সর্বশেষ আপডেট : ৪ মিনিট ৫৯ সেকেন্ড আগে
মঙ্গলবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

দুগ্ধস্নানে পবিত্র হয়ে ‘নোংরা রাজনীতি’ থেকে অবসর

full_536536320_1459596688ডেইলি সিলেট ডেস্ক:: টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার অলোয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. রহিজ উদ্দীন আকন্দ। দুইবারের সফল নির্বাচিত চেয়ারম্যান তিনি। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ নিয়েই রাজনীতিতে তার পদচারণা। কিন্তু এবারের নির্বাচনে হেরে গিয়ে এই চেয়ারম্যান প্রার্থী রাজনীতি থেকে বিদায় নেওয়ার ঘোষণা দিলেন। তবে তার এ ঘোষণা সংবাদ সম্মেলন করে নয়; দুধ দিয়ে গোলস করে পবিত্র হয়ে রাজনীতিকে বিদায় জানালেন তিনি।

এই অভিনব পন্থায় রাজনীতিকে বিদায় জানিয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছেন সাবেক এই চেয়ারম্যান ।

এতো সুনাম থাকার পরও আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেন তিনি। কিন্তু আওয়ামী লীগ প্রার্থীর কাছে হেরে রাগে দুঃখে ‘নোংরা রাজনীতি’ থেকে বিদায় নিলেন দুইবার নির্বাচিত এই শ্রেষ্ঠ চেয়ারম্যান। তার অভিযোগ, কারচুপি আর জালিয়াতির কারণেই তিনি হেরে গেছেন। এ জন্য ভবিষ্যতে আর নির্বাচন না করারও ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

আওয়ামী লীগ প্রার্থী নরুল ইসলামের কাছে মাত্র ১৪৯ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয়েছেন সদ্য বহিষ্কৃত ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের এই সভাপতি।

তিনি বলেন, ‘বিগত পাঁচ বছর ওই ইউনিয়নে চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। দায়িত্ব পালনকালে দুই দুইবার উপজেলার শ্রেষ্ঠ চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছি। গত নির্বাচনে জনপ্রিয়তা থাকার পরও আমাকে দলীয় মনোনয়ন না দিলে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলাম। সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনেও দলীয় মনোনয়ন চাই কিন্তু এবারও আমাকে মনোনয়ন না দিয়ে ঠিকাদার নুরুল ইসলামকে দেয়া হয়।’

তাকে ভোটে পরাজিত করানো হয়েছে অভিযোগ করে এই চেয়ারম্যান প্রার্থী বলেন, ‘ইউনিয়নবাসী ও দলীয় নেতাকর্মীদের চাপে এবারের নির্বাচনেও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে মোটরসাইকেল প্রতীকে অংশ নিতে হয়। আমি পাঁচ হাজার ৩৯ ভোট পেলেও দেখানো হয়েছে চার হাজার ৮৯০ ভোট। ব্যবধানটা অনেক বেশি হলে মেনে নিতাম আমি অযোগ্য। কিন্তু সামান্য ভোটের ব্যবধানে পরাজয় মেনে নিতে পারছি না। আমাকে পরাজিত করানো হয়েছে। তাই আমি ক্ষোভে দুধ দিয়ে গোসল করে রাজনীতি থেকে চিরবিদায় ও ভবিষ্যতে নির্বাচন না করার ঘোষণা দিয়েছি।’

দলের জন্য শ্রম দিয়েও তিনি কিছুই পাননি। তাই ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দলের জন্য অনেক শ্রম দিয়েছি। তারপরও দল আমাকে মনোনয়ন দেয়নি। কিন্তু তাতেও আমার কোনো দুঃখ নেই। জনগণ আমাকে ভোট দিয়েছে। যে দলের জন্য এতো শ্রম দিয়েছি সেই দল থেকে কি পেলাম?’

তিনি বলেন, ‘সিদ্ধান্ত নিয়েছি আর রাজনীতি করবো না। তাই দুধ দিয়ে গোসল করে পবিত্র হলাম। নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়বো। আর যতটুকু পারি জনগণের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রাখবো।’

তবে তার এ পন্থাকে সাময়িক ও লোক দেখানো মনে করছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা। নির্দিষ্ট সময় পর তিনি আবার দলে ফিরে আসবেন বলেও মনে করছেন অনেকে। তবে কেউ কেউ বলছেন, তিনি এক কথার মানুষ। নিজের কথা থেকে নড়চড় হবেন না বলে জানিয়েছেন তার সমর্থকরা।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: