সর্বশেষ আপডেট : ২ মিনিট ৫১ সেকেন্ড আগে
শুক্রবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

‘বড় ঈদে ছুটি চাই’ : খোলা আকাশের নীচে ক্যাম্পেইন

unnamed (10)বিশ্ববিখ্যাত তাবিয়ী হযরত আলী ও হযরত ইবনে আব্বাসের শিষ্য এবং হযরত ইবনে আব্বাসের পর সর্বপ্রথম মুফাস্সিরে কোরআন হযরত মুজাহিদ ইবনে জাবার (৬৪৫-৭২২ খ্রীষ্টাব্দ) বলেন, কয়েকটি ঘটনার জন্য শয়তানদের গুরু ইবলিস খুবই কাঁদছিল, তা হলো ১) সুরা ফাতিহা অবতীর্ন হবার পর ২) যখন ইবলিসকে অভিশপ্ত করে গালি দেয়া হয় ৩) যখন তাকে পৃথিবীর বুকে নিক্ষেপ করা হয়, আর ৪) যখন নবী মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ্র (সা:) মীলাদ অর্থাৎ এ ধরাধামে আগমন হয়।

এরই ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে বিশ্বের বরেণ্য উলামায়ে কেরামগণ বলেছেন যে, কেবল ইবলীস ও তার জীন কিংবা মানব শয়তান অনুসারী ছাড়া নবীজীর মীলাদের দিন পৃথিবীর ১৮,৯৯৯ সৃষ্টিজীবই খুশী হয়েছিল। তাই ঈদে মীলাদুন্নবীতে প্রতিটি ঈমানদার খুশী হওয়া অত্যাবশ্যকীয় আর যারা তাঁর মীলাদ অনুষ্ঠান বা মীলাদুন্নবী সংক্রান্ত যে কোন ব্যাপারে দ্বিমত, অমত ও মানুষের মাঝে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে বাঁকা চোখে নিজের চাকুরী, দল কিংবা সমর্থনকে ঠিক রাখতে মীলাদুন্নবী কে নিয়ে কোন কটুক্তি কিংবা ব্যঙ্গ করে তারা নি:সন্দেহে শয়তানের অনুসারী, এরা আলেম, ইমাম, খতীব বা শিক্ষক হয়েও ইবলীসের মত অভিশপ্ত।

ইবলীস কিন্তু মানুষের চেয়ে জ্ঞানী ছিল তাই যত বড় আলেম কিংবা মুহাদ্দিস, মুফাস্সির, শায়খ, খতীব কিংবা ইমামই হউক না কেন শয়তানের চেয়ে বেশী জ্ঞানী হতে পারবেনা। প্রবাসী মুসলমানদেরকে এসব ফেতনা ও আল্লাহর অভিশাপ থেকে বাঁচাতে প্রবাসে নবী মোহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ (সা:) এর নাম, মান, শান ও মর্যাদাকে বৃদ্ধি ও উঁচু করে তোলার জন্য যেমনটি মহান আল্লাহ পাক পবিত্র কোরআনের ৯৪:৪ সূরায় বলেছেন “এবং আমি আপনার (নাম, মান, শান ও মর্যাদা সম্বলিত) আলোচনাকে সবার উপরে স্থান দিয়েছি”। তাই নবীজীর একজন সাধারণ উম্মাত হিসেবে মহান আল্লাহর সে কাজটি আমাদেরই করতে হবে। কারণ আল্লাহ পাক আমাদের মাধ্যমেই নবীজীর রিফআত অর্থাৎ তার মান ও শান বুলান্দ করে রাখবেন আর যদি আমরা মুসলমান হয়েও তা না করি, তবে তিনি মহান, যেকাউকে দিয়েই তা করাতে পারেন। যেমনটি তিনি ১৯৩৫ সালে আমেরিকার সর্বোচ্চ আইনী প্রতিষ্ঠান ইউএস সুপ্রীম কোর্টে কোন মুসলমানকে দিয়ে নয় বরং আমেরিকানদের দিয়েই নবীজীর নামকে যেখানে পৃথিবীর একজন শ্রেষ্ঠ আইন প্রণেতা হিসেবে রাখিয়ে দিয়েছেন। যা কেয়ামত অবধি অবশিষ্ট থাকবে।

এ উপলক্ষে ২০১২ সালে জ্যাকসন হাইটস মোহাম্মদী সেন্টার কর্তৃক উদযাপিত ক্যাম্পেইন “**বড় ঈদে ছুটি চাই” এর ধারাবাহিকতায় খোলা আকাশের নীচে প্রথম ক্যাম্পেইন ২০১৫ গত ২৬ শে এপ্রিল জ্যাকসন হাইটসের ডাইভারসিটি প্লাজায় অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে প্রবাসের বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ, এলামার্স্ট হাসপাতালে সম্মানিত চ্যাপলেইন প্রফেসর নূরুল আলম রাঈদী, পাকিস্তান থেকে আগত আল্লামা জাহুর আহমদ চিশতী, স্থানীয় সুখী প্রতিষ্ঠাতা মি:আগা সালেহ, ডা: ফেরদৌস খন্দকার, ড: জামাল নাসের, ইমাম শায়খ ইকরামুল হক তাফাদার, পন্ডিত শিবদাস , শায়খ সুফী মুজিবুর রহমান, নাতখান, হাফেজ কাদরী, প্রফেসর নূরুল মোস্তফা রাঈদী, শায়খ নাইয়ার রিজভী গং ঈদে মীলাদুন্নবীর এক তারিখ ঠিক রেখে তা পালন করার জন্য আমেরিকায় অবস্থিত ৭মিলিয়ন মুসলমানের প্রাণের দাবীর পক্ষে নিজ নিজ বক্তৃতা তুলে ধরেন। মীলাদুন্নবী হলিডে প্রস্তাবক জ্যাকসন হাইটসের মোহাম্মদী সেন্টারের প্রতিষ্ঠাতা ইমাম কাজী কায়্যুম তার বক্তৃতায় বলেন, মোহাম্মদী সেন্টার নামই রাখা হয়েছে, নবী মোহাম্মদের নামকে উঁচু করে রাখার জন্য ।

নবী মোহাম্মদ (সা:) এর মাধ্যমে আমরা আল্লাহকে চিনেছি, বেহেশত দোজখের পরিচয় লাভ করেছি, পিতামাতার প্রতি ভক্তি শিখেছি, মসজিদ-মাদ্রাসা বানানোর ফজিলতের কথা জেনেছি। হাফেজ কিংবা আলেম হওয়ার গুণের কথা শুনেছি। নেকী-বদী, ভালো মন্দ, লাভ-ক্ষতি, দুনিয়া-আখেরাত সহ সকল বিষয়ে অবগত হয়েছি। নবীজীকে ভালোবেসে তার ভালোবাসা পেলে আল্লাহরও ভালোবাসা পাবো বলেও জেনেছি। তাই আমরা আমাদের সন্তানকে ভালোবেসে যেভাবে তাদের জন্মদিন চুপি চুপি হোক আর অনুষ্ঠান করেই হোক পালন করি, নবীজীর ভালোবাসাকেও বজায় রাখার জন্য তাঁর জন্মদিন বা মীলাদুন্নবীকে পালন ও ঐদিনে সরকারী ছুটি দাবী করা কোন অবান্তর কিছু নয়। যেহেতু ১২ই রবিউল আউয়ালের সাথে নির্দিষ্ট কোন ইংরেজী তারিখ ঠিক থাকেনা তাই ৫৭০ খ্রীষ্টাব্দে নবীজী যে মাসে এই ধরাধামে আগমন করেছিলেন সে দিনটি হল এপ্রিল মাসের শেষ সোমবার। তাই ঐদিনকে ধরে আমরা আমেরিকান সরকারের নিকট একদিন ফেডারেল হলিডে চাই । আমরা আমাদের ঈদের দিনে সন্তানদের স্কুলের কোন পরীক্ষা হবেনা আইনটি পেয়েছি ২০০৬ সালে।

আমরা দুই ঈদে স্কুল বন্ধের ছুটি পেয়েছি ২০১৫ সালে। এবার আমাদের দাবী, নবী মোহাম্মদের (সা:) জন্মদিন এপ্রিলের শেষ সোমবার আমরা ছুটি চাই। আন্ত:ধর্মীয় ও খোলা জায়গায় ক্যাম্পেইন প্রোগ্রামের উদ্দেশ্যই হলো আমাদের অমুসলিম ভাইবোনদেরকেও এ দাওয়াত পৌঁছে দেয়া যে, নবীজীর উম্মাত বা অনুসারী, শুধুমাত্র মুসলমানগনই নন বরং যে কোন ধর্মের বর্ণের একজন মানুষের জন্যও নবী মোহাম্মদ (সা:) নবী হয়ে এসেছেন। তাই আমরা ধর্ম বর্ণ ও মত নির্বিশেষে ঈদে মীলাদুন্নবীতে ছুটি পাওয়া পর্যন্ত আমাদের এই ক্যাম্পইনকে প্রাণবন্ত করে রাখবো। আমাদের সকল অনুষ্ঠানে সর্বক্ষেত্রে তো আছেই, তাছাড়াও বৎসরে অন্তত একটি ক্যাম্পেইন প্রোগ্রাম করে আমাদের এ দাবীর পক্ষে সচেতনতা জারি রাখবো। যাতে করে আজ হোক, কাল হোক ইনশাআল্লাহ একদিন আমরা তা পেয়েই যাবো। হলিডে ক্যাম্পেইন দরখাস্তকে সমর্থন করে ইতিমধ্যেই স্থানীয় কাউন্সিল মেম্বার ড্যনিয়েল ড্রম, জুইস সেন্টার, অরথোডক্স খৃষ্টান সেন্টার, হিন্দু মন্দির ও গুরুদোয়ারার পন্ডিতবর্গ স্বাক্ষর করে দিয়েছেন। দল, মত, ধমর্, বর্ণ নির্বিশেষে সকলকে শান্তির নবী মোহাম্মদের (সা:) এ পৃথিবীতে আগমনের ইংরেজী তারিখ এপ্রিল মাসের শেষ সোমবার সরকারী ছুটি চাওয়ার ব্যাপারে মোহাম্মদী সেন্টার কোয়ালিশনে যোগদানের জন্য সকল প্রবাসী ভাইবোনদের আন্তরিক আহবান জানানো হচ্ছে।

অনুষ্ঠানের বিশেষ আকর্ষন ছিল ইসলামিক স্পেলীং বী। এতে বিজয়ী নতুন প্রজন্মরা অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পেরে ভারী খুশী । অনুষ্ঠানে উপস্থিত আমাদের সকল নতুন প্রজন্মরা প্লেকার্ড হাতে ধরে সকলের দৃষ্টি আকর্ষন করে এ কথা বলার চেষ্টা করেছেন যে, আমরাও বড় ঈদে ছুটি চাই। হয়তোবা তারা তাদের জীবদ্দশায় তাদের কচি প্রাণের এ দাবীটি দেখে যেতে সমর্থ হবেন। অনুষ্ঠানের কিছু অংশ সম্প্রতি নেপালে ভূমিকম্পের কারনে মৃত্যুবরণকারী মানুষের জন্য আন্ত:ধর্মীয় প্রার্থনা ও ফান্ড রেইজিং এর জন্য ছেড়ে দেয়া হয় এবং তাদেরকে তাদের কর্মকান্ড চালাতে ও অনুমতি ও সহযোগীতা করা হয়। মুসলমান কমিউনিটির পক্ষে মোহাম্মদী সেন্টারের এই বদান্যতার জন্য তারা মোহাম্মদী সেন্টার ও এর সকল সমর্থনকারী সহযোগী ও মুসল্লীদের প্রশংসা করেছেন। তারাও ঈদ হলিডের প্রতি তাদের সমর্থনও ব্যক্ত করেছেন। সুখী সভাপতি শাজিয়া কাউসার সকল মেহমানদেরকে দুপুরের খাবারের জন্য লংগারে মোহাম্মদী বিতরণ করেছেন। অনুষ্ঠানস্থলেই নামাজে জোহর ও আসর আদায় করা হয়। নেপালে ভূমিকম্পে মৃত্যুবরণ কারী ও তাদের পরিবারের শান্তি ও বিশ্ব মানবতার কল্যাণের জন্য বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করেন ইমাম কাজী কায়্যুম এবং শায়খ মুজিবর রহমান। সকাল ১০:০০টা থেকে সন্ধ্যা ৭:০০ঘটিকা পর্যন্ত অনুষ্ঠানটিতে বারবার “মোহাম্মদ” “মোহাম্মদ” নাম উচ্চারিত হয়ে আকাশ বাতাস মুখরিত হয়েছিল। বিভিন্ন পরিস্থিতির শিকার হয়ে যারা উক্ত অনুষ্ঠানে আসতে পারেননি তারা যেন আগামী অনুষ্ঠান বাদ না দেন সেজন্য সকলের দৃষ্টি আকর্ষন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে আল আজহার টিউটোরিয়ালের বিভিন্ন প্রোগ্রামে ছাত্র ভর্তির জন্যও আহবান করা হয়েছে। মোহাম্মদী সেন্টারের নতুন স্থানে ৩৭-৩১ ৭৬ স্ট্রীটে ওয়াকতী নামাজ এবং সামারে ৩:৩০ টায় লেইট জুমুআয় শরীক হবার জন্য সকলকে অনুরোধ করা হয়েছে। অনুষ্ঠানটি স্পন্সরে ছিলেন সুখী নিউইয়র্ক। ইমাম কাজী কায়্যুম এমনি একটি মহান কাজ ও প্রস্তাবকে সমর্থন করতে আসা সকল প্রবাসী ভাইবান ও নতুন প্রজন্মকে মোবারকবাদ দিয়েছেন। তিনি বলেন, নবীজী সুদূর মদীনা থেকে এই মুহুর্তে তাঁর সম্মানে উৎসর্গিত এই মহান আয়োজনকে অবলোকন করছেন এবং পরকালে আমাদেরকে শাফায়েতের জন্য বেছে বেছে নিচ্ছেন। অনুষ্ঠানটি বাংলাদেশী, পাকিস্তানী, ভারতীয় ও আমেরিকান মিডিয়া কাভারেজ করেছেন।-প্রেসবিজ্ঞপ্তি

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: