সর্বশেষ আপডেট : ২৩ মিনিট ২১ সেকেন্ড আগে
বুধবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

অপরাধীদের আড়াল করতে আল-কায়েদার নামে ভিডিও

Al-qaeedaনিউজ ডেস্ক :: লেখক ও ব্লগার ড. অভিজিৎ রায় হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে ধর্মীয় উগ্রবাদী সংগঠনের সম্পৃক্ততার বিষয়টি নিশ্চিত হলেও আল-কায়েদার সম্পৃক্ততার বিষয়টি নিশ্চিত নন তদন্ত সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে প্রকৃত অপরাধীদের আড়াল করতে কিংবা এই হত্যাকাণ্ড থেকে সুবিধা নিতে কেউ এ ধরনের ভিডিও বার্তা প্রচার করতে পারে। তবে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

অভিজিৎ রায় হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে শনিবার মধ্যপ্রাচ্য ভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন আল-কায়দা। জঙ্গি সংগঠনটি পরিচালিত একটি ‘জিহাদিস্ট ফোরামে’ এ হত্যার দায় স্বীকার করে একটি ভিডিও প্রকাশ করা হয়। ভিডিওটিতে আল-কায়দার ভারতীয় উপমহাদেশ শাখার প্রধান অসীম উমর দাবি করেন, তার নির্দেশে সংগঠনের কর্মীরা অভিজিৎ রায়কে হত্যা করেছে। অনলাইনে সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোর কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করে যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক এমন একটি গোয়েন্দা সংস্থা (সার্চ ফর ইন্টারন্যাশনাল টেরোরিস্ট এন্টিটিস-সাইট) ভিডিওটির সত্যতা নিশ্চিত করেছে।

এ বিষয়ে সোমবার দুপুরে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) যুগ্ম-কমিশনার মনিরুল ইসলাম ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে সাংবাদিকদের জানান, আনসারুল্লাহ বাংলা টিমই অভিজিৎ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। এ ঘটনায় ৫ জনকে সনাক্তও করা হয়েছে।

তিনি জানান, বাংলাদেশে আল-কায়েদার নেটওয়ার্ক আছে এমন কোনো প্রমাণ তারা পাননি। তবে বাংলাদেশে অবস্থানকারী উগ্র ধর্মীয় জঙ্গি সংগঠনগুলো অনেকদিন থেকেই আলকায়েদার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার চেষ্টা করে আসছে। কিন্তু তারা যুক্ত হতে পেরেছে কি না তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এদিকে র‌্যাবের গোয়েন্দা শাখার পরিচালক লে. কর্নেল আবুল কালাম আজাদ জানান, অভিজিৎকে আল-কায়দার নির্দেশে হত্যা করা হয়েছে- এমনটি এখনো তদন্তে পাওয়া যায়নি। তবে ধর্মীয় উগ্রবাদী সংগঠনই অভিজিৎকে হত্যা করেছে। হত্যাকারীদের আড়াল করতে কিংবা কেউ এটি থেকে সুবিধা নিতে আল-কায়দার নামে ভিডিও বার্তা প্রচার করতে পারে। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।

অভিজিৎ রায় হত্যার মামলা তদন্ত সংশ্লিষ্ট ডিবির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাও জানান, তারা মোটামুটি নিশ্চিত হয়েছেন আনসারুল্লাহ বাংলা টিম (এবিটি) নামে আল-কায়েদার অনুসারী একটি ধর্মীয় জঙ্গিগোষ্ঠী এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। এবিটির একটি স্লিপার সেল সরাসরি হত্যাকাণ্ডে অংশ নেয়। ওই সেলের সদস্যদের নাম-পরিচয়ও তারা পেয়েছেন। তবে গ্রেপ্তারের আগে তাদের নাম-পরিচয় প্রকাশ করতে অপারগতা প্রকাশ করেন তিনি।

ওই গোয়েন্দা কর্মকর্তা জানান, সন্দেহভাজন খুনি হিসেবে তাদের গ্রেপ্তারের জন্য চেষ্টা করা হচ্ছে। কিন্তু তাদের নির্দিষ্ট অবস্থান নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না।

ঘটনার তিনদিনের মাথায় র‌্যাব ফারাবী শফিউর রহমান নামে এক তরুণকে গ্রেপ্তার করে। ফারাবীকে গোয়েন্দা পুলিশ দশ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞসাবাদও করে। কিন্তু ফারাবীও হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে কোনো তথ্য দিতে পারেনি।

ফারাবীকে জিজ্ঞাসাবাদকারী এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা জানান, অভিজিতের হত্যাকাণ্ড সমর্থন করলেও এর সঙ্গে কারা অংশ নিয়েছিল তা জানাতে পারেনি ফারাবী। সমর্থনের কারণেই প্ররোচনা দিতে বিভিন্ন সময়ে সে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে খুনের সমর্থন করে এসেছে সে।

গত ২৬ ফেব্রুয়ারি বাংলা একাডেমির একুশে বইমেলা থেকে রাত ৯টার দিকে ফেরার সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির পাশে দুর্বৃত্তদের হামলায় নিহত হন বাংলাদেশি বংশোদ্ভুত মার্কিন নাগরিক ড. অভিজিৎ রায়। দুর্বৃত্তরা চাপাতি দিয়ে তার স্ত্রী রাফিদা আহমেদ বন্যাকেও কুপিয়ে আহত করে। রাফিদা সৌভাগ্যক্রমে বেঁচে গেলেও ঘটনাস্থলেই নিহত হন অভিজিৎ রায়। ঘটনার দিনই লন্ডন থেকে করা এক টুইটবার্তায় দায় স্বীকার করে নেয় আনসার বাংলা-৭ নামে একটি সংগঠন।

পরে ঘটনা তদন্তে দেশে আসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআই। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা অভিজিৎ হত্যাকাণ্ডের ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধারকৃত আলামত ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন সময়ে হুমকিদাতাদের একটি তালিকা পরীক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআইয়ের হাতে দিয়েছে। তবে সোমবার পর্যন্ত এসব পরীক্ষার কোনো প্রতিবেদন গোয়েন্দা সংশ্লিষ্টদের হাতে এসে পোঁছায়নি বলে জানা যায়।

অপরদিকে পুলিশের সামনেই এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলা নিয়েও আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। তবে ডিএমপির পক্ষ থেকে গঠিত তদন্ত কমিটি পুলিশের দায়িত্বে অবহেলার বিষয়টি খুঁজে পায়নি।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: