সর্বশেষ আপডেট : ৪৯ মিনিট ২৬ সেকেন্ড আগে
সোমবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

তনু মেয়েটা মরে গিয়েও শান্তি পেল না

14রেজাউল আলম ::
তনু মেয়েটা মরে গিয়েও শান্তি পেল না। একবার দাফন করা হয়েছে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য আবার উঠানো হয়েছে। কিন্তু তদন্তে ধর্ষণের কোন আলামত পাওয়া যায়নি। তনুর মামলাও ডিপফ্রিজে ডুকে যাক তবুও একটু শান্তিতে ঘুমাক মেয়েটি। হয়ত সেখানেও একটু শান্তি সে আশা করতে পারে। এরপরের তদন্তে আসবে তনুকে হত্যা করা হয়নি? এমনি এমনি তনু সেই জায়গায় পরে ছিল। প্রতিদিন খবরের কাগজে একটু চোখ রাখলেই আপনার দেখা মিলবে এই খবরের। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ধর্ষণকারী সেই ছেলেটি আরাম আয়েশে বুক টান টান করে রাস্তায় চলাফেরা করে। অনেক উচ্চমার্গীয় সমাজের প্রাণী এরা। এরা কাপুরুষের দলে। আগে তো মানুষ হতে হবে তারপরে না হয় পুরুষ হতে পারবি। এক তনু হয়ত নতুন কোন ইস্যুতে ডাকা পরে যাবে কিন্তু প্রতিদিন যে নতুন তনুদের জন্ম হচ্ছে এদের কি হবে? তনুরা কি আমাদের মাফ করবে?
আমি শুধু এক তনুর কথা বলছি না এরকম তনু প্রতিদিনই ঘটনার শিকার হচ্ছে। গতকাল দেখলাম এক প্রতিবন্ধী মেয়েও ধর্ষণ থেকে রেহাই পায়নি এবং সেটা কুমিল্লার একটি ঘটনাই। আবার কালকে এক আপু ফেসবুকে লিখলেন এক বুড়ো বয়সের চাচার কাহিনী। ওই আপু বাসে চাচাকে একটু সাহায্য করেছিলেন। চাচা দাঁড়িয়ে থাকায় চাচার ব্যাগটা তিনি নিয়েছিলেন বসে থাকার কারণে। পরে চাচা সিট পেয়ে আপুকে একটু টাচ করার চেষ্টাও করেছে এবং আপু পরে পিন দিয়ে খোঁচা মেরে বেঁচে গেছেন। বাস থেকে নামার পরও চাচা ওই আপুর পিছু নিয়েছে। আমাদের কি লজ্জা হয়? হয় না।
আমি আমার ছোট বোনটিকে নিয়ে বের হতে ভয় পাই। বাহিরে বের হওয়া নিয়েই দুশ্চিন্তা করতে হয় আর বোনকে নিয়ে দূরে কোথাও ঘুরে বেড়ানো তো অসম্ভব চিন্তার একটি। বাসে কোথাও গেলেও চিন্তা করতে হয়। চলন্ত বাসও তো আমার বোনের জন্য নিরাপদ নয়। গত সপ্তাহে এরকই একটি ঘটনা ঘটেছে। চলন্ত বাসে ধর্ষণের শিকার। কোথায় আমার বোনটি নিরাপদ? আমাকে একটু বলবেন। আমি একটু নিশ্চিতে ওকে নিয়ে ঘুরতে চাই।
এবার আসি লক্ষ্মীপুরের কমলনগরের একটি ঘটনায়। গত মঙ্গলবার রাতে খোকনসহ ৪-৫ যুবক দুই বোনকে মুখে বেঁধে পাশের পরিত্যক্ত বাড়িতে নিয়ে গণধর্ষণ করে অচেতন অবস্থায় রেখে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় শুক্রবার দুপুরে পাঁচজনকে আসামি করে কমলনগর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে পৃথক দুটি মামলা হয়েছে। মামলায় আসামি করা হয় উপজেলার তোরাবগঞ্জ এলাকার খোকন, সিরাজ, ইউসুফ ও করিমকে।
চার সদস্যের মেডিকেল টিম নির্যাতিত ভিকটিমদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের আলামত পেয়েছে। কিন্তুই এখনও কাউকে আটক করা যায়নি। মামলা তুলে নেওয়ার জন্য হুমকি দেওয়া হচ্ছে ভিকটিমের পরিবারের সবাইকে।
ঘটনার পর থেকে সন্ত্রাসীদের ভয়ে পালিয়ে বেড়াতে হচ্ছে তাদের পরিবারের সবাইকে। নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন তারা।কত সাহস আমাদের দেখছেন, কারা এই কাজ করেছে তারা তো চিহ্নিত তারপরেও তাদের গ্রেফতার কেন করা যাবে না? পরিবারের সবাই সন্ত্রাসীদের ভয়ে পালিয়ে বেড়ায়। বড় লজ্জা হয়, তারাই অত্যাচারের শিকার আবার তাদেরই ভয় পেতে হয়। কাপুরুষের দল আবার মামলা তুলে নেওয়ার হুমকি দেয়। সন্ত্রাসীদের ভয়ে ও হুমকি-ধমকিতে তাদের পরিবারের সদস্যরা ঘুমাতে পারছেন না।
কিন্তু এর কি কোন সমাধান নেই? কি করে চলবে আমাদের পথ। মেয়েরা কি কোথাও নিরাপদ নয়?

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: