সর্বশেষ আপডেট : ৯ ঘন্টা আগে
বুধবার, ২২ ফেব্রুয়ারী, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ১০ ফাল্গুন ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

স্যালুট আমার রিকশা চালক বাবার প্রতি…

d007f177-09a4-41e5-a157-b63d7d187d13শুয়াইব হাসান::
জনাব মুজিবুর রহমান আমার বাবা। তিনি একজন রিকশা চালক। আমি আমার বাবার প্রতি হাজার বার স্যালুট জানাই। কারণ, আমার বাবা রিকশা চালিয়ে একটি ছেলে ও একটি মেয়েকে মেডিকেল ও বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াচ্ছেন।

আমি আমার এই বাবার জন্য গর্ববোধ করি। মো. মুজিবুর রহমানের বাড়ি রাজশাহীতে। আজ রাতে যখন শীলাবৃষ্টি হচ্ছে ঠিক তখন এই বাবা আমাকে আমার বাসায় পৌঁছে দিয়ে গেলেন।

কথা হল তার জীবন জীবিকা নিয়ে। কষ্ট লাগল আমাকে যখন নিরাপদে বাসা পর্যন্ত পৌঁছে দিতে চাচ্ছেন, ঠিক তখনই তার মাথায় আঘাত করছে শত শত বৃষ্টিশীলা!!!

আমার অবাক লাগল, বৃষ্টির মধ্যে এই রিকশা চালনার বিষয়ে জানতে গেলেই সোজা উত্তর দিলেন- আপনারা যদি আমার রিকশায় না উঠেন, আর আমি যদি রিকশা না চালাই তাইলে আমার ছেলেমেয়েদের লেখাপড়া হবে না। আমি তাদেরকে লেখাপড়া করাতে পারমু না।

কিছুটা ঝড়ের বেগে আমার চোখে পানি এসেছিল…। আবার তিনি বললেন, মুরব্বি (আমাকে সম্বোধন করলেন) আপনি যদি কখনো কোন বিপদে পড়েন আমাকে ডাকবেন, আমি আপনাকে গিয়ে উদ্ধার করবো।

নিজের জীবনের দু:খ একটাই তাঁর। ক্লাস এইটে (অষ্টম শ্রেণি) থাকা অবস্থায় মা মারা যান। যে কারণে জনাব মুজিবুর রহমান আর লেখাপড়া করতে পারেননি। আজ ছেলেমেয়ে ডাক্তার মাস্টার হচ্ছে। যে কারণে তাঁর এই কষ্টটুকু কিছুটা হলেও লাঘব হয়েছে। বুকে হাত দিয়ে কথাটুকু বললেন তিনি।

আমার বাবাও একইভাবে অনেক কষ্টে আমাদের লেখাপড়ার সুযোগ করে দিয়েছেন্। আমি আমার বাবাকে একশ’ টাকার বেশি দামের কোন পণ্য কিনে দিতে পারি না। কারণ, তিনি আমাদের জীবন নির্বাহ করার জন্য নিজে আরাম আয়েশ করতে চান না। একথাটুকু শেয়ার করার পর মুজিবুর রহমান আমাকে বললেন, যারা সুখ তৈরি করে তারা নিজেরা সুখ চায় না। যাদের উদ্দেশ্যে নিজেদের বিলিয়ে দেয় তার সেই উদ্দেশ্য সফল হলেই তারা খুশি থাকে। অকপটে এ কথাগুলো বললেন তিনি।

বাসায় পৌছে গেলাম। অঝরধারা বৃষ্টিতে বাসার গেইটে রিকশা থামানোর পর বৃষ্টিতে আমার কিছুই যেনো না ভিজে সেজন্য তিনি আমার বাসার গেইটটিও খুলে দিতে চাইলেন। আমি নিজেকে অপমানিত বোধ করলাম। তাকে থামিয়ে দিলে বললাম, বাবা আমি আপনাকে বাবা ডাকতে পারলে অনেক ভাল লাগবে। কারণ, আপনি রিকশা চালাতে পারেন, কিন্তু আপনার মহত্ব আর আত্মা অনেক বড়। আপনি দুই ছেলেমেয়েকে মানুষ করেছেন। যে স্বপ্ন আমারও ছিল। কিন্তু, ডাক্তার হবার মতো কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার মতো যোগ্যতা আমি অর্জন করতে পারিনি…

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: