সর্বশেষ আপডেট : ৪ ঘন্টা আগে
মঙ্গলবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

শ্যালক-দুলাভাইয়ের নির্বাচনে জয়ী দুলাভাই

14. dhakaনিউজ ডেস্ক::
সলিমুল্লাহ সলু ও নুরুল ইসলাম রতনঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ২৯ নম্বর ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে শ্যালকের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জিতেছেন দুলাভাই নুরুল ইসলাম রতন। আওয়ামী লীগের সমর্থন না পেলেও দলের বিদ্রোহী প্রার্থী রতন আওয়ামী লীগ-সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী সলিমুল্লাহ সলুকে হারিয়েছেন বড় ব্যবধানে। এ ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগ-সমর্থিত সলিমউল্লাহ সলু ঘুড়ি প্রতীকে ভোট পেয়েছেন চার হাজার ৮৭২ টি। রতন ঠেলাগাড়ি প্রতীকে লড়ে পেয়েছেন সাত হাজার ৫৭০ ভোট। বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছে রতন।

সিটি নির্বাচনে মধ্য মোহাম্মদপুরের এ ওয়ার্ডটি নিয়ে সবার মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ ছিল। এর মূল কারণ সলু ও তাঁর বড় বোনের স্বামী রতন। এ ওয়ার্ডের নির্বাচন নিয়ে পরিবারের ভেতরকার ব্যাপক দ্বন্দ্বের কথা মোহাম্মদপুরের মানুষের মুখে মুখে। সলুর বাবা হাজি চিনু মিয়া মোহাম্মদপুরের একজন প্রভাবশালী ব্যক্তি ছিলেন। ষাটের দশক থেকে তিনি দীর্ঘদিন ওই এলাকার চেয়ারম্যান ও পরে ওয়ার্ড কমিশনার ছিলেন। ১৯৯৪ সালে ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের সময় তিনি নির্বাচনে অংশ না নিয়ে জামাতা নুরুল ইসলাম রতনকে নিজের উত্তরাধিকারী ঘোষণা করেন। সেবার রতনকে ওয়ার্ড কমিশনার নির্বাচনে নিজের প্রার্থী হিসেবে সবার কাছে পরিচয় করিয়ে দেন। রতন বিজয়ীও হন। এর পর থেকে পরিবারের ভেতরেই এ নিয়ে দ্বন্দ্ব দেখা দেয় বলে পরিবার সংশ্লিষ্টদের সূত্রে জানা যায়। এমনকি মুখ দেখাদেখিও বন্ধ হয়ে যায়।

২০০১ সালে ডিসিসির পরবর্তী নির্বাচনে দুলাভাইয়ের বিরুদ্ধে প্রার্থী হয়ে কমিশনার নির্বাচিত হন সলু। নির্বাচিত হওয়ার পর বোনের পরিবারের ওপর বিভিন্ন ধরনের চাপ দেওয়ার কথাও শোনা যায় সলুর বিরুদ্ধে। একপর্যায়ে রতন দীর্ঘদিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবাস জীবন কাটাতে বাধ্য হন। আগের মেয়াদে ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর দেশে ফিরে রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে নিজের অবস্থান আবার সুসংহত করার চেষ্টা করেন রতন। রাজনীতিতে সক্রিয় থাকলেও এবারের সিটি নির্বাচনে দলীয় সমর্থন পাননি। স্থানীয় এক সাংসদ ও আওয়ামী লীগের একজন প্রধান নেতার আনুকূল্যে সলু দলীয় সমর্থন পেয়ে যান। তবে সমর্থন না পেলেও মাঠ ছাড়েননি রতন। শেষ পর্যন্ত বিজয়ী হন।

গতকাল ভোটের দিন কাউন্সিলর পদের এ দু প্রার্থীর কারণে দিনভর উত্তেজনা ছিল মোহাম্মদপুরে। দিনভর কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনার কারণে ম্লান হয়ে গেছে মেয়র পদের প্রার্থীদের লড়াই। ভোটের দিন সকাল থেকে ভোটকেন্দ্র ও এর আশপাশে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। একাধিকবার হস্তক্ষেপ করতে হয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে।

বিজয়ী হওয়ার পর আজ বুধবার নুরুল ইসলাম রতন এলাকার নাগরিক সমস্যা সমাধান ও উন্নয়নে মনোযোগী হওয়ার কথা জানান। ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সমস্যা ছাপিয়ে এলাকার উন্নয়নে সবাইকে নিয়ে কাজ করার লক্ষ্যের কথাও জানান তিনি। তিনি বলেন, ‘দলের আনুষ্ঠানিক সমর্থন না পেলেও দলীয় কর্মী, সমর্থক ও এলাকাবাসী আমাকে তাঁদের প্রতিনিধি নির্বাচন করেছেন। তাঁদের সে বিশ্বাসের মূল্য আমি দেব।’

সূত্র : প্রথম আলো

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: