সর্বশেষ আপডেট : ১৭ সেকেন্ড আগে
বৃহস্পতিবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

মণ্ডপে মদ্যপ বর, বিয়ে ভাঙলো কনে!

38. modআন্তর্জাতিক ডেস্ক :: ভারতের রক্ষণশীল সমাজব্যবস্থায় কনে নিজেই নিজের বিয়ে ভেঙে দেবে, তাও একদম বিয়ের মূল আসরের দিন একগাদা অতিথির সামনে
মণ্ডপে দাঁড়িয়েই, তা আর কোথাও না হোক- হিন্দু ধর্মপ্রধান দেশটির মানুষের কাছে অবশ্যই একটি কল্পনাতীত ব্যাপার! কিন্তু এরকমই একটি ঘটনা ঘটেছে মধ্যপ্রদেশের কানপুরে।

গত মঙ্গলবার রাতে মাহোবা জেলার আজনার গ্রামে নেহা (ছদ্মনাম) নামের মেয়েটি যখন বিয়ের আসরে প্রবেশ করা মদ্যপ বরকে বিয়ের ব্যাপারে ঘোরতর
আপত্তি জানানোর মতো প্রবল সাহসের কাজটি করলেন, তখন তার নিজের পরিবার তো বটেই- এমনকি আমন্ত্রিতরাও বিস্ময়ে হতবাক হয়ে পড়ে।

আর ফলশ্রুতিতে প্রচণ্ড অপমানিত ও মানসিকভাবে বিধ্বস্ত হয়ে বরকে নববধূ ছাড়াই ফিরে যেতে হয় নিজ বাড়িতে। পাশ্ববর্তী গ্রাম রাগাউলির বাসিন্দা অরবিন্দের
সাথে নেহার বিয়ে হওয়ার কথা ছিল।

সদ্য বিশের কোঠায় পা রাখা নেহা প্রচলিত রীতি অনুসারে লাল শাড়িতে বিয়ের কনে হয়ে অপেক্ষা করছিলেন ‘জয়মাল্য’ প্রথা পালনের জন্য। সে সময়েই তিনি
দেখেন, আর কিছুক্ষণের মধ্যেই স্বামী হতে যাওয়া এবং ভবিষ্যতে চিরজীবনের সঙ্গী হিসেবে নেহার জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে যাওয়া ব্যক্তিটি বিয়ের আসরে
মদ্যপ এবং ডিজে গানের বিষয়ে কনের ভাইবোন ও আমন্ত্রিত অতিথিদের সাথে জোর ঝগড়া করছেন।

এ দৃশ্য দেখে দ্বিতীয়বারের জন্য ভাবেননি। কোনো দ্বিধা ছাড়াই বিয়ে না করার বিষয়ে নিজের সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন তিনি, সবার সামনেই সিদ্ধান্তটি জানিয়ে দেন
এবং মণ্ডপ ছেড়ে উঠে বেরিয়ে যান বিয়ের আসর থেকে।

টাইমস্‌ অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, মণ্ডপে বসে বিয়ের মন্ত্র পড়ছিলেন পুরোহিত। এ সময় গান বাজতে থাকায় তিনি বিরক্ত বোধ করলে কনের ভাইবোনকে ডেকে
গান বন্ধ করতে বলেন। তখন গান বন্ধ করে দেয়া হলেও অরবিন্দসহ তার মদ্যপ কয়েকজন সদস্য হৈহল্লা করতে শুরু করে, যে ঘটনার সাক্ষী ছিলেন কনে
নেহাও।

গ্রামবাসীও নেহাকেই সমর্থন জানিয়েছেন এ ব্যাপারে। কনে নেহা যখন বিয়ে ভেঙে দেয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানান, তখন তার বাবা-মা ও পরিবারকে মেয়ের
সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে যেয়ে তাকে জোর করে বিয়ে না দেয়ার অনুরোধ করেন।

তাদের ভাষ্য- বর এতটাই মাতাল অবস্থায় ছিল যে বরযাত্রী হিসেবে আগত বেশ কয়েকজনকে নিয়ে বিয়ের আসরে তুমুল হট্টগোল শুরু করেছিল সে।

প্রতিবেশী ও স্বজনদের কথায় এরপর কনের বাবা ও ভাই-বোনরাও রক্ষণশীল সমাজে থেকেও মেয়ের বিয়ে ভেঙে দেয়ার মতো সাহস দেখান এবং বরযাত্রীকে
ফেরত চলে যেতে বলেন। নেহার পরিবার জানিয়েছে, ‘এ ব্যাপারে পরিবারের পূর্ণ সমর্থন পেয়েছেন নেহা।’

নেহার বাবা বলেন, ‘একজন মদ্যপ ব্যক্তিকে বিয়ে করতে সে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল। আমিও তাকে তার ইচ্ছের বিরুদ্ধে কাউকে বিয়ে করতে বাধ্য করিনি’।

নেহার এক আত্মীয় বলেন, ‘বিয়ের আসরটি দেখে মনে হচ্ছিল যে সেটি একদল মাতালের আসর। নিজের অর্ধাঙ্গ হতে যাওয়া ব্যক্তিটিকে একদল মাতালের মধ্যে
দেখে নেহা সহ্য করতে পারেনি। মদপানের পর বর তার হবু স্ত্রী’র স্বজনদের গালিগালাজ করছিল, যা হজম করতে পারেনি নেহা’।

এদিকে, পুরো ঘটনায় স্তম্ভিত ও অপমানিত বরের স্বজনরা এ ব্যাপারে অভিযোগ করতে থানায় গেলেও তাদের মামলা দায়ের না করারই পরামর্শ দেয় পুলিশ
প্রশাসনও।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: