সর্বশেষ আপডেট : ২৮ মিনিট ৭ সেকেন্ড আগে
রবিবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

যে ৫ মামলায় জামিন পেলেন খালেদা

khaleda-696x435নিউজ ডেস্ক::
মঙ্গলবার একদিনে পাঁচ মামলা থেকে জামিন পেয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। ঢাকার পৃথক পাঁচটি বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণের পর জামিন আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করেন।

মামলাগুলো হলো- হরতাল অবরোধে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে গাড়িতে আগুন দিয়ে মানুষ পুড়িয়ে হত্যা সংক্রান্ত দুটি মামলা, গ্যাটকো দুর্নীতি মামলা এবং রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে করা এক মামলা।

সকাল ১০ টা ৩৫-দুপুর ১টা ২০

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া মঙ্গলবার সকাল ১০টা ৩৫ মিনিটে আদালত পাড়ায় আসেন। প্রথমে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মো. কামরুল হোসেন মোল্লার আদালতে হাজির হয়ে গাড়িতে আগুন দেয়ার ঘটনায় তার নামে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হওয়া মামলায় আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন।

জামিন আবেদনের ওপর শুনানি শেষে ১১টা ২৩ মিনিটে মহানগর দায়রা জজ মো. কামরুল হোসেন মোল্লা তার জামিন মঞ্জুর করেন।

একই সঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লেফটেনেন্ট জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমানও জামিন পান। এ মামলায় গত ৩০ মার্চ ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত খালেদা জিয়াসহ ২৮ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছিলেন।

এরপর খালেদা জিয়া ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৩ এ গ্যাটকো দুর্নীতি মামলায় আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন। জামিন আবেদনের ওপর শুনানি শেষে বিচারক আবু আহমেদ জমাদার জামিন মঞ্জুর করেন।

তারপর দুপুর ১২টা ৩৫ মিনিটে বাকি তিন মামলায় হাজির হওয়ার জন্য সিএমএম আদালতে যান। সেখানে শুনানি শেষে আদালত সবগুলো মামলায় তার জামিন মঞ্জুর করেন। ঢাকার মহানগর হাকিম মো. ইউনুছ খান, মো. কাওছার আহমেদ ও মো. মারুফ হোসেনের আদালত খালেদা জিয়াকে তিন মামলায় জামিন দেন।

দুপুর সোয়া ১টার সময় আইনজীবীর মাধ্যমে আদালতে হাজির হওয়া সংক্রান্ত খালেদার একটি আবেদনের ওপর শুনানি শেষে আদালত আবেদন মঞ্জুর করলে দুপুর ১টা ২০ মিনিটে আদালত প্রাঙ্গণ ত্যাগ করেন তিনি। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন সাবেক মন্ত্রী সেলিমা রহমান।

এর আগে খালেদা জিয়ার আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া বলেছিলেন, খালেদা জিয়া আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করছেন। তিনি তিনবারের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। তার বয়স এখন ৭০। তাই সব দিক বিবেচনায় আমরা আশা করি, আদালত তার জামিন আবেদন মঞ্জুর করবেন।

বিএনপি-জামায়াত জোটের অবরোধ চলাকালে যাত্রাবাড়ীতে গাড়িতে আগুন দেয়ার ঘটনায় খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দুটি মামলা হয়েছে। একটি বিশেষ ক্ষমতা আইনে এবং একটি হত্যা মামলা। দুটো মামলাতেই বিএনপি নেত্রীকে হুকুমের আসামি করা হয়েছে। এর মধ্যে বিশেষ ক্ষমতা আইনে করা মামলায় গত ৩০ মার্চ খালেদা জিয়াসহ ২৮ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত।

যে পাঁচ মামলায় জামিন পেলেন খালেদা জিয়া-

যাত্রাবাড়ী থানার হত্যা মামলা

২০১৫ সালের ২৩ জানুয়ারি রাতে যাত্রাবাড়ীর কাঠেরপুল এলাকায় গ্লোরি পরিবহনের যাত্রীবাহী একটি বাসে পেট্রোলবোমা নিক্ষেপ করা হয়। এ ঘটনায় যাত্রী হত্যার অভিযোগে পরদিন খালেদা জিয়াকে হুকুমের আসামি করে যাত্রাবাড়ী থানায় মামলা করেন থানার এসআই কেএম নুরুজ্জামান।

ওই বছরের ৬ মে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) এস আই বশির উদ্দিন ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াসহ ৩৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। মামলায় খালেদা জিয়াকে পলাতক দেখানো হয়।

বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলা

একই ঘটনায় পরদিন খালেদা জিয়াকে হুকুমের আসামি করে বিশেষ ক্ষমতা আইনে যাত্রাবাড়ী থানায় মামলা করেন থানার এস আই কেএম নুরুজ্জামান।

ওই বছরের ৬ মে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) এস আই বশির উদ্দিন ঢাকা মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াসহ ৩৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। মামলায় খালেদা জিয়াকে পলাতক দেখানো হয়েছে।

চলতি সালের ৩০ মার্চ অভিযোগপত্র গ্রহণ করে পলাতক বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ ২৮ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মো. কামরুল হোসেন মোল্লা। আগামী ২৭ এপ্রিল গ্রেফতার সংক্রান্ত তামিল প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন ধার্য আছে।

গ্যাটকো দুর্নীতি মামলা

খালেদা জিয়াসহ অন্য আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান গ্যাটকোকে ঢাকার কমলাপুর আইসিডি ও চট্টগ্রাম বন্দরের কন্টেইনার হ্যান্ডলিংয়ের কাজ পাইয়ে দিয়ে রাষ্ট্রের ১৪ কোটি ৫৬ লাখ ৩৭ হাজার ৬১৬ টাকার ক্ষতি করার অভিযোগে ২০০৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর দুর্নীতি দমন কমিশনের উপ-পরিচালক গোলাম শাহরিয়ার চৌধুরী সাবেক চারদলীয় জোট সরকারের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া, তার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে তেজগাঁও থানায় এ মামলা করেন। দীর্ঘদিন পর দুদক মামলাটি সচল করার উদ্যোগ নেয়। ২০১৫ সালের ১৯ এপ্রিল শুরু হয় রুলের শুনানি।

২০১৫ সালের ৫ আগস্ট সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নামে গ্যাটকো দুর্নীতি মামলার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা রিট খারিজ করে দেন হাইকোর্ট।

চলতি বছরের ১৬ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টের দেয়া আদেশের কপি নথি নিম্ন আদালতে আসে। গত ২৩ ফেব্রুয়ারি গ্যাটকো দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে ১৩ এপ্রিলের মধ্যে আদালতে হাজির হয়ে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৩ এর বিচারক আবু আহমেদ জমাদার।

গুলশানের নাশকতার মামলা

গেল বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয় ঘেরাওয়ের পথে নৌমন্ত্রী শাজাহান খানের মিছিলে বোমা হামলার ঘটনায় বেগম খালেদা জিয়াসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন ঢাকা জেলা যানবাহন শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ঈসমাইল হোসেন বা্চ্চু।

রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা

২০১৫ সালের ২১ ডিসেম্বর বাংলাদেশ ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেন, ‘আজকে বলা হয় এত লাখ শহীদ হয়েছে, এটা নিয়েও অনেক বিতর্ক আছে।’ খালেদা আরও বলেন, ‘তিনি (বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান) বাংলাদেশের স্বাধীনতা চাননি। তিনি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হতে চেয়েছিলেন। জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা না দিলে মুক্তিযুদ্ধ হত না।’

ওই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে ২৩ ডিসেম্বর সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সম্পাদক ড. মোমতাজ উদ্দিন আহমদ মেহেদী বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বক্তব্যে ‘দেশদ্রোহী’ মনোভাব পাওয়া যাচ্ছে অভিযোগ করে তা প্রত্যাহার করতে উকিল নোটিস পাঠান। নোটিসের জবাব না পাওয়ায় ফৌজদারি কার্যবিধির ১৯৬ ধারা মোতাবেক রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার অনুমোদনের জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেন।

চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার অনুমোদন দেয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। পরে ২০১৬ সালের ২৫ জানুয়ারি ঢাকা মহানগর হাকিম রাশেদ তালুকদার আদালতে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সমিতির সাবেক সম্পাদক ড. মোমতাজ উদ্দিন আহমদ মেহেদী ১২৩ এর ‘ক’, ১২৪ এর ‘ক’ ও ৫০৫ ধারায় পিটিশন মামলা করেন।

গত ৩ মার্চ আদালতে হাজির হওয়ার জন্য সমন জারি করেন আদালত। সেদিন বেগম জিয়া আদালতে হাজির না হয়ে সময়ের আবেদন করলে ১০ এপ্রিল আদালতে হাজির হওয়ার জন্য নির্দেশন দেন। এ মামলাটি এখন বিচার নিষ্পওির জন্য বদলি হবে।

এদিকে, খালেদা জিয়ার আদালতে আগমন উপলক্ষে সকাল থেকে দেখা গেছে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে মূল ফটক, মহানগর দাযরা জজ আদালতের মূল ফটক, ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালতের মূল ফটকসহ রাস্তায় বাড়তি পুলিশ ও র‌্যাবসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর প্রচুর সংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা হয়।

এ ছাড়া ছিল সাদা পোশাকে গোয়েন্দা সদস্যরাও। তারা তল্লাশি ছাড়া কাউকে ভেতরে ঢুকতে দেয়নি।

আদালত পাড়ায় এদিন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, সিনিয়র যুগ্মু-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ, আদুল্লাহ আল নোমান, ড. খন্দকার মোশারফ হোসেনসহ দলের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: