সর্বশেষ আপডেট : ৫৬ সেকেন্ড আগে
রবিবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

রক্তস্নানের ভোটে, দুধস্নানে কক্ষচ্যুত রাজনীতি

MG_3155-e1448896915550-696x9281পীর হাবিবুর রহমান:
রক্তস্নানের ভোটে, দুধস্নানে কক্ষচ্যুত রাজনীতি। টাঙ্গাইলের ভুঁইয়াপুর উপজেলার অলোয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি রহিজ উদ্দিন আকন্দ গত পাঁচ বছর ইউনিয়নের জনপ্রিয় চেয়ারম্যান ছিলেন। এর আগের ইউপি নির্বাচন দলীয় মার্কায় না হলেও স্থানীয়ভাবে তিনি বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবেই জয় লাভ করেছিলেন। এবার তারই মনোনয়ন পাওয়ার কথা। কিন্তু দলীয় মনোনয়ন তাকে না দিয়ে নৌকা প্রতীক দেওয়া হয় ঠিকাদার নুরুল ইসলাম সরকারকে। ভোটযুদ্ধে ব্যক্তি ইমেজ ও দলের গ্রামীণ নেতৃত্বে নিবেদিত থাকার যোগ্যতা নির্বাসিত হয়েছে ঠিকাদারের অর্থের ক্ষমতার কাছে। বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে হাড্ডা হাড্ডি লড়াই করে মাত্র ১৪৯ ভোটের ব্যবধানে তিনি হেরে যান। বেদনা, ক্ষোভ, অভিমানে দুধ দিয়ে গোসল করে নিজেকে ‘পবিত্র’ করে রাজনীতি থেকে সরে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

তার বক্তব্য, ইউপি চেয়ারম্যান হিসেবে পাঁচ বছর এলাকায় ব্যাপক কাজ করেছেন। ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি হিসেবে দলের জন্য শ্রম দিয়েছেন। তার পরও দল তাকে মনোনয়ন দেয়নি। জনগণ তাকে ভালোবাসে বলেই এতো ভোট দিয়েছে। কিন্তু যে দলের জন্য এতো শ্রম দিয়েছেন সেই দল থেকে তিনি কি পেয়েছেন? এই প্রশ্ন থেকে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন আর রাজনীতি করবেন না। তার মতে, দুধ স্নানে তিনি পবিত্র হয়েছেন। এখন নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়বেন আর যতটুকু পারবেন মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রাখবেন। তিনি ভবিষ্যতে নির্বাচন না করারও ঘোষণা দিয়েছেন।

কয়েক দশক ধরে বাংলাদেশের রাজনীতিতে সৎ, গণমুখী, আদর্শবান রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা নির্বাচনের যোগ্যতা হারাচ্ছেন। অর্থ ও পেশী শক্তির প্রবল দাপট নিয়ে যারা রাজনীতিতে আসছেন তাদের জন্য আদর্শবান, সৎ নেতাকর্মীরা কোণঠাসা হতে হতে সরে দাঁড়াচ্ছেন।

বঙ্গবন্ধু হত্যার পর স্বাধীনতাত্তোর বাংলাদেশের রাজনীতিতে ভোটের ময়দানে কেন্দ্র দখল, ভোট ডাকাতি, মিডিয়া ক্যু, পেশী শক্তি ও কালো টাকা নির্ভর ভোটযুদ্ধে অসহায়ের মতো পরাজয় দেখেছেন সবচেয়ে বেশি আওয়ামী লীগের গণমুখী নেতাকর্মীরা। আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা যেখানে কর্মীদের কেন্দ্রের চা-পানি খাওয়ার খরচ দিতে পারতেন না, সেখানে সামরিক শাসকদের গর্ভে জন্ম নেওয়া সরকারি দলগুলোর প্রার্থীরা অর্থ, পেশী, প্রশাসন সবকিছুই ব্যবহার করতেন। সেইখানে আওয়ামী লীগের ভোটযুদ্ধের শক্তির উৎস ছিল আদর্শবান নেতাকর্মী, প্রার্থী, আদর্শ নির্ভর রাজনীতি ও সাধারণ মানুষের ভালোবাসা। সামরিক শাসন কবলিত বাংলাদেশে শাসক দল সামরিক-বেসামরিক আমলা, ব্যবসায়ী, পেশীবহুল আধিপত্য বিস্তারকারীদের মনোনয়ন দিয়ে রাজনীতিতে নামানো, ভোটের ময়দানে কেন্দ্র দখল, জাল ভোট, সন্ত্রাস, ভোট ডাকাতি ও মিডিয়া ক্যু’র মধ্য দিয়ে প্রহসনের নির্বাচন মানুষকে বিক্ষুব্ধ করেছে। রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা শক্ত মনোবল নিয়ে আত্মত্যাগের রাজনীতিতেই পা বাড়িয়েছে গণতন্ত্রের সূর্যস্নানে ‘আমার ভোট আমি দেব, যাকে খুশি তাকে দেব’ এমন নির্বাচন ফিরিয়ে আনার জন্য।

রাজনীতিটা রাজনীতিবিদদের হাতে রাখার সংগ্রামটি তারা করেছেন। সামরিক শাসনোত্তর গণতন্ত্রের নবযাত্রায় ১৯৯১ সালের জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনয়ন দানের ক্ষেত্রের ত্যাগী নেতাকর্মীদের তুলে আনার ধারাটি অব্যাহত রেখেছিল। কিন্তু সেনাশাসক জিয়াউর রহমানের হাতে তৈরি ক্ষমতাসীন বিএনপির নেতাকর্মীরা রিলে রেইসের মতো পরবর্তী সেনা শাসক এরশাদের জাতীয় পার্টিতে চলে গেলে দলটি সাংগঠনিক ভাবে প্রার্থী ও নেতাশূন্য হয়ে পড়ে। সেই নির্বাচনে বিএনপি অবসরপ্রাপ্ত সামরিক বেসামরিক আমলাই নয় ব্যবসায়ীদের ধরে এনে উদার হস্তে মনোনয়ন দেয়। সেই নির্বাচনে আদর্শিক নেতাকর্মীদের নিয়ে ভোটযুদ্ধে হেরে যাওয়ার পরিণতিতে ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগও সেই ধারায় প্রতিযোগিতায় নামে। ধীরে ধীরে আজকের আওয়ামী লীগে কার্যত মাঠ পর্যায়ে আদর্শিক রাজনীতির পথে উঠে আসা সংগঠনের মূল ধারার সৎ নেতাকর্মীরা ছিটকে পড়েছেন।

সময়ের বাঁকে বাঁকে ব্যবসা বাণিজ্য, সামাজিক প্রভাব-প্রতিপত্তি ও আধিপত্য বিস্তারের রুগ্ন রাজনীতির ধারায় যুক্ত হয়েছেন সামরিক বেসামরিক আমলাদের পাশাপাশি ব্যবসায়ী, ঠিকাদার এক কথায় অর্থ ও পেশী শক্তি নির্ভর ব্যক্তিরা। সেদিনের আওয়ামী লীগে ছাত্র জীবন থেকে দলীয় রাজনীতিতে পথ হাঁটা আদর্শবান নেতাকর্মী, আইনজীবী, শিক্ষকরা মনোনয়ন পেতেন। একালে দৃশ্যপট এতোটাই বদলে গেছে যে, সংগঠন পরিচালনার ধ্যান ধারনায় যেমন পরিবর্তনের হাওয়া দেখা দিয়েছে, সামরিক শাসকদের প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দলগুলোর মতো গণতান্ত্রিক ফরমানে উপর থেকে যেমন তৃণমূল নেতা বসিয়ে দিচ্ছেন তেমনি একজন পেশাদার আইনজীবী বা শিক্ষকের মনোনয়ন লাভ অলৌকিক স্বপ্নের মতো হয়ে উঠেছে। গণতন্ত্র বলতে বলতে রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটেছে।

গণতন্ত্র মানুষের ভোটাধিকারের দাবি তুলতে তুলতে স্বাধীন বাংলাদেশের দুই যুগ কেটে গেছে। গণতন্ত্রকে শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক রূপ, সৎ মানুষের রাজনীতি, দলীয়করণ মুক্ত প্রশাসন স্বাধীন ও শক্তিশালী সকল সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে দাবি উঠেছে বিরামহীন। হরতাল, অবরোধ ও প্রতিহিংসা ও সাম্প্রদায়িক রাজনীতির বিরুদ্ধে বিরামহীন কথাবার্তা চলছে। দুর্বৃত্তায়নের কবল থেকে, লুটেরা সংস্কৃতি আগ্রাসন থেকে রাজনীতিকে মুক্ত করার কথাবার্তাও ঢের হয়েছে। কাজের কাজ কিছুই হয়নি। দিনে দিনে উল্টো জনগণের হৃদয় নিঃসৃত এসব চাওয়া কার্যত পরের দুই যুগে যেন নির্বাসিত হয়েছে। দেশজুড়ে উন্নয়ন হচ্ছে কিন্তু তাই বলে থেমে নেই দুর্নীতি। ব্যাংকের সংখ্যা অনেক বেড়েছে, থামানো যায়নি ব্যাংক কেলেঙ্কারি। অর্থনৈতিক অগ্রগতি হলেও দেশের বাইরে টাকা পাচার থামছে না। রাজনীতি হয়ে উঠেছে জীবিকা নির্বাহের মাধ্যমই নয় রাতারাতি বিত্ত-বৈভব ও ক্ষমতার মালিক হওয়ার পরম আশ্রয়। সম্পদ পাহারার ছায়াই নয় অন্যের জায়গা সম্পত্তি দখলের শক্তি। আত্মত্যাগের পথে মানব সেবার রাস্তা থেকে ব্যক্তি, গোষ্ঠী স্বার্থের ভোগ বিলাসের পথ নিয়েছে রাজনীতি।

কার্যত কোন দলকেই আর আদর্শিক দল বলা যায় না। আদর্শিক দলগুলোর ভোটের ময়দান দূরে থাক রাজনীতির ময়দানেই ফ্যাক্টর নয়। গণসম্পৃক্ত বড় দলগুলোর মধ্যে ক্ষমতা নির্ভর রাজনীতির বিপরীতে আদর্শ নির্ভর রাজনীতি নির্বাসিত। এই অসুস্থ প্রতিযোগিতার সড়ক দ্বীপে দাঁড়িয়ে কোন দলই দাবি করতে পারছে না, সংবিধান, আইন, বিধি-বিধান অনুযায়ী গণতান্ত্রিক, নির্লোভ, আদর্শিক রাজনীতির উত্তরাধিকারিত্ব বহন করছে। যারা রাজনীতিবিদ ও রাজনীতিকে সংস্কার করতে এসেছিলেন সেইসব গণবিচ্ছিন্ন সুশীলেরা আরও বেশি ভুলের স্বাক্ষর রেখে ব্যর্থতার কলঙ্ক মাথায় নিয়ে বিদায় নিয়েছেন।

পর্যবেক্ষকরা মনে করেন, আমাদের সুমহান মুক্তিযুদ্ধ ও দীর্ঘ গণতান্ত্রিক সংগ্রামের ভেতর দিয়ে মানুষের হৃদয় নিঃসৃত যে গণতান্ত্রিক, অসাম্প্রদায়িক, আদর্শিক রাজনীতি চেয়েছেন তা রাজনৈতিক শক্তিকেই হতে হবে। রাজনীতিবিদরাই রাষ্ট্র পরিচালনা করবেন। রাজনীতিবিদরাই গণরায় নিয়ে সংসদে এসে জাতীয় স্বার্থে আলাপ, আলোচনা, বিতর্কের মধ্য দিয়ে জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণ করবেন। এদেশে মানুষের আকাঙ্ক্ষা থেকে গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিক রূপ ছিটকেই পড়েনি মানুষের অবাধ ভোটাধিকারের ক্ষমতাও হারিয়ে যাচ্ছে।

এই দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ৬৭ বছরের গৌরবময় রাজনীতির মুকুট পড়া দলটির নাম আওয়ামী লীগ। পাকিস্তান সৃষ্টির দু বছরের মাথায় প্রতিষ্ঠিত এই দলটি বহু উত্থান পতন, বহু নেতাকর্মীর আত্মবলিদানের মধ্য দিয়ে বাঙালি জাতিকে আমাদের মহান নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে এই মোহনায় স্বাধীনতার মন্ত্রে মিলিত করেছিল। জনগণের আরাধ্যের গণতন্ত্রের জন্য একটি জাতিকে বুলেটের সামনে বুকটা চিতিয়ে দিতে শিখিয়েছিল। স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্ব দানের অহংকারেই অভিষিক্ত নয়, বঙ্গবন্ধু হত্যার পর মুজিব কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ভোট ও গণতন্ত্রের দীর্ঘ সংগ্রামে পোর খাওয়া এক রাজনৈতিক ঐশ্বর্যমণ্ডিত দল। এককালের গণমুখী, গরীবের স্বার্থ রক্ষার গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান, আওয়ামী লীগের কাছে রাষ্ট্র ও দলের অভ্যন্তরে গণতন্ত্রের বসন্ত আনাটাই সবার চাওয়া। আজকের রাজনীতির ধারায় তৃণমূল আওয়ামী লীগ নেতাদের মুখেই উচ্চারিত হয়েছে আদর্শবানদের বদলে হাইব্রিড সুবিধাবাদীরা দলকে গ্রাস করেছে। মনোনয়ন বাণিজ্য ও কমিটি বাণিজ্যের কলুষতা থেকে ভোগবাদী লোভের রাজনীতির দুষ্টচক্রের হাত থেকে আওয়ামী লীগকে বের করার মহান উদ্যোগটি মুজিব কন্যা শেখা হাসিনাকেই নিতে হবে। সারাদেশে এই চক্রের সংখ্যা কম। দৃশ্যপটে এদের শক্তি ম্লান মনে হলেও আদর্শবান, নির্লোভ নেতাকর্মীর সংখ্যায় আওয়ামী লীগ নামের দলটিতে বেশি। দেশের গণতন্ত্রপ্রিয় মানুষের চাওয়ার জায়গাটিতেও তিনি। সার্বিক পরিস্থিতি শাসক দলের বা সরকারের নিয়ন্ত্রণে থাকার নামই গণতন্ত্র নয়। গণতন্ত্র ধারণ, লালন, চর্চা ও বিকাশের ব্যাপার। সকল মতামতের দখিনা জানালা খুলে দিয়ে পরমতসহিষ্ণুতাই এর উজ্বলতর দিক।

দেশের জনগণকে বাইরে রেখে অনুষ্ঠিত সাংবিধানিক ধারাবাহিকতার নির্বাচনে প্রশ্নবিদ্ধ সংসদ থাকলেও সেখানে সরকারের এক তরফা বন্দনা গীত রচিত হচ্ছে। সরকারের জবাবদিহিতার জায়গা সংসদ। সংসদে সরকার পরিচালিত বা সরকার নিয়ন্ত্রিত ঘর জামাই বিরোধী দল রয়েছে। সরকারের সমালোচনা দূরে থাক, ইতিবাচক রাজনীতির নামে সরকার বন্দনায় সরকারি দলের এমপিদের চেয়ে তারা বেশি এগিয়ে। তার চেয়ে বেশি এগিয়ে আওয়ামী লীগ জোটের সেকালের বিপ্লবীরা। হঠকারী, সহিংস, গণবিচ্ছিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচি নিতে গিয়ে শক্তিশালী বিরোধী দল বিএনপির কোমর খানিকটা ভাঙা। মামলা-মোকদ্দমা ও নির্বাসনের জালে বন্দি নেতাকর্মীরা।

একটি গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় বা একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে যে রাজনীতির চিত্রপট সামনে থাকার কথা সেটি দৃশ্যমান নয়। রাজনীতির গতিপ্রকৃতি যখন নিস্তরঙ্গ হয়ে যায় তখন গণতান্ত্রিক চিন্তা চেতনায় বেড়ে ওঠা মানুষেরাও প্রাণহীন হয়ে যায়। গণতন্ত্রের চিরচেনা পথগুলো যখন হারিয়ে যায় তখন শাসক দলের নেতাকর্মীরা উন্নাসিক, বেপরোয়া ও অতিকথনে ডুব দেয়। সার্বিক পরিস্থিতি বর্তমানে সেটিই দেখাচ্ছে।

সরকারের দুইজন মন্ত্রী অতিকথনের কারণে উচ্চ আদালতের দণ্ড ভোগ করছেন। পূর্ণাঙ্গ রায় বের হলেই তাদের ভাগ্য নির্ধারণ হবে। কিন্তু জাতীয় নির্বাচন থেকে ইউপি নির্বাচন পর্যন্ত গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় মানুষের অবাধ ভোটাধিকারের দৃশ্যপট হোঁচট খেয়েছে। শক্তিশালী সরকারের বিপরীতে না আছে কার্যকর বিরোধীদল, না আছে শক্তিশালী সরকার বিরোধী রাজনৈতিক শক্তি। বিএনপি খড়কুটো ধরে দুই পর্বের ইউপি নির্বাচনে ভেসে থাকলেও এখন রণে ভঙ্গ দিতে চাচ্ছে। ভোটের চেয়ে রাজনীতিতে এখন জানের মায়াই বেশি বিএনপির। আওয়ামী লীগের মুখোমুখি আওয়ামী লীগ, ইউপি নির্বাচন সহিংস করে তুলেছে।

এই ইউপি নির্বাচন ইতোমধ্যে যে চেহারা দেখিয়েছে তাতে পর্যবেক্ষকরা বলছেন, গণতন্ত্রের জন্য কতটা সুফল বয়ে আনবে তার চেয়েও বড় আশংকা হয়ে দেখা দিয়েছে। শাসক দলের জন্য এক সময় জেলা পর্যায়ে আভ্যন্তরীণ দলীয় কোন্দল-সংঘাত অল্প বিস্তর দৃশ্যমান হলেও নির্বাচনের পরে গ্রাম পর্যায়ে দৃশ্যমান হতে পারে।

একজন তৃণমূল কর্মী রহিজ উদ্দিন আকন্দ দলীয় মনোনয়ন না পাওয়ার বেদনায় বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে পরাজয়ের মধ্য দিয়ে তার ইমেজটাকেই প্রমাণ করে যাননি দুধস্নানে রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা দিয়ে হৃদয়ে রক্তক্ষরণের প্রতিবাদী পথটিই দেখিয়েছেন। হৃদয়ে রক্তক্ষরণ নিয়ে এমন রাজনৈতিক কর্মী সারাদেশে আওয়ামী লীগের তৃনমূলেই নয় বিএনপিতেও রয়েছে। চলমান রাজনীতির ধারা আদর্শবান কমিটেড রাজনৈতিক কর্মীদের সরে দাঁড়ানোকেই ইঙ্গিত করছে না রাজনীতির কক্ষচ্যুত হওয়ার ইঙ্গিতও দিচ্ছে।

লেখক: প্রধান সম্পাদক, পূর্বপশ্চিমবিডি ডটকম

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: