সর্বশেষ আপডেট : ৩ মিনিট ২৬ সেকেন্ড আগে
শনিবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

বিচারবিভাগ শুধু কাগজে কলমে স্বাধীন

chief-justiceনিউজ ডেস্ক :: মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে সাক্ষ্য আইনে পরিবর্তন আনা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা। একই সঙ্গে কাগজে কলমে বিচারবিভাগ স্বাধীন হলেও বাস্তবে প্রশাসনের কাছে বাধা বলেও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার ঢাকার নিম্ন আদালতে মেট্রোপলিটন আইনজীবী সমিতি আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

মেট্রোপলিটন আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট আসকির খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন সুপ্রিমকোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি গোবিন্দ চন্দ্র ঠাকুর। আরো উপস্থিত ছিলেন- ঢাকার জেলা জজ এসএম কুদ্দুস জামান, মহানগর দায়রা জজ মো. কামরুল হোসেন মোল্লা, সিএমএম বিকাশ কুমার সাহা, সিজেএম মাহবুবুর রহমান, জেলা জজ, মহানগর দায়রা জজ এবং সিএমএম ও সিজেএম আদালতের বিচারকবৃন্দ এবং আইনজীবী সমিতির নেতারা।

অনুষ্ঠানে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘নিম্ন আদালতে ২৮ লাখ মামলা বিচারাধীন। প্রচলিত আইনের এতো সংখ্যক মামলা নিষ্পত্তি করা সম্ভব নয়। তাই আমরা চিন্তা-ভাবনা করছি সাক্ষ্য আইনে পরিবর্তন করা যায় কি না।’

তিনি আরও বলেন, ‘হাইকোর্টে সরাসরি যে সকল মামলা অ্যাডমিরালিটি স্যুট, রিট দাখিল হয় সেখানে তো মামলায় এতো সাক্ষ্য আমরা গ্রহণ করি না। তাই দেওয়ানি মামলায় সাক্ষ্য আইনে পরিবর্তন এনে বাদী এবং বিবাদী পক্ষ অ্যাভিডেভিটের মাধ্যমে সাক্ষীদের সাক্ষ্য দিবেন। এরপর বিচারক তা পর্যালোচনা করে কোন কোন বিষয়ের ওপর জেরার সুযোগ দিবেন তা নির্ধারণ করবেন। তাহলেই সময় বাঁচবে। মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি হবে। এ ব্যাপারে আমি আইনজ্ঞদের সঙ্গে পরামর্শ করছি। খুব শীঘ্রই এ বিষয়ে একটি সেমিনার আয়োজন করা হবে।’

প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘একটি ফৌজদারি মামলা ২০ বছরেও নিষ্পত্তি হচ্ছে না। নিষ্পত্তি না হওয়ার কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে সাক্ষী না পাওয়া, বিদেশে যাওয়া, পুলিশী সাক্ষী বদলি হয়ে যাওয়া ইত্যাদি। তাই ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ওই সকল ক্ষেত্রে সাক্ষ্য গ্রহণের বিষয় ভাবা হচ্ছে। এ ব্যাপারে বিদেশি কিছু সংস্থার সঙ্গে আলোচনা চলছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘নদীর ওপারে কেরানীগঞ্জে কারাগার চলে যাচ্ছে। কারাগার সেখানে গেলে, সেখান থেকে আসামিদের সদরঘাটের আদালতে আনা কষ্টসাধ্য হবে এবং সময়ও বেশি লাগবে। সেখানে অনেক জায়গা আছে। আপনারা (আইনজীবী) চাইলে সেখানে আদালত হতে পারে। আমি আইনমন্ত্রীকে প্রস্তাব দিয়েছি। তিনি বলেছেন, আইনজীবীরা কি রাজি হবেন? সেখানে আদালত হলেই সুবিধা হবে। তিনি আইনজীবীদেরকে এ বিষয়ে ভাবতে বলেছেন। সেখানে অনেক জায়গা আছে তাই পরিকল্পিতভাবে সব কিছু করা যাবে।’

তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘নিম্ন আদালতে ২৮ লাখ মামলা বিচারাধীন রয়েছে। কীভাবে নিষ্পত্তি হবে। প্রশাসনের কারণে আমরা আরও পিছিয়ে যাচ্ছি। আমি আমার বিচারকদের বসতে জায়গা দিতে পারছি না। কাগজে কলমে বিচার বিভাগ স্বাধীন হলেও আমি বলব বাস্তবে আমরা স্বাধীন নই। প্রশাসন আমাদের সহায়তা করছে না। তাই ষাটভাগ জেলায় আমরা কোর্ট বিল্ডিং নির্মাণ করতে পারছি না। তাই প্রশাসনকে বলব আপনারা আমাদের সঙ্গে সংঘাতে না জড়িয়ে সহায়তা করুন।’

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: