সর্বশেষ আপডেট : ৬ ঘন্টা আগে
বৃহস্পতিবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

গণহত্যায় ৯ লাশের সাক্ষী সিলেট আবহাওয়া অফিস

daily sylhet 71 newsদেলোয়ার হোসাইন::
একাত্তরের ৫ এপ্রিল। বাংলাদেশের গণহত্যার ধারাবাহিকতায় সিলেটে বর্বরতার নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে পাক সেনাবাহিনী। ওইদিন সকালে নির্মমভাবে হত্যা করে আবহাওয়া অধিদপ্তরের ৯জন কর্মকর্তা কর্মচারিকে।

পাক বাহিনীর গণহত্যার শিকার নয়জনের মধ্যে রয়েছেন অফিসের উচ্চ পর্যবেক্ষক আব্দুস সবুর খোন্দকার, উচ্চ পর্যবেক্ষক আমিনুল হক, পর্যবেক্ষক আনোয়ার হোসেন, পর্যবেক্ষক আবু তাহের, মেকানিক গ্রেড-১ জামাল হোসেন, বেলুন মেকার মমতাজ উদ্দীন, পিয়ন আকলিম উদ্দিন, উপনৈমিত্তিক চৌকিদার রেনু মিয়া, বাবুর্চি আকদ্দছ আলী। একই কক্ষে ওই ৯জনকে ব্রাশফায়ার করে পাকবাহিনী হত্যা করে।

আবহাওয়াবিদ সাঈদ আহমদ চৌধুরী জানিয়েছেন, আমরা যতদূর জেনেছি ৪ এপ্রিল রাতে শাহী ঈদগাহ ও সাপ্লাই এলাকায় সরকারি অফিসের কর্মকর্তা ও পুলিশ সদস্যদের হত্যা করে। ওই রাতে প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করেন মুক্তিবাহিনীর সদস্যরা। মুক্তিযোদ্ধারা আবহাওয়া অফিসের টিলার দিকে অবস্থান নিয়ে গুলি বর্ষন করেন। স্বশস্ত্র বাহিনীর সাথে দীর্ঘসময় গোলাগুলির পর একসময় রায়নগর-শিবগঞ্জের দিকে মুক্তিসেনারা সরে যান।

12920919_776505125785005_2115086065_n৫ এপ্রিল সকালে আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তারা গোলাগুলির শব্দ শুনতে পান। তারা খবর জানতে পারেন পাক সেনারা সেদিকে অগ্রসর হচ্ছে। গুলি করতে করতে আবহাওয়া অফিসের দিকে এগিয়ে আসে পাক স্বশস্ত্র সেনারা। খবর পেয়ে আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারিরা ভয়ে একটি কক্ষে জড়ো হয়ে যান।

এক পর্যায়ে পাক বাহিনী আবহাওয়া অফিসের টিলায় উঠে অফিস কক্ষে ঢুকে পড়ে। তারা বিভিন্ন কক্ষের দরজা ভেঙ্গে কর্মকর্তা-কর্মচারিদের খুঁজতে থাকে। তখন ভাত রান্না করছিলেন আবুল কাশেম। তাকে সে কক্ষ থেকে ধরে নেয় তারা। লাথি আর অস্ত্রের আঘাতে জর্জরিত করে তাকে জড়ো হওয়া সকলের সাথে একই কক্ষে নিয়ে যায়। সেখানে ব্রাশফায়ার শুরু করে নির্মম ও নৃশংসভাবে হত্যা করে। তবে, যুবক আবুল কাশেম রক্তাক্ত কক্ষে চোখ খুলে দেখেন পাকিস্তানী সেনারা চলে গেছে। তিনি খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে আবহাওয়া অফিস থেকে পালিয়ে বাঁচেন।

এরই মধ্যে সারা শহরে আবহাওয়া অফিসের গণহত্যার খবর ছড়িয়ে পড়ে। আতংকিত এলাকাবাসী দু’দিন পর্যন্ত আবহাওয়া অফিসের ধারেও ভিড়েননি; এমনকি অফিসের আরো দু’একজন কর্মকর্তা-কর্মচারি যারা অন্য সময়ে অফিসে আসার কথা ছিল।

12966493_776505112451673_223002427_nদু’দিন পর স্থানীয়রা আবহাওয়া অফিসে গিয়ে নিহতদের শিয়ালে টানা হাড়, রক্তাক্ত ও ক্ষতবিক্ষত লাশ দেখতে পান এবং অফিসের টিলায় একটি কবর খুঁড়ে তাদেরকে একই কবরে দাফন করেন। নগরীর শাহী ঈদগাহস্থ আবহাওয়া অধিদপ্তর সিলেট অফিসের উঁচু টিলায় ৯ জন কর্মকর্তা কর্মচারির গণকবর রয়েছে। প্রতিবছর আবহাওয়া অফিস, খেলাঘর সিলেটসহ বিভিন্ন সংগঠন এই দিনটিকে স্মরণ করে শহীদদের কবরে ফুল দেন।

আবুল কাশেম মুক্তিযুদ্ধের পরও সিলেট আবহাওয়া অফিসে কর্মরত ছিলেন। ২০০২ সালের দিকে তিনি কর্মরত অবস্থায় মারা গেছেন। তার বাড়ি চট্টগ্রামে। আবুল কাশেমের স্মৃতিচারণ থেকে সাঈদ আহমদ চৌধুরী এসব তথ্য দিয়েছেন।

তিনি জানান, পাকিস্তানি সৈন্যরা বিমানবন্দর থেকে প্রথমে পার্শ্ববর্তী সিলেট রেসিডিন্সিয়াল মডেল স্কুলে (বর্তমান ক্যাডেট কলেজ) ঘাঁটি স্থাপন করে। পরে তারা সিলেট শহরের দিকে অগ্রসর হয়। এবং সিলেট থেকে যাদেরকে ধরে নিয়ে যেতে পাক বাহিনী তাদেরকে সেখানেই নিয়ে নির্যাতন চালানো হতো।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: