সর্বশেষ আপডেট : ৩১ মিনিট ৭ সেকেন্ড আগে
বুধবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

হাওরাঞ্চলে পাকা ধানের মৌ মৌ গদ্ধে শুভাশিত চারপাশ : তবুও আনন্দ নেই কৃষকের মুখে

2.logo10 copyজাহাঙ্গীর আলম ভূইঁয়া,তাহিরপুর::
সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে পাকা বোরো ধানের মৌ মৌ গদ্ধে শুভাশিত চারপাশ। হাওরের চারদিকে বাতাশে দোলা দিচ্ছে শেষ মুহুর্তের সোনালী ধানের শীষ। হাওরের যে দিকে চোখ যায় সে দিকেই চোখ জুরানো ধান কাটা,মাড়াই,রৌদে শুকানোতে বিরামহীন পরিশ্রমের চিত্র। হাওরের সেরা কারিগর কৃষকরা তাদের হাজারো স্বপ্নের বোনা সোনার ফসল ঘরে তুলতে এখন ব্যস্ত সময় পার করছে। এ অঞ্চলের মানুষ হাওরের উপর নির্ভশীল আর একটাই সারা বছরের সম্পদ কৃষকরে বোরো ধান। সারা বছরের সংসারের খোরাকি ও সংসারের সকল খরচ চলে এই ৬ মাসের বোরো ধান দিয়ে। এই হাওরাঞ্চলে ৬মাস চারদিকে পানি থৈই থৈই করে মাছ ধরা ছাড়া কোন কাজ নেই আর বাকি ৬মাস শুষ্ক মৌসুম বোরো ধান,শাক-সবজি চাষাবাদ এবং অন্যান্য কাজ করেই জীবন চলে হাওরবাসীর। এখন কৃষকের আনন্দের পাশা পাশি রয়েছে আতঙ্ক হাওরের দূর্ভল বাঁধ ও বৈরী আবহাওয়ার কারনে।

তাহিরপুর উপজেলার ছোট বড় ২৩টি হাওরের এবার ২০ হাজার হেক্টর বোরো ধানের চাষ করা হয়েছে। জানাযায়-উপজেলার শনি ও মাটিয়ান বড় দুটি হাওরে যে পরিমান ধান উৎপন্ন হয় তা দিয়ে বাংলাদেশের ২-৩দিনে খাদ্যের যোগন দেয়। হাওর গুলোর পাকা ধানের ঝন ঝন শব্দ আর মৌ মৌ গন্ধে কৃষকের ঘুম কেড়ে নিয়েছে। সকাল থেকে মধ্য রাত পর্যন্ত বিরামহীন ভাবে ধান কাটা,মাড়াই ও শুকানোর কাজ করে যাচ্ছে হাওর পাড়ের কৃষান-কৃষানীরা। আর তাদের সাহায্য করতে মাঠে নেমেছে ছেলে,মেয়ে,স্ত্রী,আত্মীয়-স্বজন এবং দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা শ্রমিকরা। তাদের লক্ষ্য একটাই মুটো মুটো স্বপ্নে বুনা কষ্টের ফলানো সোনালী ধান মাঠ থেকে কেটে ঘরে তোলা।

ধান কাটা,মাড়াই ও রৌদে শুকানোর যেন এক মহোৎসবের চিত্র বিরাজ করছে হাওর বেষ্টিত সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ,বিশ্বাম্ভরপুর,র্ধমপাশা,মধ্যনগর,দিরাই-শাল্লা সহ প্রতিটি উপজেলার হাওরাঞ্চলে। হাওরাঞ্চলের কৃষান-কৃষানীরা তাদের কষ্টার্জিত ফসল ঘরে তুলার চুরান্ত প্রস্তুতি নিলেও বাদ সেধেছে প্রকৃতির বৈরী আবহাওয়া,বৃষ্টি পাতে বাঁধ ভাঙ্গার আতঙ্ক,ধান শুকাতে না পারা,ধান কাটার লোকের অভাব,বজ্রপাতে নিহত হবার ভয়। তারপরও পাকা ধান কাটা,মাড়াই ও শুকানোর সর্ব শেষ চেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে কৃষকগন। এ পর্যন্ত হাওরের প্রায় ৬০ ভাগ ধান কাটা শেষ হয়েছে। কিন্তু প্রতি বছর পানি উন্নয়ন বোর্ডের অনিয়ম, অবহেলা, দায়সার ভাবে হাওরের বাঁধ নির্মান আর পুকুর চুরি করে নিজেদের পকেট ভরে আখের গুছানোর জন্য ব্যস্ত থাকে। ফলে কৃষকের সারা বছরের পরিশ্রমের সোনালী ফসল পানিতে তলিয়ে যায় দুর্ভল বাঁধের কারনে। ফলে টানা বর্ষন ও পাহাড়ী ঢলে এ পযর্ন্ত তাহিরপুর উপজেলার টাংগুয়ার হাওরের নজর খালী বাঁধ সামান্য পানির চাপে ভেঙ্গে ৩শ হেক্টর,ধর্মপাশা উপজেলার ৬টি হাওর ডুবে প্রায় ১ হাজার একর,জগন্নাথপুর উপজেলার মইয়ার সহ বেশ কয়েকটি হাওরের ১৫ হাজার হেক্টর,জামালগঞ্জ উপজেলার কয়েকটি হাওর ডুবে ৩হাজার হেক্টর এবং বিশ্বম্ভরপুরের খরচার হাওরের ৩শ হেক্টর বোরো ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। তাহিরপুরের কৃষকগন বলেন-বোরো ধান আমাদের বেচেঁ থাকার প্রধান হাতিয়ার কিন্তু হাওরের বাঁধ সঠিক ভাবে তৈরি না করায় হাওর ডুবে যায় ক্ষতিগ্রস্ত হই আমরা।

আমাদের বাচাঁর কথা ভাবে না আরে আমরা কৃষকরা না বাচঁলে দেশের মানুষ বাচঁবে কি করে,খাবে কি ? তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান কামরুল বলেন-প্রতি বছর হাওরের বাঁধ নির্মানে অনিয়ম আর দূনীর্তির ফলে হাওর ডুবে যায় এবারও ডুবেছে আর আতœংকের মধ্যে থাকতে হচ্ছে হাওরবাসীকে। সুনামগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারন এর উপ-পরিচালক মোঃ জাহেদুল হক বলেন-এ বছর সুনামগঞ্জের ১১টি উপজেলায় ৩৬ হাওরে এবার ২লক্ষ ১৮ হাজার ৫৬৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের চাষ করেছে কৃষকগন। আশা করি কৃষকরা তাদের কষ্টের ফলানো বোরো ধান কেটে ভাল ভাবে ঘরে তুলতে পারবে।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: