সর্বশেষ আপডেট : ১ ঘন্টা আগে
বুধবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

পর্যটক শূন্য নেপাল কাঠমান্ডু

nepal-1হৃদয় দেবনাথ, কাঠমান্ডু থেকে ফিরে::  নেপাল দেশটি মূলত পর্যটন ব্যবসার উপর নির্ভরশীল। আমাদের দেশের মতো বড় বড় কলকারখানা এখানে নেই। প্রতিবছর নেপাল ভ্রমনে আসা দেশ বিদেশী পর্যটকদের সেবা দেয়া তাদের অন্যতম কাজ। দেশটির জাতীয় আয়ের প্রধান অংশ পর্যটন খাত।

প্রতিবছর দেশটিতে আছে নূন্যতম পাঁচ লাখ বিদেশী পর্যটক। কিন্তু সম্প্রতি দেশটির উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ভূমিকম্পের করনে আপাতত কোন পর্যটক নেই বললেই চলে। কারন, ভূমিকম্পে তাদের ইতিহাস ঐতিহ্য সহ দর্শনীয় স্থানগুলো মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। গত কয়েকদিনে আমি নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর বেশ কিছু স্থানে ঘুরে দেখেছি। এসবের মধ্যে থামেল ও ভক্তপুরে আমার বিচরন একটু বেশীই ছিল। তবে এসব স্থানে অধিকাংশ দোকানপাঠ বন্ধ। আর যেসব দোকান খোলা রয়েছে সে সব দোকানীরা অলস সময় পার করছে। দোকানীরা কোন ক্রেতা দেখা মাত্র পন্যের বেশী দাম ধরে বসে থাকে। পরে উপায়ন্তু না দেখে একপ্রকার কেনা দামেই ছেড়ে দিচ্ছে পন্য।তেমন একজন থামেল শহরের দোকানী আখির সাথে কথা বললাম দীর্ঘক্ষন। তিনি জানালেন, এসব স্থানে সারা বছর প্রচুর পর্যটক থাকে দর দাম কষাকষিতো দূরের কথা, দোকানে দাড়ানোর জায়গাও থাকে না। আর এখন দাদা, আপনার সাথে আমি খোশ গপ্পো করছি। কথার ফাঁকে আখিকে বললাম, আমিও বাংলাদেশের পর্যটন শহর চা এর রাজধানী শ্রীমঙ্গল থেকে এসেছি। তোমাদের মতো আমাদের দেশে ভূমিকম্প না হলেও সম্প্রতি দেশে রাজনৈতিক সহিসংসতার কারণে কারনে ব্যবসায় বিরাট ধ্বস নেমেছিল। দীর্ঘ একঘন্টার আলাপচারিতা শেষে বিদায় নিলাম আখির কাছ থেকে।

nepal-2বিকেলে আবার বের হলাম, শহর দেখতে। বেশ কৌতুহল হলো, গেলাম ডিসকো ক্লাবে। সারি সারি সুন্দর রমনীদের ভিড় আছে কিন্তু পর্যটন না থাকার কারনে ক্লাবের ব্যবসা তেমন ভাল নেই। পাঠকদের জন্য আরো একটি তথ্য দেয়া দরকার। দরিদ্র হলেও নেপাল পর্যটন শিল্পে অনেক বেশী অগ্রসর। এখানে পর্যটকদের সবধরনের সুযোগ সুবিধাতো আছে। আছে সামাজিক নিরাপত্তা। আরো একটি বিষয় এখানে লক্ষনীয় যে, নেপালের অলিগলিতে ছোট বড় যে কোন দোকানই মদ বিক্রির রেওয়াজ রয়েছে। নেপালে বড় ছোট সব হোটেল রেস্তোঁরাতে মদ বিক্রি করা বাধ্যতামূলক। তবে তা আমাদের সামাজিক ব্যবস্থার সাখে সংগতিপূর্ণ নয়। তাই আমাদের কাছে বিষয়টি ছিল একেবারে অন্যরকম।

সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত বাড়ার সাথে সাথে লোকজন ছুটছে কেসিনোতে। কৌতুহলী মন নিয়ে আমারও কেসিনোতে যাওয়া। প্রতিবেদন তৈরির স্বার্থে কেসিনোতে গিয়ে দেখি জমজমাট অবস্থা।কেসিনোর পরিচালক আনজান গোরকা বললেন, বাংলাদেশ থেকে উল্ল্যেখ যোগ্য সংখ্যক লোক যায় কেসিনো খেলতে। বিশেষ করে বৃহস্পতিবার থেকে শনিবার এই তিন দিন বাংলাদেশের লোকের সমাগম হয় বেশী।তবে এখন বাংলাদেশী পর্যটক নাই। কেসিনো থেকে ফিরে গেলাম হোটেলে। এবার ব্যাগ গোছানোর পালা। শুক্রবার নেপালী সময়ে সন্ধ্যা সাতটায় ত্রিভূবন আর্ন্তজাতিক বিমান বন্দর থেকে লাল সবুজের পতাকাবাহী বাংলাদেশ বিমানের ৭০২ নাম্বার ফ্লাইটটি উড়াল দিলে। ঘড়ির কাটায় এক ঘন্টা ত্রিশ মিনিট পর পৌছে গেলাম বাংলাদেশ।

লেখক: হৃদয় দেবনাথ মৌলভীবাজার প্রতিনিধি গাজী টেলিভিশন/দৈনিক যায়যায় দিন

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: