সর্বশেষ আপডেট : ৭ মিনিট ২৯ সেকেন্ড আগে
সোমবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

রাজনগরে জমির পর্চা উত্তোলনে অতিরিক্ত টাকা নেয়ার অভিযোগ

Moulvibazar-এম. মছব্বির আলী::
মৌলভীবাজারের রাজনগরে সেটেলম্যান্ট কার্যালয়ের কর্মীরা জমির পর্চা উত্তোলনে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী প্রতি পর্চা ৬০ টাকা ও একটি ম্যাপ ৩৫০ টাকায় বিক্রি করার কথা থাকলেও সেটেলম্যান্ট কার্যালয়ে প্রতি পর্চা ১০০ ও একটি ম্যাপ বিক্রি হচ্ছে ৫০০ টাকা।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কমিশনারের সতর্কতায় কোন কাজ হয়নি। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ এপ্রিল থেকে উপজেলার মশাজান, মনসুরনগর, দক্ষিণভাগ ও বাহাদুরগঞ্জ মৌজার পর্চা বিতরণ শুরু হয়েছে। ওই চার মৌজায় ৮ হাজারেরও বেশি খতিয়ান রয়েছে। সোমবার দুপুরে উপজেলা পরিষদে অবস্থিত সেটেলম্যান্ট কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, পর্চা বিতরণের কক্ষ ভেতর থেকে আটকানো। জানালার সামনে মাঠ পর্চা হাতে ভিড় করছেন জমির মালিকরা। ভেতর থেকে পর্চা বিতরণ করছেন ডেপুটেশনে শ্রীমঙ্গল থেকে রাজনগরে আসা পেশকার আবদুল মালিক। জমির পর্চা নিতে আসা তারাপাশা গ্রামের প্রদ্যুন্ন মিত্র (৫০) বলেন, ১০০ টাকা করে ৩০০ টাকা দিয়ে ৩টি পর্চা নিয়েছেন মশাজান মৌজার। একটি ম্যাপ নেয়ার জন্য পেশকারের হাতে ৪০০ টাকা দিলেও পেশকার তা ফেরত দিয়ে ৫০০ টাকা চান। পরে তিনি ৫০০ টাকা দিয়েই একটি ম্যাপ সংগ্রহ করেন।

একই মৌজার পর্চা নিতে আসা আয়লা বিবি (৪৫) বলেন, অনেক সময় লাইনে দাঁড়াইছি। ২০০ টাকা দিয়ে দুটা পর্চা নিছি। মনসুরনগর মৌজার পর্চা নিতে আসা ফরজান মিয়া (৫০) ৪৮টি পর্চার মধ্যে মাত্র ৪টি নিতে পেরেছেন। তাও ৪০০ টাকা দিয়ে। পর্চা তিনে আসা খয়রুন নেছা (৪২) বলেন, ভাই ৫০০ টাকা দিয়ে মশাজান মৌজার ৫টি নিছি। এক টাকা কম হলে পর্চা দেন না। দক্ষিণভাগ মৌজার পর্চা নিতে আসা খলাগ্রামের বাবলা দে (৪০) বলেন, ভাই দুটি পর্চা নিছি ২০০ টাকা দিয়ে। এদিকে পর্চা ও ম্যাপ বিক্রিতে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের জন্য জমির মালিক ও বিতরকের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হলে সহকারী কমিশনার (ভূমি) সেটেলম্যান্ট কার্যালয়ের বিতরণকারীদের ধমকান এবং অতিরিক্ত টাকা না নেয়ার জন্য বলেন। কিন্তু এর একদিন পরেই আবারও ওই কার্যালয়ের কর্মীরা অতিরিক্ত টাকা আদায় শুরু করেন। এ ব্যাপারে পেশকার আবদুল মালিক অতিরিক্ত টাকা নেয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, আমাদের ‘ওপরে’ কিছু খরচ রয়েছে। তাই কিছু বেশি নিতে হচ্ছে। তবে যারা খুশি হয়ে দিচ্ছেন তাদেরটাই নিচ্ছি। তবে তিনি এ ব্যাপারে সংবাদ প্রকাশ না করার অনুরোধ করে বলেন, আপনার সঙ্গে পরে দেখা করবো।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার আইনুর আক্তার পান্না জেলা প্রশাসকের সঙ্গে একটি প্রোগ্রামে থাকায় তিনি ফোন ধরেননি। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মিন্টু চৌধুরী বলেন, অতিরিক্ত টাকা আদায়ের কারণে আমি তাদের একবার সতর্ক করে দিয়েছিলাম। এর পরও তারা নিচ্ছে। আমি ট্রেনিংয়ে আছি বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে জানালে ভাল হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: