সর্বশেষ আপডেট : ২ ঘন্টা আগে
শনিবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

আমি হৃদয়ের কথা বলিতে ব্যাকুল…

full_777840056_1459852349লাইফস্টাইল ডেস্ক:
মন যখন মনের কথা শুনছে না, তখন মনকে নিয়ে ভাবনার অন্ত নেই। সে কারণেই হৃৎপিণ্ড বা হার্ট বিকল হলে মহাবিপর্যয় নেমে আসে। তাই হার্ট সুস্থ ও স্বাভাবিক রাখতে জেনে নেব কিছু উপায়।

পারিবারিক এবং সামাজিক যোগাযোগ বাড়ান
হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা জানিয়েছেন, যারা সকালের পারিবারিক নাশতার টেবিল মিস করে তাদের হৃদযন্ত্রের সংকটের পরিমাণ অন্যদের থেকে ২৭ শতাংশ বেশি। তাই একা বাস করা ব্যক্তিরা অন্যদের তুলনায় বেশি হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকিতে থাকে। তাই অন্যদের সঙ্গে কথা বলুন, হাত মেলান, জড়িয়ে ধরুন এবং আরো বেশি সামাজিক হতে চেষ্টা করুন নিজের স্বার্থেই।

সপ্তাহে দু’বার শারীরিক সম্পর্ক
গবেষণা বলছে, সঙ্গীর সঙ্গে যারা মাসে একবার শারীরিক সম্পর্ক করে থাকেন তাদের তুলনায় যারা সপ্তাহে দুই বা তার বেশিবার করেন তাদের হার্ট বেশি সুস্থ থাকে। আমেরিকান জার্নাল অব কার্ডিওলজির মতে, শারীরিক সম্পর্ক হৃদযন্ত্রের ক্রিয়াকে নিরাপদ করে তোলে, যেভাবে পোশাক তাপমাত্রার হাত থেকে শরীরকে রক্ষা করে।

প্রতিদিন এককাপ আখরোট খান
প্রতিদিন এককাপ আখরোট-জাতীয় ফল খেলে শরীরের রক্ত সঞ্চালন প্রক্রিয়া কার্যকর হয়ে ওঠে। কেননা, আখরোট-জাতীয় ফলে থাকে ওমেগা-৩ নামের চর্বি, যা বিভিন্ন ধরনের প্রদাহের বিরুদ্ধে শক্তিশালী অবস্থান নেয় এবং এর ফলে দূষিত রক্ত নিয়মিত পরিসঞ্চালিত হয়ে হার্টের গতি স্বাভাবিক রাখে।

নাড়ির গতি লিপিবদ্ধ রাখুন
ঘুম থেকে ওঠার পর অন্য কিছু খোঁজার আগে আপনার প্রয়োজন নিজের নাড়ি মেপে রাখা। কারণ এ সময় শরীর আবারও পুরোমাত্রায় কার্যক্ষম হয়ে ওঠার প্রস্তুতি শুরু করে। তাই হার্টও হয়ে ওঠে সচল। স্বাভাবিকভাবে পূর্ণবয়স্ক একজন মানুষের এ সময় নাড়ির গতি হবে মিনিটে ৭০ বার বা তার চেয়ে কম। ডাক্তাররা জানিয়েছেন, যদি সপ্তাহ ধরে এর ব্যত্যয় ঘটে, তবে দ্রুত যোগাযোগ করতে হবে স্থানীয় হাসপাতালে।

এড়িয়ে চলুন দূষিত বায়ু
সম্প্রতি বিশ্বে দূষিত বায়ুর পরিমাণ বেড়েছে। আবহাওয়াবিদদের মতে, শীতকালে সকালের দিকে বাতাসে দূষিত পদার্থের পরিমাণ বেশি থাকে। সাধারণত বাতাসে থাকা অতিরিক্ত ধাতব পদার্থ নিঃশ্বাসের সঙ্গে শরীরে প্রবেশ করে স্কন্ধদেশের ধমনিপ্রাচীরকে আরো পুরু করে তোলে, যে কারণে রক্ত সঞ্চালন বাধাগ্রস্ত হয়।

হাতের মুঠোর ব্যায়াম করুন
টানা চার সপ্তাহের মুঠো সঞ্চালন-প্রসারণ ব্যায়ামও আপনার রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করবে। হাইপারটেনশন জার্নাল জানিয়েছে, এর মাধ্যমে আপনি রক্তের ঊর্ধ্বচাপ কমিয়ে আনতে পারেন প্রায় ১০ শতাংশ।

ডিমও সঙ্গী হবে
যারা বলছেন, বেশি বেশি ডিম খেলে কোলেস্টেরলের পরিমাণ বাড়ে তাদের জন্য দুঃসংবাদ। কেননা, ব্রাজিলীয় গবেষকরা জানিয়েছেন, ডিমের কুসুমে থাকা ভিটামিন ‘ই’, ‘বি’-১২ এবং ফলেট করোনারি আর্টারিকে পরিষ্কার রাখে। তবে কেউ যদি দিনে চারটি করে ডিম খেতে থাকেন, তবে তাকে এসব গবেষণার কথা ভুলে যেতে হবে।

শ্বাসের গতি নিয়ন্ত্রণ করুন
চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রতিদিন শ্বাসের ব্যায়াম করুন। উদাহরণ হিসেবে প্রথমে ৩০ সেকেন্ডে ছয়টি পূর্ণাঙ্গ শ্বাস-প্রশ্বাস সম্পন্ন করুন। এরপর সময়ের পরিমাণ কমাতে থাকুন। এ ব্যায়াম আপনার হৃদ সংকোচনসংক্রান্ত চাপ কমাতে ধন্বন্তরি ভূমিকা রাখবে।

সময়মতো ঘুমাতে যান এবং অবসাদ থেকে দূরে থাকুন
কোনোভাবেই কাজের ক্লান্তিকে আপনার ওপর চেপে বসতে দেবেন না। এ জন্য মাঝেমধ্যেই অবসাদ দূর করতে আপনার পছন্দকে গুরুত্ব দিন। সুইজারল্যান্ডের এক গবেষণা জানিয়েছে, অবসাদ দূর করার তৎপরতা হৃদযন্ত্রের সংকট কাটায় ৫৭ শতাংশের কাছাকাছি। যাদের অনিদ্রা রোগ আছে, তারা অন্যদের চেয়ে ৪৫ শতাংশ বেশি হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছেন। তাই প্রয়োজন অনুযায়ী ঘুমের জন্য প্রতিদিন বেশি বেশি শারীরিক পরিশ্রম করার আহ্বান জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। এমনকি যারা বেশি বেশি ঘুমকাতুরে তাদেরও সাবধান করে দিয়েছেন চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা। তাদের মতে, দিনে ১০ ঘণ্টা কিংবা তার বেশি সময় যাদের ঘুমে কাটে তাদের স্থূলতার পরিমাণ আশঙ্কাজনক হারে বাড়তে থাকে, কমতে থাকে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও।

বিদায় জানান ফ্লুকে
জার্নাল হার্টের প্রতিবেদন জানিয়েছে, যেসব ওষুধ ফ্লু-জাতীয় ভাইরাস দূর করতে ব্যবহার করা হয় তা হার্টের বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা সারাতেও কার্যকর ভূমিকা রাখে। উদাহরণ হিসেবে তারা ইনফ্লুয়েঞ্জার টিকার কথা বলেছেন। এই টিকা একই সঙ্গে ধমনির প্রদাহ দূর করতেও শক্তিশালী ভূমিকা রাখে।

চর্বিযুক্ত খাবার থেকে বিরত থাকুন
খাবারে থাকা চর্বি হৃৎপিণ্ডকে অকার্যকর করে তুলতে ভূমিকা রাখে। সুতরাং খাদ্য তালিকা থেকে নিয়মিতভাবে চর্বির পরিমাণ কমাতে থাকুন। প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় ক্রমাগতভাবে যুক্ত করতে থাকুন পটাশিয়াম সমৃদ্ধ খাবারের পরিমাণ। এ ক্ষেত্রে কলা এবং মিষ্টি আলুকে অগ্রাধিকার দিন।

ত্বকে দিন সূর্যের আলো
প্রতিদিন ২০ মিনিট করে সূর্যের আলোর সংস্পর্শে এলে শরীরে নাইট্রিক অক্সাইডের উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ে, যা রক্তচাপকে কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখে।

শব্দদূষণ থেকে দূরে থাকুন এবং নীরবতাকে প্রাধান্য দিন
হার্টের সমস্যার সঙ্গে উচ্চ ডেসিবেলের শব্দেরও বেশ যোগ রয়েছে। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, বাড়ি থেকে দূরে প্রতি ১০ ডেসিবেল শব্দের মাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আপনার হার্ট অ্যাটাকের পরিমাণও বাড়তে থাকে ১২ শতাংশ হারে।

সময় দিন গৃহপালিত প্রাণীদের
নিজেকে নীরোগ রাখতে বাড়ির গৃহপালিত কুকুর-বিড়াল বা পাখিদের প্রতিও মনোযোগী হোন। অন্য প্রাণীদের প্রতি উদারতা আপনার হার্টের সমস্যা কমাতে সাহায্য করবে।

অ্যানার্জি ড্রিংকস বাদ দিন, পান করুন গরুর দুধ
শক্তিবর্ধক এসব পানীয়কে ‘শত্রু’ হিসেবে গণ্য করুন। কেননা, এসব পানীয় কোনোভাবেই আপনার কোনো ধরনের উপকারে আসবে না, উল্টো রক্তচাপ বাড়িয়ে মুহূর্তেই আপনাকে ধসিয়ে দেবে। গরুর দুধে থাকা লো ফ্যাট হৃদযন্ত্রের ক্রিয়াবিরোধী কম ঘনত্বসম্পন্ন লিপ্রোপ্রোটিনের হার কমাতে সাহায্য করে। পাশাপাশি দুধে থাকা ক্যালসিয়াম শরীরে জমে থাকা পুরু চর্বির স্তর কাটতে ভূমিকা রাখে।

ব্যায়ামে কমান উপুড় হওয়ার প্রবণতা
সাধারণত উবু হওয়া ব্যায়ামের মাধ্যমে শরীরের পেশিগুলো আরো কার্যকর হয়ে ওঠে। কিন্তু এই ধরনের ব্যায়াম একই সঙ্গে হৃৎপিণ্ডকে নিঃশেষ করতেও ভূমিকা রাখে। তাই উপুড় ব্যায়াম সংকোচন শুরু করুন।

মন খুলে গান গান এবং গান শুনুন
হৃৎপিণ্ড ভালো রাখতে গলা ছেড়ে গান গাইতে ও শুনতে উৎসাহিত করেছেন চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা। তাদের মতে, দলবদ্ধ সংগীত কিংবা কারাওকে হাসিখুশি রাখে হৃদযন্ত্রকেও।

দারুচিনি খাওয়ার অব্যাস করুন
খাদ্য তালিকায় মসলা ব্যবহারে আপত্তি থাকলেও দারুচিনির ব্যবহার হৃৎপিণ্ডকে সতেজ করে তুলতে অনন্য ভূমিকা রাখে। প্রতিবেলা খাবারে দুই চা চামচ দারুচিনি রক্তে শর্করার পরিমাণ কমিয়ে আনে, এমনকি মাংস খাবার পরের মুহূর্তেও।

সালাদ এবং শাকসবজিকে সাথেই রাখুন
খাবারে যদি সবুজ সালাদ থাকে তাহলে আপনার রসনা তৃপ্তির পাশাপাশি হার্টও খুশি থাকবে। তাই বেশি বেশি যুক্ত থাকুন ভিনেগার, জলপাইয়ের তেল কিংবা লেবুর শরবতের সঙ্গে। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, যাদের খাদ্য তালিকায় প্রতিদিন অন্তত দু-একটি শাকপাতা থাকে, তাদের হৃৎপিণ্ড অন্যদের তুলনায় ১২ শতাংশ বেশি সবল থাকে। আলু কিংবা কলাই-জাতীয় খাবারের চেয়েও গুটিযুক্ত ফলধারী লতা, যেমন- শিম, বরবটি রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে। তাই প্রতিদিনের খাবারের তালিকায় এগুলো রাখতে পারেন ওষুধ বিবেচনায়।

হাসিখুশি আর প্রাণবন্ত থাকুন
হাসিখুশি আর প্রাণবন্ত মুখাবয়ব শুধু স্টাইল বা ফ্যাশন আইকনই আপনাকে করে তুলবে না, বাড়িয়ে দেবে আপনার নীরোগ থাকার প্রবণতাও। জন হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা জানিয়েছেন, প্রাণবন্ত উপস্থিতি আপনার অবসাদ ও অভ্যন্তরীণ প্রদাহকে ছুটি দেবে এবং অলিন্দ ও নিলয়ের প্রকোষ্ঠকে সুঠাম রাখবে। রঙিন সবজি বা তরিতরকারির প্রতি আগ্রহ বাড়ান। কেননা কমলা বা সবুজ রঙের প্রতিটি সবজি আপনার রক্তচাপকে অনিয়মিত প্রবাহের হাত থেকে সুরক্ষা দেবে, যা হৃদযন্ত্রের কার্যকারিতার জন্যও বেশ উপকারী।

নিয়মিত হাঁটুন, সাইকেল চালান এবং সাঁতার কাটুন
হার্ট ভালো রাখতে হলে প্রতিদিন কমপক্ষে তিন কিলোমিটার হাঁটতে হবে। এ ক্ষেত্রে হাঁটার আগে ও পরে হার্ট রেটের সংখ্যা লিপিবদ্ধ করতে হবে। প্রতিদিনের বাহন হিসেবে সাইকেলকে যদি গ্রহণ করুন। প্রতিদিন অন্তত ১০ মিনিট সাইক্লিং হৃদযন্ত্রের প্রবাহকে স্বাভাবিক রাখবে। সাঁতার কাটুন প্রতিদিন।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: