সর্বশেষ আপডেট : ১ মিনিট ১৫ সেকেন্ড আগে
সোমবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

সুনামগঞ্জে ধর্ষন মামলার চার্জসীটভূক্ত আসামীদের খালাস দিয়েছে আদালত

anoarসুনামগঞ্জ প্রতিনিধি::
সুনামগঞ্জ সদর থানার চাঞ্চল্যকর অপহরণ ও ধর্ষন মামলার প্রধান আসামী আনোয়ার হোসেন ওরফে আনোয়ার মুহুরী ও তার সহযোগী মোজাম্মেল হক মুজাইকে দীর্ঘ ৭ মাস হাজতবাসের পর আপোসের শর্তে বেকসুর খালাসসহ জামিন দিয়েছেন আদালত। ২৯ এপ্রিল বুধবার সুনামগঞ্জের নারী ও শিশু ট্রাইব্যুনাল আদালতের বিচারক জেলা ও দায়রা জজ মোঃ মুজিবুর রহমান তাকে বেকসুর খালাস প্রদান করেন। উল্লেখ্য উক্ত ধর্ষনের মামলাটি বাদিনী ধর্ষিতার সাথে দেড় লক্ষ টাকার বিনিময়ে আপোস করে আসামী আনোয়ার ও তার সহযোগী মুজাই।

জানা যায়,সদর উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের ইব্রাহিমপুর গ্রামের পান ব্যবসায়ী সুন্দর আলীর বদমাস পুত্র মাতাল আনোয়ার হোসেন ওরফে আনোয়ার মুহুরী তার ঘনিষ্ট বন্ধু পার্শ্ববর্তী মইনপুর গ্রামের মোজাম্মেল প্রকাশিত মুজাই (মনাই) মিয়ার সহযোগীতায় ভিকটিম মহিলাকে প্রকাশ্য দিবালোকে ইব্রাহিমপুর গ্রামস্থিত বসত বাড়িতে এনে প্রাননাশের ভয় দেখিয়ে নিজ বসতঘরে জোরপূর্বক আটকে রেখে ধর্ষন করে।

এ ঘটনায় সদর উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের মঈনপুর গ্রামের ধর্ষিতা ভিকটিম বাদিনী হয়ে আনোয়ার হোসেন ও তার সহযোগী মুজাইকে আসামী করে সুনামগঞ্জ থানায় মামলা নং ৪ ( জিআর ২৪২/২০১৪) তারিখ ২/১১/২০১৪ইং দায়ের করেন। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধনী ২০০৩) এর ৭/৯(১) ৩০ ধারামতে দায়েরকৃত এই মামলার প্রধান আসামী আনোয়ার হোসেন ৩ মাস পূর্বে আদালতে আত্মসমর্পন করলে বিজ্ঞ বিচারক জেলা ও দায়রা জজ মোঃ ইসরাইল হোসেন জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে জেলহাজতে প্রেরন করেন। প্রায় ৩ মাস সুনামগঞ্জ জেলা কারাগারে হাজতবাস করে আসামী আনোয়ার। অন্যদিকে আনোয়ারের সহযোগী সদর উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের মঈনপুর গ্রামের আব্দুল জলিল ওরফে গেদা মিয়ার পুত্র মুজাইকে ৩ অক্টোবর ভোর পৌনে ৪টায় সদর থানার এসআই মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন শহরের কাজির পয়েন্টস্থ আর এন্ড এম জেনারেল হাসপাতালের সামনে থেকে গ্রেফতার করেন।

মামলার বিবরনে প্রকাশ,আটককৃত মজাই ওরফে মনাই ধর্মপিতা সেজে ভিকটিমের কাছে বিশ্বাসভাজন হয়। ২৮ অক্টোবর বিকাল ৫টার সময় ভিকটিমের সংসারে শশুড় শাশুড়ির সাথে ঝসড়া কলহের সুযোগে তথাকথিত ধর্মপিতা মোজাম্মেল হক মজাই মোহনপুর গ্রামে পিতা মাতার বাড়িতে পৌছিয়ে দেয়ার কথা বলে ২৯ অক্টোবর সকাল ৬টায় শ্বশুড়ের বাড়ি মইনপুর হতে ভিকটিমকে নিয়ে আসে। পরে উদ্দেশ্যমূলকভাবে ভিকটিমকে তাহার পিত্রালয় মোহনপুরে না নিয়ে ইব্রাহিমপুর গ্রামের দাসপাড়া ধোপাবাড়ি মহল্লায় ঘটনার মূল নায়ক আনোয়ার হোসেনের কাছে নিয়ে যায়। আসামী আনোয়ার হোসেন ভিকটিমকে সমজিয়ে নিয়ে বিবাহের প্রস্তাব দিয়ে ৩০ অক্টোবর হতে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত নিজ বসতঘরে আটকিয়ে রেখে ভিকটিমের ইচ্ছের বিরুদ্ধে একাধিকবার জোরপূর্বক ধর্ষন করে।

এরপর ১লা নভেম্বর সন্ধ্যায় ভিকটিমকে জয়নগর পয়েন্টে নিয়ে ছেড়ে দেয়। উল্লেখিত অভিযোগের ভিত্তিতে আসামীদ্বয়ের বিরুদ্ধে থানায় মামলা এফআইআরের পর ৩ অক্টোবর ভোর পৌনে ৪টায় সদর থানার এসআই মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন শহরের কাজির পয়েন্টস্থ আর এন্ড এম জেনারেল হাসপাতালের সামনে থেকে মজাই ওরফে মনাইকে গ্রেফতার করেন। অন্যদিকে আসামীরা জেলা সদর হাসপাতালের চিকিৎসকদেরকে মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে ডাক্তারী সনদ হাতিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু পুলিশ ধর্ষনের আলামত জব্দ করার পর আসামীদের বিরুদ্ধে একাধিক সাক্ষীর জবানবন্দী পেয়ে বিজ্ঞ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। থানা পুলিশকে ম্যানেজ করতে ব্যার্থ হলেও ভিকটিম বাদিনীর সাথে দেড় লক্ষ টাকার বিনিময়ে আপোস সমঝোতায় মিলিত হয় ঐ আসামীরা। পরে ভিকটিম বাদিনীর মাধ্যমে আপোসনামা সহকারে আদালতে জামিনের আবেদন করলে বিজ্ঞ বিচারক ইসরাইল হোসেন ধর্ষনের মামলা আপোস হয় কিভাবে মর্মে উল্লেখ করে তাদের জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করে দেন। আদালতে আসামীপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেছেন এডভোকেট আবুল বাশার।

গ্রামবাসী জানান,আনোয়ার শুধু ধর্ষনকারীই নয় একজন মাতাল সন্ত্রাসীও বটে। সে ২টি নাবালক সন্তানসহ তার প্রথম স্ত্রীকে ২০১০ ইং সনের ১লা জানুয়ারী তালাক প্রদান করে। পরে ১ম স্ত্রী বিজ্ঞ আদালতে সন্তানের ভরনপোষন ও কাবিনের টাকা উদ্ধারের জন্য তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করলে ২০১০ সালের ১৮ অক্টোবর বিজ্ঞ বিচারক উৎপল চৌধুরী আসামী আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে ১লক্ষ ৩০ হাজার টাকার রায় ঘোষণা করেন। পরে আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আনোয়ার ২০১১ সালের ১লা জানুয়ারী পারিবারিক বিবিধ ছানী ৩৮/২০১২ ও পারিবারিক আপীল ১/২০১২ দায়ের করে। বিজ্ঞ আদালত তার দায়েরকৃত এসব মামলা খারিজ করে দেন। বারবার তাকে সুযোগ দেয়া স্বত্তেও আসামী আনোয়ার আপোসে স্ত্রীর কাবিন ও সন্তানদের ভরনপোষনের টাকা পরিশোধ করেনি। বরং ভরন পোষনের টাকা দেই দিচ্ছি করে সময় ক্ষেপন করে। বর্তমানে আসামী আনোয়ারের বিরুদ্ধে তার তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রীর দায়েরকৃত ১৫/২০১২নং জারী মোকদ্দমা বিজ্ঞ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। ১ম স্ত্রীর সাথে মামলা মোকদ্দমা বিজ্ঞ আদালতে বিচারাধীন থাকাবস্থায় আনোয়ার দোয়ারাবাজার উপজেলার নরসিংহপুর ইউনিয়নের চাইরগাও গ্রামে অপর ১টি মেয়েকে বিবাহ করে। ২০০৮ সালে সদর উপজেলার বর্মাত্তোর গ্রামে শাহানা নামে ১টি মেয়েকে বিয়ে করে পরে ২০ হাজার টাকা দিয়ে ছেড়ে দেয়। চতুর্থ দফায় একই গ্রামের আরেকটি মেয়েকে বিয়ে করে ছেড়ে দেয় একই কায়দায়।

জগন্নাথপুর উপজেলার ইসলামপুর গ্রামের একটি মেয়ে আদালতে মামলা দায়ের করিয়ে দেয়ার জন্য আনোয়ার হোসেনের কাছে এলে সে ঐ মেয়েটিকেও বিবাহের প্রলোভন দিয়ে ধর্ষন করে। ইব্রাহিমপুর গ্রামের সামছুন নূর মিয়াকে জেলরোডস্থ গোদারাঘাটে ছুরিকাঘাতে আহত করার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় ২০০৫ সালের ১২ মে সদর থানা এসআই আতিকুর রহমান তাকে গ্রেফতার করেন বলেও জানা যায়। আনোয়ারের পরিত্যাক্ত ১ম স্ত্রী বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন সুনামগঞ্জ জেলা শাখার একজন সক্রিয় কর্মী। বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের কাছে তিনি ন্যায় বিচারের জন্য একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। উক্ত অভিযোগের বিবরন থেকে আনোয়ারের বিরুদ্ধে এসব তথ্য পাওয়া যায়। আসামী আনোয়ার ২০০৬ সাল থেকে তার ১ম স্ত্রীর গর্ভজাত ২টি নাবালক সন্তানকে ভরনপোষন থেকে সম্পূর্ণরুপে বিরত রয়েছে। ফলে দীর্ঘ ৯ বছর যাবৎ অনাহার ও অর্ধাহারে মানবেতর দিন যাপন করছে ২টি নাবালক সন্তান।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: