সর্বশেষ আপডেট : ৫২ মিনিট ৪৫ সেকেন্ড আগে
শনিবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

সুনামগঞ্জে বালুবাহী কার্গো উদ্ধারের লক্ষ্যে অবৈধ ইজারাদারের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসকের কাছে অভিযোগ

Sunamganj--আল-হেলাল,সুনামগঞ্জ::
সুনামগঞ্জের ধোপাজান নদী বালু পাথর উন্মুক্ত মহালে অবৈধভাবে রয়েলিটি আদায়ের অভিযোগে ভূয়া ইজারাদার তফজ্জুল হোসেন এর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগটি দায়ের করেছেন শহরের উত্তর আরপিননগর নিবাসী ও সুনামগঞ্জ পৌরসভার সাবেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সামরান আলীর পুত্র মোঃ মাজহারুল ইসলাম। অভিযোগে প্রকাশ,ধোপাজান নদী বালু পাথর মহাল বর্তমানে জেলা প্রশাসক শেখ রফিকুল ইসলামের নির্দেশে সম্পূর্ণভাবে উন্মুক্ত রয়েছে।

চলতি ১লা বৈশাখ থেকে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত উক্ত বালু মহালটি কাউকে ইজারা দেয়া হয়নি। বৃহস্পতিবার সকালে অবৈধ রয়েলিটির নামে প্রতিফুট বালু হতে ৭০ পয়সা হারে চাঁদা উত্তোলনের দাবীতে পৌর এলাকার মহিলা কলেজ রোড নিবাসী আবুল হোসেন এর পুত্র তফজ্জুল হোসেন একদল ভাড়াটে মাস্তান নিয়ে মাজহারুল ইসলামের পরিচালিত এম ভি হাফিজুর রহমান-৩ নামক বালু বহনকারী কার্গোটি আটক করেছেন। দাবীকৃত চাঁদার টাকা পরিশোধ না করায় তফজ্জুল হোসেন ও তার লোকজন কার্গোটি ছেড়ে দেবেননা বলে তাকে হুমকী দেন বলেও জানান মাজহারুল ইসলাম। ফলে বাধ্য হয়ে ভূক্তভোগী ঐ ব্যাবসায়ী তার কার্গো উদ্ধারের জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। নিরীহ ব্যাবসায়ীদের পক্ষে অভিযোগপত্রে স্বাক্ষর করেছেন সাইফুল ইসলাম,মোঃ নজরুল আলম,আব্দুল কাইয়্যুম ও জুনেল আহমদ রাজরানসহ ৬ ব্যাক্তি। অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে নিজেকে ধোপাজান নদী বালি মহালের বৈধ ইজারাদার দাবী করে তফজ্জুল হোসেন বলেন,আমার পক্ষে মহামান্য হাইকোর্টের স্থিতাবস্থা আছে।

আদালতের আদেশের আলোকে আমি ১৪২২ বাংলা সনের ইজারামূল্য পরিশোধক্রমে ভোগদখলে আছি। তারপরও জেলা প্রশাসন যদি আমাকে লীজ না দেয় আমি স্বেচ্ছায় ভোগদখল থেকে বিরত থাকবো। তার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত অভিযোগটি প্রশাসনের কাছে তদন্তাধীন আছে বলেও তিনি স্বীকার করেন। বালি পাথর মহালের প্রকৃত ও বঞ্চিত ইজারাদার ইব্রাহিমপুর নিবাসী আফতাব মিয়া বলেন, তফজ্জুল হোসেনের কাছ থেকে লীজমানী গ্রহন না করার জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিধিনিষেধ রয়েছে। জেলা প্রশাসক আদৌ তার কাছ থেকে ২২ বাংলা সনের কোন ইজারামূল্য গ্রহন করেননি। এছাড়া মহামান্য সুপ্রীম কোর্টের আপীল বিভাগের ৯৭৫/২০১৫ নং মামলায় গত ১৬ এপ্রিল বিজ্ঞ বিচারপতিগন বিরোধীয় বালিমহাল লীজ দেয়ার মালিকানা হাইকোর্টের নেই মর্মে সুস্পষ্ট আদেশ দিয়েছেন। তাই মহামান্য সুপ্রীম কোর্টের আপীল বিভাগে আমার দায়েরকৃত মামলার আদেশ অনুযায়ী তফজ্জুল হোসেন কোনক্রমেই নিজেকে বৈধ ইজারাদার দাবী করতে পারেননা।

১লা বৈশাখ থেকে ১৭ বৈশাখ পর্যন্ত ১৭ লক্ষ টাকা সম্পূর্ণ অবৈধভাবে তফজ্জুলের নেতৃত্বে রয়েলিটি হিসেবে আদায় করা হয়েছে। এছাড়া বোর ফসল উত্তোলনের জন্য জেলা প্রশাসক বিরোধীয় বালি মহালে রয়েলিটি উত্তোলনসহ সকল কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করলেও তিনি জেলা প্রশাসকের আদেশ অমান্য করে ১লা বৈশাখ থেকে ১৭ বৈশাখ পর্যন্ত মহাল চালু রেখে লক্ষ লক্ষ টাকা চাঁদা আদায় করেই যাচ্ছেন বলে বালি ব্যাবসায়ী শ্রমিক ও অভিযোগকারীরা চ্যালেঞ্জ করেন। সহকারী কমিশনার (ভূমি ) মোঃ মামুন খন্দকারসহ ভূমি অফিসের কর্মকর্তা কর্মচারীরা অভিযোগ প্রাপ্তির সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, অভিযোগের সরজমিন তদন্তক্রমে আইনানুগ ব্যাবস্থা গ্রহন করা হবে।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: