সর্বশেষ আপডেট : ৫০ সেকেন্ড আগে
শনিবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনীর প্রস্তুতি : বিষয় : ইসলাম শিক্ষা

01_137598মো. জসিম উদ্দীন ::

১। প্রশ্ন : কুরবানী প্রচলনের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস বর্ণনা কর। উত্তর : কুরবানী ইসলামের এক গুরুত্বপূর্ণ এবাদত। কুরবানী প্রচলনের ইতিহাসে আল্লাহ নবী হযরত ইবরাহীম (আ.) ও ইসমাইল (আ.)-এর পুণ্যময় স্মৃতি জড়িয়ে রয়েছে। * কুরবানী প্রচলনের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস : হযরত ইবরাহীম (আ.) ছিলেন একজন বিশিষ্ট নবী। আল্লাহর আদেশে একদিন তিনি তার স্ত্রী হাজেরা এবং শিশু পুত্র ইসমাঈল (আ.)-কে মক্কায় রেখে যান। ইসমাঈল (আ.) যখন কিশোর বয়সে উপনীত হন তখন ইবরাহীম (আ.) তাদের দেখতে এলেন।
পুনর্মিলনের আনন্দের মধ্যে তিনি স্বপ্নে দেখলেন আল্লাহ তাকে তার পুত্রকে কুরবানী দিতে বললেন। ইসমাঈল (আ.) তাতে সানন্দে রাজি হলেন। ইবরাহীম (আ.) প্রাণপ্রিয় পুত্রকে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কুরবানী করতে গিয়ে তার গলায় ছুরি চালালেন। এবারের কঠিন পরীক্ষায় তারা উত্তীর্ণ হলেন। আল্লাহ তায়ালার প্রতি হযরত ইবরাহীম (আ.) ও তার পুত্র ইসমাঈল (আ.)-এর অনুগত্য ও অপূর্ব ত্যাগের ঘটনাকে চিরস্মরণীয় করে রাখার জন্য তখন থেকে কুরবানী প্রচলন শুরু হয়েছে। কুরবানী আল্লাহর পক্ষ থেকে মুসলমানদের জন্য এমন একটি উপায় যার মাধ্যমে মানব মনের সকল পশুত্ব দূরীভূত হয়ে একটি সুন্দর, শান্তিপূর্ণ সমাজ প্রতিষ্ঠায় সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

২। প্রশ্ন : ধর্মীয় অনুশাসন পালনে নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার গুরুত্ব বর্ণনা কর। উত্তর : ধর্মীয় অনুশাসন বলতে আমরা বুঝি আল্লাহর নির্ধারিত ফরজ-ওয়াজিবগুলোকে ধর্মীয় অনুশাসন পালনে আমাদেরকে অবশ্যই আন্তরিক হতে হবে। এজন্য প্রয়োজন বিশুদ্ধ নিয়ত। নিম্নে ধর্মীয় অনুশাসন পালনে নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার গুরুত্ব তুলে ধরা হলো * ধর্মীয় অনুশাসন পালনে আন্তরিকতা না থাকলে মৌলিক এবাদতগুলোও অনেক সময় এবাদতের মধ্যে গণ্য নাও হতে পারে। কেননা লোক দেখানো কোনো এবাদত আল্লাহর দরবারে কবুল হয় না। আল্লাহ তায়ালা সুরা মাউনে বলেন, ‘ধ্বংস ঐ সকল নামাযীদের যারা তাদের সালাতে উদাসীন এবং যারা লোক দেখানোর জন্য তা করে। লোক দেখানো ভালো কাজে মানুষের মধ্যে হিংসা, বিদ্বেষ, হানাহানি সৃষ্টি হয়। পক্ষান্তরে, আন্তরিকতা তথা আল্লাহকে খুশি করার উদ্দেশ্যে এবাদত করলে তাকওয়া, সহানুভূতি, ভ্রাতৃত্ব সৃষ্টি এবং সমাজে শান্তি ও শৃঙ্খলা ফিরে আসে। তাই বলা যায়, ধর্মীয় অনুশাসন পালনে নিষ্ঠা ও আন্তরিকতা একান্ত প্রয়োজন।

৩। প্রশ্ন : সকল ধর্ম ও ধর্মাবলম্বীদের প্রতি উদার, সহিষ্ণু ও শ্রদ্ধাশীল হওয়ার গুরুত্ব বর্ণনা কর। উত্তর : মহান আল্লাহ তায়ালা এই পৃথিবীতে একজন মানুষ হতে সকল মানুষ সৃষ্টি করছেন। তাই মানুষ হিসেবে সবাই একই মুসলিম জাতিই মহান আল্লাহর দরবারে একমাত্র গ্রহণযোগ্য জাতি। কিন্তু তাই বলে অন্য জাতির লোকের প্রতি ঘৃণা ও হিংসা-বিদ্বেষ করা যাবে না। কেননা আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘কানান নাছু উম্মাতান ওয়াহিদাতাক।’ অর্থাৎ মানুষ ছিল একটি জাতি। মহান আল্লাহ ইসলাম ধর্ম দিয়েছেন শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য। সমাজ ও রাষ্ট্রে যদি ইসলামের বিধান প্রতিষ্ঠা করা যায় তবে সমাজ ও রাষ্ট্রে শান্তি ফিরে আসবে। তাই অন্য ধর্মের প্রতি হিংসা ছড়ানো যাবে না এবং অন্যের উপর ধর্ম চাপিয়েও দেয়া যাবে না। কেননা আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘ধর্মের ব্যাপারে যবরদস্তি নেই।’ (সূরা বাকারা-২৫৬) মহানবী (সা.) মদিনাকে ইসলামী রাষ্ট্র বানানোর পর সেখান থেকে রোম ও পারস্য সম্রাটদের জন্য ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট করার জন্য উপঢৌকন পাঠাতেন। সর্বপরি বলা যায়, অন্য ধর্মের প্রতি আমাদের সহিষ্ণুতা ও শ্রদ্ধা পোষণ করতে হবে।

লেখক : সহকারী শিক্ষক (ইসলামশিক্ষা), ন্যাশনাল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ঢাকা।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: