সর্বশেষ আপডেট : ১ ঘন্টা আগে
শুক্রবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

সোনাই নদীতে বাঁধ দেয়ার প্রতিবাদে ঢাকা-সিলেট সড়ক অবরোধ

full_1152400553_1432363845ডেইলি সিলেট ডেস্ক::
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার সোনাই নদীতে বাঁধ দেয়ায় পাহাড়ি ঢলে হাজার হাজার একর ফসলি জমি পানির নিচে তলিয়ে গেছে। ফসলের ক্ষতিতে ক্ষুব্ধ হয়ে শত শত কৃষক সোমবার সকালে সোনাই নদীতে তৈরি করা বাঁধ ভেঙে দেয়। বাঁধটি কেটে দেয়ার দাবিতে ওইদিন সকালে ক্ষুব্ধ কৃষকরা ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে গাছ ফেলে যান চলাচল বন্ধ করে দিয়ে বিক্ষোভ করে। এতে মহাসড়কের দুপাশে শত শত গাড়ি আটকা পড়ে।

এ সময় উত্তেজিত কৃষকরা একটি বাস ভাঙচুর করে। প্রায় ৩০ মিনিট মহাসড়ক বন্ধ করে রাখার পর উত্তেজিত কৃষকরা বাঁধ ভেঙে ফেলে। স্থানীয় কৃষকরা জানান, সোনাই নদীতে বাঁধ দেয়ার ফলে কয়েক দিনের টানাবর্ষণে ও পাহাড়ি ঢলে আলাকপুর, খিলগাঁও, পূর্ব মাধবপুর, গোপালপুর, বার চান্দুরা, হরিশ্যামা, সম্বতপুর, মিঠাপুকুর, সুন্দাদিল, দ. বুল্লা, দিঘিরপাড়, দুর্গাপুর , নোয়াগাঁও এলাকার হাজার হাজার ফসলি জমি পানির নিচে তলিয়ে যায়। বাঁধটি কেটে দেয়ার জন্য গত ২৯শে মার্চ ১০/১২টি গ্রামের কৃষকরা ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ শুরু করে। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। ওইদিন কৃষকরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রাশেদুল ইসলামকে বিষয়টি অবগত করেন। কিন্তু বাঁধ কেটে না দেয়ায় ও রোববারের বর্ষণে ফসলি জমিগুলো আরও পানির নিচে যেতে থাকে।

এতে ক্ষুব্ধ হয়ে কৃষকরা ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করে। পরে একপর্যায়ে কৃষকরা একটি বাস ভাঙচুর করে এবং নিজেরাই বাঁধ ভেঙে ফেলে। সূত্র জানায়, সম্প্রতি সোনাই নদীর ব্রিজ ভেঙে নতুন করে করার জন্য টেন্ডার দেয়া হলে কাজ পান রানা বিল্ডার্স নামে একটি প্রতিষ্ঠান। তাদের শুকনো মৌসুমে ডাইভারসন করার কথা। অথচ এখন ব্রিজের নিচে বাঁধ দিয়ে ডাইভারসন করার ফলে টানাবর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে ফসলি জমি পানির নিচে তলিয়ে যায়। সহকারী কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা ঋষিকেশ ভট্টাচার্য জানান, বোরো ৩শ হেক্টর, সবজি ২শ হেক্টর পানির নিচে তলিয়ে গেছে। পাহাড়ি বর্ষণে পলি পড়ে ফসল নষ্ট হয়ে যাবে। ইউপি সদস্য গোলাপ খান জানান, টানাবর্ষণে ও সোনাই নদীতে বাঁধ দেয়ার ফলে পানি আটকে পড়ায় খিলগাঁও-সম্বতপুর এলাকার প্রায় ৫০ একর ফসলি জমি পানির নিচে তলিয়ে যায়।

আদাঐর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মীর খুর্শিদ আলম ফসলি জমি তলিয়ে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, বাঁধটি কেটে দেয়ার জন্য আইনশৃঙ্খলা কমিটির মিটিংয়ে তিনি দাবি করেছেন। কিন্তু বাঁধ কেটে দেয়া হয়নি। জমি তলিয়ে যেতে দেখে কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পড়ে। একপর্যায়ে তারা ক্ষুব্ধ হয়ে বাঁধ ভেঙে ফেলে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম বলেন, বাঁধের বিষয়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগকে আগেই অবগত করা হয়েছিল। বাঁধ কেটে না দেয়ায় উত্তেজিত কৃষকরা বাঁধ ভেঙে দেয়। সড়ক ও জনপথ বিভাগের লোকজন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে কৃষকদের সঙ্গে কথা বলেছেন।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: