সর্বশেষ আপডেট : ৮ মিনিট ৫৭ সেকেন্ড আগে
শুক্রবার, ২ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

তনু হত্যা: রহস্যের মাঝে যেন আরেক রহস্য!

5645সোহাগী জাহান তনু বর্তমান সময়ের আলোচিত এক নাম। তার হত্যার বিচারের দাবিতে সারা দেশ উত্তাল। কিন্তু আদৌ কি তার খুনিদের খুঁজে বের করা সম্ভব!
কুমিল্লা সেনানিবাসে নিজের পরিবারের সাথে বাস করত সোহাগী। ২০ মার্চ রাতে সেনানিবাসের ভেতরে পাওয়া যায় তার লাশ। তিনি কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী ছিলেন। তার বাবা ইয়ার হোসেন কুমিল্লা সেনানিবাসে বোর্ডের অফিস সহায়ক পদে কর্মরত।

সোহাগী হত্যার মামলা প্রথমে পুলিশ তদন্ত শুরু করেন। তারপর তা র্যািবের নিকট হস্তান্তর হয়। আবার পরদিন সেই মামলা সিআইডির নিকট হস্তান্তর করা হয়। মৃত্যুর পর সোহাগীর লাশ ময়না তদন্তের পর মাটি দেয়া হয়েছিল। কিন্তু সিআইডির তত্ত্বাবধানে লাশ আবার মাটি খনন করে তুলে নিয়ে ময়নাতদন্ত করা হয়। তারপর আর বিভিন্ন ধরণের খবর পাওয়া যায়।

তবে সে সকল রহস্য বারবার ঘুরেফিরে সামনে আসছে তা লক্ষ্য করলে ফলাফল এখনও শূন্যের কৌটায় দেখা যায়।

রহস্য ১:

ঘটনার দিন তনু সেনানিবাস এলাকার বাইরে যায়নি। যেই স্থানে তনুকে ধর্ষণ করা হয়েছিলো তার আশেপাশে সিসিটিভি রয়েছে। কিন্তু ফুটেজের বিষয়ে এখনও কোন তথ্য পাওয়া যায়নি।

ঘটনাস্থলের দুইপাশেই সেনা ক্যাম্প রয়েছে। সেনানিবাস এলাকায় ঢুকতে হলে বিভিন্ন তথ্য দিয়ে ঢুকতে হয়। তাহলে ধর্ষকরা যদি বাইরে থেকে ঢুকে থাকে তবে সেনাবাহিনীর কাছে নিশ্চই সেই তথ্য রয়েছে?

সঠিক কারণ এবং কারণের যৌক্তিক প্রমান দেখানো ছাড়া সেনানিবাসে প্রবেশ করা যায় না। তবে এর মানে এই নয় যে, এখানে সেনাবাহিনীর কোন হস্তক্ষেপ আছে বা নেই। যদিও পার্বত্যাঞ্চলে বেশিরভাগ ধর্ষণে সেনাবাহিনীর সদস্যদের নাম উঠে আসে।

রহস্য ২:

যদি সেনানিবাসের ভেতরে কেউ এই হত্যার পেছনে জড়িত থাকে, তাহলে অবশ্যই তারা তনুর লাশ সেনানিবাসের বাহিরে ফেলে আসত। পুলিশের দেয়া বিভিন্ন তথ্য থেকে জানা যায়, তনুর লাশ যেখানে পাওয়া যায় সেখানে তাকে ধর্ষণ বা হত্যা করা হয়নি এবং সেখানে এরকম কিছু করা সম্ভব নয়। যে বা যারা তাকে হত্যা করেছে তারা তনুকে উঠিয়ে নিয়ে যায় এবং তাকে হত্যা করার পর ঐ স্থানে ফেলে রেখে যান।

তনুর বাবা যেন তাকে খুব সহজে খুঁজে বের করতে পারেন এজন্য তার পথে তনুর জুতা, জামা ও চুল খুব সুন্দর করে সাজিয়ে রাখা হয়। যেন তারা চাইছে তনুর লাশ যেন খুব সহজে পাওয়া যায়।

আমাদের দেশে যে কোন বিষয় নিয়ে একাধিক মতবাদ থাকে। তনুর হত্যার পেছনের রহস্য উদ্ঘাটন করতে যেয়ে একদল যেখানে সেনানিবাসের ভেতরের মানুষদের কোথা বলছেন, সেখানে আরেকদল বলছে সেনানিবাস নিয়ে বিতর্ক তৈরি করার জন্য এই অবস্থার সৃষ্টি। তাদের কথায়ও যুক্তি রয়েছে। সোহাগী হত্যা নিয়ে সারা দেশে তুমুল প্রতিবাদ হলেও, সাড়ে তিন বছরের শিশুকে ধর্ষণ করা হয়েছে এরকম মামলা নিয়ে কেউ কোন কথা বলছে না। যেখানে তনুর হত্যার বিচারে সকলে সয়লাব সেখানে একই সময়ে তনু হত্যার পর সেই এক সপ্তাহে অন্তত ৮টি ধর্ষণের মত ঘটনা ঘটলেও কেউ এই বিষয় নিয়ে কোন প্রতিবাদ করছে না।

এখানে সেনানিবাসের সকলকে বাঁচানো বা তাদের দোষী সাব্যস্ত করা হচ্ছে না। কেউ নিজের পায়ে কুড়াল মাড়তে চাইবে না। কাজটি সেনানিবাসের কেউ করলে তনুর লাশ সেখানে পাওয়া যেত না। আবার সেনানিবাসের লোকের আড়ালে তাকে এরকম নির্মমভাবে হত্যা করে সেনানিবাসের ভেতরে ফেলে যাওয়া সম্ভব নয়।

রহস্য ৩:

তনুর হত্যার বিষয়ে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন তথ্য সামনে এসেছে। তনুর কোন সম্পর্ক ছিল কিনা? কারও সাথে তার ঝগড়া হয়েছিল কিনা? এরকম অনেক প্রশ্নের উত্তর খোঁজ করা হচ্ছে।

তনুর কারও সাথে সম্পর্ক ছিল এরকম কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, তনুর মা-বাবা ও ভাইকে অনেক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তাদের কাছে সোহাগীর কারও সাথে সম্পর্ক ছিল কিনা তা জানার জন্য অনেক চেষ্টা করা হয়।

আসলে এই হত্যার পেছনে ব্যক্তিগত কোন কারণ ছিল নাকি রাজনৈতিক উদ্দেশ্য তা নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে ধুম্রজাল। সকল বিতর্কের অবসান ঘটিয়ে সত্য ঘটনা কি কোনদিন আমাদের সামনে আসবে? নাকি আরও বিভিন্ন রহস্য সামনে আসবে আরও অনেক প্রশ্ন নিয়ে।

লেখক- ফাতেমা তুজ জোহুরা।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: