সর্বশেষ আপডেট : ৬ ঘন্টা আগে
রবিবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

তুরস্কের বাজারে বাংলাদেশি ওষুধ ও জুট ইয়ার্ন

Turkiনিউজ ডেস্ক :: চল্লিশ বিলিয়ন ডলারের বিশাল ফার্মাসিউটিক্যালস বাজার এখন গোটা তুরস্কে। এর মধ্যে দশ বিলিয়ন ডলারের সমপরিমাণ পণ্য দেশটি আমদানি করছে পৃথিবীর নানা প্রান্ত থেকে। আংকারায় বাংলাদেশের বিদায়ী রাষ্ট্রদূত জুলফিকার রহমান নিশ্চিত করেই বললেন, ‘এই দশ বিলিয়ন ডলারের একটা পার্সেন্টেজও যদি বছরে বাংলাদেশ পায়, তবে সেটা হবে আমাদের জন্য বিশাল এক ব্যাপার।’

একান্ত আলাপচারিতায় রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘মূলতঃ তার উদ্যোগের ফসল হিসেবেই ২০১৩ সালের ডিসেম্বরে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ থেকে ওষুধ আমদানি করে তুরস্ক, যা ছিল ব্রেক-থ্রো এবং আজ এটা রূপ নিয়েছে আমাদের গর্বের বিষয়ে।’

বাংলাদেশে তৈরি আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন ওষুধের আরো ব্যাপক সম্ভাবনার কথা জানিয়ে রাষ্ট্রদূত জুলফিকার রহমান বলেন, ‘টার্কির ওষুধের বাজার ধরতে যে কোনো বিদেশি কোম্পানিকে যেখানে প্রায় ৫ বছর সময় লাগে সেখানে আমরা মাত্র আড়াই বছরেই সফল হতে পেরেছি। ২০১১ সালে প্রক্রিয়াটি প্রথম আমি শুরু করি এবং ওই বছর এপ্রিল মাসে ঢাকার একটা ডেলিগেশন এখানে আসে। মেইন ইউরোপের মতোই জটিল প্রক্রিয়া এখানেও। উচ্চপদস্থ টার্কিশ কর্মকর্তাদের সাথে লবিং করে এখানকার ডিজি ফার্মাসিউটিক্যালসসহ বিশেষ ডেলিগেশনকে ঢাকায়ও পাঠিয়েছিলাম তখন।’

বাংলাদেশের ওষুধশিল্পের আদ্যোপান্ত সরেজমিনে দেখে এসে টার্কিশরা খুবই সন্তুষ্ট বলে জানান জুলফিকার রহমান। সুনির্দিষ্ট করে তিনি বলেন, ‘আমাদের ম্যানুফেকচারি প্ল্যান্টগুলো দেখার পর ফিরে এসে তারা বলেছে- বিশ্বমানের ওষুধ উৎপাদনে বাংলাদেশের ক্ষমতা, এটা চোখে না দেখলে বিশ্বাস করার মতো নয়।’

রাষ্ট্রদূত আরো বলেন, ‘তারপর থেকে সবকিছু ইজি হয়ে গেছে এবং বিরাট একটা এভেনিউ খুলতে যাচ্ছে এখন এই সেক্টরে।’ ফার্মাসিউটিক্যালস ও রেডিমেইড গার্মেন্টস (আরএমজি) ছাড়াও বাংলাদেশের জুট ইয়ার্ন তথা পাট দিয়ে তৈরি সুতলি বা রশিও বিগ ভলিউমে এখানে আসছে বলে জানান রাষ্ট্রদূত জুলফিকার রহমান।

তুরস্কের কার্পেটের সুখ্যাতি বিশ্বজোড়া। বাংলাদেশ থেকে আসা জুট ইয়ার্ন দেশটিতে ব্যবহৃত হয়ে থাকে কার্পেটের নিচে। রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘পরিবেশবান্ধব কার্পেট চায় এখানকার লোকজন এবং এ কারণে জুট ইয়ার্ন মিক্স করে কার্পেটটা এরা তৈরি করছে। তুরস্কের বাজারে বাংলাদেশি এই প্রোডাক্টের চাহিদা বহুগুণে বাড়লেও আমাদের সাপ্লাই ক্যাপাসিটি কম হওয়ায় ডিমান্ড অনুয়ায়ী আমরা সাড়া দিতে পারছি না। তারপরও বছরে ২ থেকে আড়াইশ মিলিয়ন ডলারের জুট ইয়ার্ন বাংলাদেশ থেকে এখন আসছে টার্কিতে। এটা আরো বাড়ানো সম্ভব হতো যদি ঢাকাতে সাপ্লাইয়ার বেশি থাকতো।’

অন্যদিকে ক্যামিক্যাল অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং প্রোডাক্টের পাশাপাশি তুরস্ক থেকে জেনারেটর ও ফ্রিজ-টিভি বাংলাদেশে যাচ্ছে বলে জানান রাষ্ট্রদূত জুলফিকার রহমান। বাংলাদেশে টার্কিশ বিনিয়োগ প্রসঙ্গে রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘কিছু ইনভেস্টমেন্ট ইতিমধ্যে বাংলাদেশে গেছে। তারই অংশ হিসেবে বাখরাবাদ-ফেঞ্চুগঞ্জ গ্যাস পাইপলাইন কাজ চলছে। এনার্জি সেক্টরে সম্ভাব্য আরো কিছু ইনভেস্টমেন্ট এখন আলোচনার টেবিলে রয়েছে। আরএমজি সেক্টরে আগে থেকেই ছিল, এখন তুর্কি বিনিয়োগ ঢাকায় যাচ্ছে কার্পেট ম্যানুফেকচারিংয়েও। এখান খেকে বেশকিছু কার্পেট ম্যানুফেকচারিং কারখানা ইতিমধ্যে বাংলাদেশে রি-লোকেট করেছে।’

জুলফিকার রহমানের সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, ‘সব মিলিয়ে ইটস অ্যা ভেরি গুড সিচুয়েশন।’

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: