সর্বশেষ আপডেট : ১১ মিনিট ৩৩ সেকেন্ড আগে
মঙ্গলবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

সিলেটে প্রেমের নামে মারজানার পাতানো ফাঁদ! অতপর আটক

unnamed (2)ডেইলি সিলেট ডেস্ক :: ২০১৩ সালের শুরুর দিকের কথা। সিলেট নগরীর আখালিয়া এলাকায় একটি বাসা ভাড়া নেন সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার সোনাপুর
গ্রামের বাসিন্দা মারজানা আক্তার (১৮) ও তার মা সোনাবালা বেগম। মায়ের সঙ্গে পরিচয় ঘটে আব্দুল আলিম নামে এক যুবক। ধীরে ধীরে বাড়ে হৃদ্যতা। সম্পর্কটা
পারিবারিক বন্ধুর মতোই। কিছুদিনের মধ্যে মারজানা ও তার মা বাসা পরিবর্তন করে নগরীর নবাব রোডে চলে যান। দূরত্বই যেন মারজানার কাছে এনে দেয় মজিদকে।
তারপর মন দেয়া-নেয়া। একপর্যায়ে প্রণয়।

বিয়ের পর মারজানার ভালোবাসাই যেন বিপরীত রুপ ধারণ করেন আব্দুল আলিমের কাছে। বিভিন্নভাবে টাকা পয়সা নেয়া শুরু করেন তিনি। অর্থের এই চাহিদা কখনোই
যেন কমে না মারজানার। শুধু টাকা নয়, মা ও মেয়ে মিলে নানান কৌশলে আব্দুল হালিমের কাছে বিভিন্ন দামি জিনিসপত্র কিনে নেন।

গল্পটা শোনাতে শোনাতে দীর্ঘ শ্বাস ছাড়লেন আলিম। মারজানা নামের এই মেয়েটির জন্য তার জীবন এখন বিপর্যস্ত। সব খুইয়ে এখন সে বড় অসহায়। অর্থ নিয়েছে তাতে
ক্ষোভ নেই, কিন্তু মন নিয়ে এতবড় খেলা মানতে খুব কষ্ট হয় তার।

অভিযোগের সুরেই আলিম বললেন, ‘আমি আগে মারজানা সম্পর্কে এতটা জানতাম না। তার ছলনাময়ী কথা আমাকে ফাঁদে ফেলেছে। পরে দেখেছি, বিয়ের পর সে অন্য
ছেলেদের সঙ্গে মোবাইল ফোনে নিয়মিত কথা বলতো। এ নিয়ে মারজানার সঙ্গে অনেক কথা বলেছি। কিন্তু কিছুতেই কাজ হয়নি। শেষ পর্যন্ত গত জানুয়ারি মাসে শেষ হয়ে
যায় সবকিছু। সে বাসা থেকে মালামাল নিয়ে পালিয়ে যায়।’ পরে অবশ্য থানায় অভিযোগ দায়ের করে মারজানার বাসা থেকে কিছু মালামাল উদ্ধার করতেও সক্ষম হয়েছিলেন বলে জানান তিনি।

এরকম একজন আব্দুল আলিমই নয়, মারজানার ফাঁদে পড়েছেন ছাতক উপজেলার সুমন আহমদ, হবিগঞ্জ জেলার রাকিব আহমদ, কামালপুর বাজারের লিটন আহমদ, রাজা
মিয়াসহ আরো অনেকেই। অনেকেই নিঃস্ব হয়েছেন ‘ভয়ঙ্কর প্রেমিকা’ মারজানার কাছে।

সুমন আহমদ জানান, মারজানার সঙ্গে তার প্রথম পরিচয় হয় মোবাইল ফোনে। পরে মারজানা তার মায়ের সঙ্গেও পরিচয় করিয়ে দেন। একপর্যায়ে তারা দু’জনে বিয়েও
করেন। আব্দুল আলিমের মতো তার কাছে থেকেও মারজানা ও তার মা টাকাসহ দামি মালামাল হাতিয়ে নেন। পরে তিনি মারজানার পাতনো ফাঁদের বিষয়টি বুঝতে পেরে
কৌশলে তিনি সরে যান।

সবশেষ মারজানার ফাঁদে পড়েন বিশ্বনাথ উপজেলার বাসিন্দা সাজিদ খানের ছেলে ইকবাল খান। বুধবার সিলেট নগরীর বন্দরবাজারস্থ আবাসিক হোটেল বিলাসে
ইকবালকে নিয়ে রাত্রিযাপন কালে কোতোয়ালি থানার এসআই মাসুদ রানার হাতে ধরা পড়েন মারজানা। রাত ১টায় মারজানা ও ইকবালকে আটক করে নিয়ে আসা হয়
থানায়।

বৃহস্পতিবার দুপুরে সিলেট কোতোয়ালী থানার ওসি সুহেল আহমদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, মারজানা একজন প্রতারক। তার বিরুদ্ধে থানায় একাধিক
প্রতারণার অভিযোগ রয়েছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাকে বুধবার রাতে হোটলে বিলাস থেকে আটক করা হয়েছে। ওসি আরো জানান, মারজানার কাছ থেকে একাধিক মোবাইল ও সিম উদ্ধার করা হয়েছে।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: