সর্বশেষ আপডেট : ৫২ মিনিট ৫২ সেকেন্ড আগে
শনিবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

সিলেট বিআরটিএ, দালাল নিয়ন্ত্রিত সরকারি কার্যালয়!

5291ডেইলি সিলেট ডেস্ক :: পরিবহন একটি সভ্যতার অন্যতম পরিচায়ক। আর এই পরিবহনকে বৈধতা দিতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ)। আর যে

কোন সরকারি প্রতিষ্ঠানের মতো, এখানেও অনায়াসে সেবা প্রাপ্তির অধিকার আছে যে কোন নাগরিকের।

কিন্তু সিলেট বিআরটিএ অফিস এখন পরিণত হয়েছে একটি দুর্নীতি ও দুর্ভোগের প্রতিষ্ঠানে। এখানে প্রতিনিয়ত বেড়ে চলছে দালালদের দৌরাত্ম্য আর হয়রানির শিকার
হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। আর এ ব্যাপারে বরাবরের মতই উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ পালন করছেন তাদের মৌনব্রত।

সরেজমিন পরিদর্শনে সিলেট বিআরটিএ অফিসে গেলে দেখা যায়, কর্মকর্তা-কর্মচারী নন, বরং দালালদের মাধ্যমেই পরোক্ষভাবে পরিচালিত হচ্ছে বিআরটিএ’র কার্যক্রম।
আর সেবা প্রদানের নামে সাধারণ পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের কাছ থেকে হাতিয়ে নেয়া হচ্ছে টাকা। পরিবহন সংক্রান্ত কোন অনুমোদন বা কাগজ প্রাপ্তিতে সবকিছু
ঠিকঠাক থাকলেও নগদ টাকা ছাড়া কোন কাগজেই সই করতে রাজি না বিআরটিএ কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। সেই সাথে তাদের গোপন ইশারা ও সম্মতিতে সরবে কাজ করে
যাচ্ছে দালালরা। গাড়ির ও চালকের লাইসেন্স, ফিটনেস, বীমার কাগজপত্র, ভেট বাড়ানো-কমানো সহ সকল ধরণের কার্যক্রমই এখন দালালদের ইন্ধনে চলছে।

আর এ প্রসঙ্গে রহস্যময় নীরব ভূমিকা পালন করে চলেছেন বিআরটিএ অফিসের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা এডি শহীদুল ইসলাম। তার কারণেই এ প্রসঙ্গে কোন কথা বলতেই রাজি
না বিআরটিএ’র কোন কর্মকর্তা বা কর্মচারী। এছাড়া এ ব্যাপারে কোন পরিবহন মালিক বা শ্রমিক প্রতিবাদ করলে বা অপারগতা প্রকাশ করলে পড়তে হয় উল্টো বিড়ম্বনায়।
উর্ধ্বতন কর্মকর্তার নির্দেশে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে তাদেরকে আইনের হাতে সোপর্দ করেই নিরাপদ করা হয় দালালদের কার্যক্রম।

বিআরটিএ সংশ্লিষ্ট বিশ্বস্ত সূত্র জানায়, বিআরটিএ অফিসের মটরযান পরিদর্শক মো.মোর্শেদু আলম , তানভির আহমদ ও রের্কড কিপার তসলিম আহমদকে দিয়ে কাগজে
টিপসই দস্তখত দেয়ার পূর্বে এডি শহিদূল ইসলাম গোপনীয়তা রক্ষা করে হাতিয়ে নেন হাজার হাজার টাকা। তার কিছু একটা অংশ ভাগবাটোয়ারা হিসেবে চলে যায় মটরযান
পরিদর্শক ও রের্কড কিপারে পকেটে। বাদ বালাইর বিচার ছাড়াই চলে তাদের রমরমা ঘুষ বাণিজ্যে।

বাদ পড়েন না দালাল গোষ্টিদের কর্তা ব্যক্তিরা। আর এ গোত্রের নেপথ্যে রয়েছেন মুন্নু, আলী, আজিজ ও পিংকু মিয়া। এই দালালরা বিআরটিএ অফিসের কোন কর্মচারী না
হলেও তারা অফিসে বসে সবধরণের অনিয়ম দূর্ণীতির কাজ করে থাকেন। কৌশল অবলম্বন করে সরকারী ফি ছাড়া হাতিয়ে নেন টাকা কড়ি। লাইসেন্স প্রতি ঘুষ নেয়া হয়
সরকারী ফি’র বাইরে ৩-৪হাজার টাকা । মুন্নু ও আলী মাধমে ফিটনেস ও মালিকানা কাগজ করতে নেয়া হয় দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা। তাদের বিরুদ্ধে টাকা নেয়ার
বিস্তর অভিযোগও রয়েছে। এই টাকাগূলো অফিসিয়ালভাবে লেনদেন করেন আজিজ ও পিংকু মিয়ার মাধ্যমে। ফলে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন বিভিন্ন উপজেলা ও জেলা
থেকে আসা সহজ সরল লোকেরা।

এছাড়াও অনেক ক্ষেত্রে এসব দালালরা ঘুষ না পেলে পরিবহণ মালিক ও চালকদের মাসের পর মাস দৌড়ঝাপ করান। এমনটি অভিযোগ করেছেন অফিসে আসা অনেক
ভুক্তভোগিরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যাক্তি জানান তাদের অপকর্মের সকল দোষ চাঁপিয়ে দেয়া হয় পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের উপরে।

এব্যাপারে বিআরটিএ অফিসের এডি শহীদূল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, এ ব্যাপারে কোন ধরণের অভিযোগ তার কাছে নেই। অভিযোগ আসলে এ
ব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এর আগে কোন কথা বলতে অপারগতা জানান তিনি।

সূত্র : যুগভেরী

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: