুন এক রিপোর্টে বলেছে বাংলাদেশের প্রায় দুই কোটি মানুষ এখনও আর্সেনিক দূষিত পানি পান করছে।

‘নেপোটিসম অ্যান্ড নেগলেক্ট : দ্য ফেলিং রেসপন্স টু আর্সেনিক ইন দ্য ড্রিঙ্কিং ওয়াটার অফ বাংলাদেশেস রুরাল পুওর’ নামে তাদের এই রিপোর্ট বলছে আর্সেনিক দূষণের বিষয়টি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সামনে আসার দুই দশক পরেও বাংলাদেশ সরকার এই সমস্যা সমাধানে মৌলিক পদক্ষেপগুলো নিতে ব্যর্থ হয়েছে।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচের দাবি বাংলাদেশের গ্রামগুলোতে লাখ লাখ দরিদ্র মানুষ এখনও আর্সেনিকযুক্ত ভূগর্ভস্থ পানি পান করছে এবং বাংলাদেশ সরকার জনস্বাস্থ্যের ওপর আর্সেনিকের ঝুঁকি মূলত অগ্রাহ্য করছে।

মাটির নিচে প্রাকৃতিকভাবেই এই আর্সেনিক তৈরি হয় এবং তা ভূগর্ভস্থ পানির সঙ্গে মিশে যেতে পারে।

মানবাধিকার এই সংস্থাটি দাবি করছে প্রতিবছর বাংলাদেশে এই আর্সেনিকযুক্ত পানি পান করে মৃত্যু ঘটছে ৪৩ হাজার মানুষের।

তারা বলছে আর্সেনিক থেকে স্বাস্থ্য ঝুঁকি ব্যক্তিবিশেষ এবং তার পরিবারের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলছে বাংলাদেশের ব্যাপক যেসব গ্রামাঞ্চলের অগভীর নলকূপের পানিতে এই বিষাক্ত আর্সেনিকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে ১৯৯০ দশকের মাঝামাঝি সময় থেকে এ নিয়ে প্রচুর গবেষণার পরেও দেশটির সরকার এই সমস্যা সমাধানে ব্যর্থ হয়েছে।

এসব এলাকায় যারা থাকেন তাদের পানীয় জলের কোনো বিকল্প নেই এবং স্বাস্থ্য ঝুঁকি সত্ত্বেও তারা দূষিত পানি খেতে বাধ্য হচ্ছে বলে এই রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে বাংলাদেশ সরকার এই রিপোর্টের প্রতিক্রিয়ায় বলেছে আর্সেনিক সমস্যা থেকে সরকারের দৃষ্টি সরেনি।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুল মালেক বিবিসি বাংলার আকবর হোসেনকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন ১৯৯৩ সালের যখন এই ঝুঁকির বিষয়টি সামনে আসে তখন বাংলাদেশের ২৬ শতাংশ মানুষ আর্সেনিকের ঝুঁকিতে আছেন বলে চিহ্নিত করা হয়েছিল। তিনি দাবি করেন সরকারের নেওয়া বিভিন্ন কার্যক্রমের কারণে এই ঝুঁকি এখন ১২ শতাংশে নেমে এসেছে।

আব্দুল মালেক বলেন গ্রামীণ এসব এলাকার জনগোষ্ঠির কাছে বিশুদ্ধ পানি পৌঁছে দেয়ার জন্য সরকারের নানা কার্যক্রম চলমান আছে এবং তারা আশা করছেন ২০২০ সালের মধ্যে ঝুঁকিতে থাকা মানুষের সংখ্যা শূণ্যের কোঠায় নেমে আসবে।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলছে এই প্রতিবেদন তৈরি করার জন্য তারা বাংলাদেশের সাতটি গ্রামীণ এলাকায় ১৩৪ জনের সাক্ষাৎকার নিয়েছে যাদের মধ্যে রয়েছে সরকারের পানি সরবরাহ সংস্থার কর্মকর্তাসহ আর্সেনিকের শিকার মানুষ এবং তাদের নিয়ে যারা কাজ করছে এমন লোকজন।

বাংলাদেশের যে গ্রামগুলোতে আর্সেনিকের প্রকোপ বেশি তার মধ্যে অন্যতম কুমিল্লার লাকসাম উপজেলার আউশপাড়া গ্রাম।

বিবিসি বাংলার আকবর হোসেন বলেছেন এই গ্রামে প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই আর্সেনিকে আক্রান্ত রোগীর দেখা মিলবে।

কুমিল্লার লাকসাম উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে তিনি দেখেছেন বহু মানুষ অবলীলায় আর্সেনিক আক্রান্ত পানি পান করছে।

মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের জরিপে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে আর্সেনিকের চিত্র গত বিশ বছরে তেমন একটা পরিবর্তন হয়নি। সংস্থাটি বলছে আর্সেনিক যে একটা বড় গুপ্ত ঘাতক সেটি সরকারও যেমন ভুলতে বসেছে তেমনি সাধারণ মানুষের কাছেও এর তেমন একটা গুরুত্ব নেই।

আর্সেনিকমুক্ত নলকূপ স্থাপনে বিভিন্ন জায়গায় অতীতে সরকারি বেসরকারি তৎপরতা দেখা গেলেও অভিযোগ উঠেছে গত কয়েকবছরে সেটি অনেকটাই স্তিমিত।
একটা সময় আর্সেনিক আক্রান্ত নলকূপ লাল রং দিয়ে চিহ্ণিত করার কার্যক্রম থাকলে অনেকে বলছেন গত ছয়-সাত বছরে এ ধরনের কার্যক্রম নেই।
তবে সরকার বলছে আর্সেনিক সংশ্লিস্ট কোন কার্যক্রমেই ভাটা পড়েনি।

সরকার যাই দাবি করুক না কেন, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলছে বাংলাদেশে অনেকের ধারনা তৈরি হয়েছে যে আর্সেনিক এখন আর মারাত্মক ঝুঁকি নয়। এই ধারনা আর্সেনিক পরিস্থিতিকে আরো অবনতির দিকে নিয়ে যেতে পারে বলে সংস্থাটি সতর্ক করে দিয়েছে।
সূত্র : বিবিসি বাংলা

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: