সর্বশেষ আপডেট : ২৪ মিনিট ৩ সেকেন্ড আগে
বুধবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

হবিগঞ্জের দুই সহোদরের বিরুদ্ধে প্রাথমিক তদন্ত সম্পন্ন

banglanews24.comডেইলি সিলেট ডেস্ক :: মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেফতারকৃত হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জের দুই সহোদর মহিবুর রহমান বড় মিয়া ও মুজিবুর রহমান আঙ্গুর মিয়ার বিরুদ্ধে তদন্তের প্রাথমিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা।

একই মামলার আসামি বড় মিয়া-আঙ্গুর মিয়ার বিরুদ্ধে হত্যা, ধর্ষণ, অপহরণ, নির‌্যাতন, অগ্নিসংযোগসহ ৪টি মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে প্রাথমিক তদন্ত সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন তদন্ত সংস্থা।

বুধবার (২৯ এপ্রিল) ধানমণ্ডিস্থ তদন্ত সংস্থার কার্যালয় সেফহোমে এক সংবাদ সম্মেলনে তদন্ত সংস্থার প্রধান সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান খান এ তথ্য জানান।
তদন্ত সংস্থার জ্যেষ্ঠ সদস্য সানাউল হক, এ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা নুর হোসেনসহ সংস্থার সদস্যরা সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।

হান্নান খান বলেন, প্রাথমিকভাবে এ মামলার তদন্ত সম্পন্ন করা হয়েছে। শিগগিরই এর চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন প্রসিকিউশনের কাছে দাখিল করা হবে। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) এ মামলার তদন্তের অগ্রগতি বা চূড়ান্ত প্রতিবেদন বা ফরমাল চার্জ দাখিলের দিন ধার্য রয়েছে।

২০১৪ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়ে মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) শেষ হয়। এতে ২১ জন সাক্ষীর জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করেছেন তদন্তকারী কর্মকর্তা।

প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, কুমুরশামা গ্রামের বাসিন্দা গ্রেফতারকৃত মহিবুর রহমান বড় মিয়া ও মুজিবুর রহমান আঙ্গুর মিয়া মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় এলাকায় রাজাকার বাহিনী গড়ে তোলেন। তাদের মধ্যে বড় ভাই ছিলেন শান্তি কমিটির চেয়ারম্যান ও ছোট ভাই ছিলেন রাজাকার কমান্ডার। তারা এলাকার মুক্তিযোদ্ধাদের পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে ধরিয়ে দেন।

প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদনের অভিযোগে বলা হয়েছে, একাত্তর সালের ১১ নভেম্বর বানিয়াচং উপজেলায় অভিযান চালিয়ে মুক্তিযোদ্ধা আকল আলী ও রজব আলীকে হত্যা করে মরদেহ গুম করে ফেলেন আসামিরা।

এছাড়া তারা মুক্তিযুদ্ধের উপ-প্রধান সেনাপতি মরহুম মেজর জেনারেল এম এ রবের বাড়িতে পাকিস্তানি বাহিনীর সহযোগিতায় হামলা চালিয়ে অগ্নিসংযোগ ও লুটতরাজ করে টাকা-পয়সা, স্বণালঙ্কার নিয়ে যান এবং ঘর-বাড়ি জ্বালিয়ে দেন।

একই দিন বানিয়াচং উপজেলার খাগাউড়া এলাকার উত্তরপাড়ায় তাদের সহযোগিতায় পাকিস্তানি বাহিনী মঞ্জব আলীর স্ত্রী ও আওলাদ ওরফে আল্লাত মিয়ার ছোট বোনকে ধর্ষণ করে। পরে আল্লাত মিয়ার বোন বিষপানে করে আত্মহত্যা করেন।

এছাড়া একাত্তর সালের বাংলা ভাদ্র মাসের যেকোনো দিন আনছার আলীকে বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে রাজাকার ক্যাম্পে নিয়ে নির্যাতন চালান তারা। ওই নির্যাতনে পঙ্গু হয়ে যান আনছার আলী।

গত ১০ ফেব্রুয়ারি তদন্তের স্বার্থে মহিবুর রহমান বড় মিয়া ও মুজিবুর রহমান আঙ্গুর মিয়াকে গ্রেফতারের আবেদন জানান প্রসিকিউশন। ওই আবেদনের শুনানি শেষে তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন ট্রাইব্যুনাল-২।

এর পর পরই বেলা ১২টার দিকে হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার ইমামবাড়ি এলাকা থেকে খাগাউড়া ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান মহিবুর রহমান বড় মিয়া (৭০) ও তার ছোট ভাই বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান আঙ্গুর মিয়াকে(৬৫) গ্রেফতার করে হবিগঞ্জ গোয়েন্দা পুলিশ। ১২ ফেব্রুয়ারি হাজির করা হলে তাদেরকে কারাগারে পাঠিয়ে দেন ট্রাইব্যুনাল।

২০০৯ সালে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা আকল মিয়ার স্ত্রী ভিংরাজ বিবি হবিগঞ্জের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কগনিজেন্স-৪ এর বিচারক রাজীব কুমার বিশ্বাসের আদালতে মহিবুর রহমান বড় মিয়া ও মজিবুর রহমান আঙ্গুর মিয়ার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ এনে মামলা (নং- ২৭০/০৯) দায়ের করেন।

বিচারক মামলাটি আমলে নিয়ে ২৫ কার্যদিবসের মধ্যে বানিয়াচং থানা পুলিশকে এ বিষয়ে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। পরে মামলাটি আদালত থেকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়।

ট্রাইব্যনালের অনুমতি নিয়ে গত ১১ মার্চ রাজাকার কমান্ডার মহিবুর রহমান বড় মিয়া ও মজিবুর রহমান আঙ্গুর মিয়াকে সেফ হোমে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন তদন্ত সংস্থা।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: