সর্বশেষ আপডেট : ৩ ঘন্টা আগে
রবিবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

কেমন আছে ব্রিটেনে শহীদ সিলেটের আলতাব আলীর পরিবার? বোন সিতারা এখনও চিরকুমারি

28. altab aliডেইলি সিলেট ডেস্ক::
ব্রিটেনে বর্ণবাদী হামলায় নিহত সিলেটের যুবক আলতাব আলীর ৩৭ তম মৃত্যু বার্ষিকী আজ (সোমবার)। ১৯৭৮ সালের ৪ মে মাত্র ২৫ বছর বয়সে ব্রিটেনে বর্ণবাদী হামলায় তিনি প্রাণ হারান। এ হত্যাকান্ড নিয়ে সে সময় ব্রিটেনসহ সারা বিশ্বে বিক্ষোভ হয়েছে। উঠেছিল নিন্দার ঝড়। তিনি নিহত হওয়ার পর ব্রিটেন প্রবাসী বাঙালিরা নিজেদের অধিকার আদায়ে সোচ্চার হয়ে বর্ণবাদবিরোধী তীব্র আন্দোলনে নামেন। তাদের সে আন্দোলনের ফলে বর্ণবাদের কালো ছোবল থেকে মুক্ত হয় পূর্ব লন্ডন। এ শহীদ আলতাব আলীর নামে পূর্ব লন্ডনে একটি পার্কের নামকরণ করা হয়েছে।

প্রতি বছর ৪ মে ব্রিটেনে বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে শহীদ আলতাব আলীকে স্মরণ করা হয়। ৩৭ বছর পূর্বে এই দিনেই তিনি প্রাণ হারিয়েছিলেন। কিন্তু কেউ খোঁজ নেন না শহীদ আলতাব আলীর পরিবারের। তিনি নিহত হওয়ার পর ব্রিটিশ সরকার তার পরিবারকে কোনো ক্ষতিপূরণ দেয়নি। আলতাব আলী বিয়ে করার ছয় মাসের মধ্যে লন্ডন ফিরে গিয়েছিলেন। পরিকল্পনা করেছিলেন স্ত্রী ও কিশোরী বোন সিতারা বেগমকে যুক্তরাজ্যে নিয়ে যাওয়ার। কিন্তু ভাই অকালে মারা যাওয়ার দুঃখে সিতারা বেগম আর বিয়ে করেননি। সারা জীবন চিরকুমারী থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানান তিনি। তিনি নিহত হওয়ায় পাকা ঘর যেমন নির্মিত হয়নি, তেমনি তার পরিবারেও আসেনি কাক্সিক্ষত সচ্ছলতা।
কে এই আলতাব আলী?
বৃহত্তর সিলেটের ছাতক উপজেলার সৈয়দরগাঁও ইউনিয়নের মোল্লাআতা গ্রামে মধ্যবিত্ত পরিবারে ১৯৫৩ সালে জন্মগ্রহণ করেন আলতাব আলী। তার বাবা হাজী আব্দুস সামাদ ও মা সোনাবান বিবি। তিন ভাই ও চার বোনের মধ্যে আলতাব আলী ছিলেন সবার বড়।
সিলেটের মদনমোহন কলেজে পড়াকালে পরিবারে আর্থিক সচ্ছলতা আনতে ১৯৬৯ সালে পাড়ি জমান ব্রিটেনে। সেখানে একটি লেদার ফ্যাক্টরিতে তিনি কাজ করতেন। কিন্তু মাত্র ২৫ বছর বয়সে ১৯৭৮ সালের ৪ মে বর্ণবাদী হামলার শিকার হয়ে আলতাব আলী প্রাণ হারান। বিশ্বব্যাপী নিন্দার ঝড় ওঠে এই হত্যাকান্ড নিয়ে।

হত্যাকান্ডের প্রতিবাদে প্রায় ২৫ হাজার মানুষ সে দিন বিক্ষোভ করেন ব্রিটেনে। বর্ণবৈষম্যের শিকার বাঙালিরাও সে দিন রাস্তায় নেমেছিল নিজেদের অধিকার আদায়ের জন্য। আলতাব আলী নিহত হওয়ার কয়েক দিন পর তার মৃত্যু সংবাদ জানতে পারে তার পরিবার। লাশ আসে প্রায় এক মাস পর। দাফন করা হয় পারিবারিক কবরস্থানে।

দেশে অবহেলিত আলতাব আলী:
আলতাব আলী হত্যাকান্ডের মধ্য দিয়ে তার পরিবারের স্বপ্নেরও মৃত্যু হয়। আজ পর্যন্ত পরিবারটির আর্থিক অবস্থার কোনো পরিবর্তন হয়নি। অথচ ব্রিটেনে প্রতি বছর ৪ মে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়ে আসছে ‘শহীদ আলতাব আলী দিবস’। প্রবাসী বাংলাদেশীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সরকার শতবর্ষেও পুরনো সেন্টমেরি পার্কের নামকরণ করে শহীদ আলতাব আলীর নামে। সেখানেই গড়ে উঠেছে শহীদ মিনার।

এই পার্কটি এখন বাঙালির আন্দোলন সংগ্রামের ঐতিহ্যের এক উজ্জ্বল সাক্ষী। আলতাব আলীর নামে ব্রিটেনে গড়ে উঠেছে একাধিক সংগঠন। বিভিন্ন সংগঠন করে কেউ কেউ নিজেদের আলতাব প্রেমী হিসেবে পরিচয় দিলেও তারা তার পরিবারের কোনো খোঁজখবর নেয়নি। গত ৩৭ বছরের মধ্যে আলতাব আলীকে নিয়ে তার জন্মভূমিতে কোনো সভা সেমিনারের আয়োজন করা হয়নি। ফলে এলাকার লোকজন জানেন না বিলাতে গিয়ে কিভাবে আলতাব আলীর স্বপ্নের মৃত্যু ঘটে। তবে বাংলাদেশের নতুন প্রজন্মের কাছে আলতাব আলীকে পরিচয় করিয়ে দিতে আজ সোমবার ।

সম্প্রতি ছাতকের মোল্লাআতা গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, শহীদ আলতাব আলীর কবরটির চারপাশে বাঁশ বেঁধে রাখা হয়েছে। সুদূর ব্রিটেনে তার এই আত্মত্যাগ প্রবাসী বাঙালিরা গর্বের সাথে স্মরণ করলেও তার গ্রামের নতুন প্রজন্মের কাছে তিনি অপরিচিত। তার ছোট ভাই আব্বাস আলী জানান, যুক্তরাজ্য প্রবাসী চাচা আব্দুল হাসিমের মাধ্যমে আলতাব আলী ১৯৬৯ সালে যুক্তরাজ্যে যান। সেখানে একটি লেদার ফ্যাক্টরিতে তিনি কাজ করতেন। ফুফাত ভাই আবুল হোসেনের সাথে একই বাসায় থাকতেন। ছয় বছর থাকার পর ১৯৭৫ সালে আলতাব আলী তার মাকে দেখতে দেশে আসেন। ওই বছর ২৭ মার্চ গোবিন্দগঞ্জের বিলপাড়ের মাহমুদুর রহমানের মেয়ে জাহানারা বেগমের সাথে তার বিয়ে হয়। বিয়ের ছয় মাস পর তিনি যুক্তরাজ্যে চলে যান।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: